নোমান্সল্যান্ড এলাকায় দুই বাংলার হাজার মানুষ মিলেমিশে একাকার

20

bangla Vashaআন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে দুই বাংলার হাজার হাজার ভাষাপ্রেমী মানুষ যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল বেনাপোল চেকপোস্ট নোমান্সল্যান্ড এলাকায়। ভৌগোলিক সীমারেখা ভুলে কেবলমাত্র ভাষার টানে আজ শুক্রবার সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া উপেক্ষা করে দলে দলে মানুষ সীমান্তের এপার-ওপারে দু’দেশের সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত ভাষা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধায় মাথানত করতে বাংলাদেশের বাঙালিদের সঙ্গে মিলিত হয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিরাও। সীমান্তের নোম্যান্স ল্যান্ডে অস্থায়ী শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান দুই বাংলার মানুষ, রাজনৈতিক দল এবং সরকারের প্রতিনিধিরাও।

নোমান্স ল্যান্ডে অস্থায়ী শহীদ বেদিতে সকাল ৯টায় প্রথম ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতি প্রিয় মল্লিক, পশ্চিম বঙ্গের বনগাঁও অঞ্চলের বিধায়ক বিশ্বজিত্ দাস, বনগাঁও পৌর সভার মেয়র জোত্সনা আড্র, উওর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সভাপতি রহিমা মন্ডল, ও ভাইস চেয়ারম্যান গোপাল ব্যানার্জি।

বাংলাদেশের বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন, যশোরের জেলা প্রশাসক মোসতাফিজুর রহমান পুলিশ সুপার জয়দেব ভদ্র, ২৬ বিজিবির কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল মতিউর রহমান। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরিফুল আলম, উভয় দেশের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক সংগঠনগুলো শতস্ফূর্তভাবে অংশ নেয় এ অনুষ্ঠানে।

তারা একই মঞ্চে গাইলেন ভাষা শহীদদের স্মরণে বাংলার জয়গান। নেতারা হাতে হাত রেখে ঊর্ধ্বে তুলে ধরলেন বাংলাকে। মহান শহীদ দিবস উপলক্ষে বেনাপোল চেকপোস্ট নোম্যান্স ল্যান্ডে এভাবেই কাটালেন দুই বাংলার ‘বাংলা ভাষাভাষী’ মানুষ। একই আকাশ-একই বাতাস, দুই বাংলার মানুষের ভাষা এক। “আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলি বলে বাংলাদেশের মানুষের জন্য আমাদের প্রাণ কাঁদে। তাই তো বারবার ছুটে আসি দুই দেশের বাঙালি বাংলাভাষী মানুষের পাশে।”

নানা রঙের ফেস্টুন, ব্যানার, প্লেকার্ড আর ফুল দিয়ে বর্ণিল সাজে সাজানো হয় নোম্যান্স ল্যান্ড এলাকা। দুই বাংলার মানুষের এ মিলনমেলায় উভয় দেশের সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে উত্সাহের সৃষ্টি হয়। ফুলের মালা ও জাতীয় পতাকা বিনিময় করে উভয় দেশের আবেগপ্রবণ অনেক মানুষ।

বেনাপোল – পেট্রাপোল চেকপোস্টে ঢল নামে হাজার হাজার মানুষের। ক্ষণিকের জন্য হলেও স্তব্ধ হয়ে যায় আন্তর্জাতিক সীমারেখা। ভারত থেকে আসা হাজার হাজার বাংলাভাষী মানুষ বাংলাদেশিদের ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে ও মিষ্টি দিয়ে বরণ করে নেয় একে অপরকে।

ভাষা দিবসের মিলনমেলায় বিজিবি বিএসএফকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। এরপর দু’দেশের জাতীয় পতাকা উড়িয়ে হাজার হাজার ভাষাপ্রেমী মানুষ দিবসটি উদযাপন করে যৌথভাবে। এ সময় ভাষার টানে বাঙালির বাঁধনহারা আবেগের কাছে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় দুই বাংলার মানুষ। এর মধ্যদিয়ে বোঝা গেল রফিক, শফিক, বরকত ও সালামের তরতাজা রক্ত বৃথা যায়নি। ভাষার আকর্ষণ ও বাঙালির নাড়ির টান যে কতটা আন্তরিক ও প্রীতিময় হতে পারে তাও বুঝিয়ে দিল মহান একুশে ফেব্রুয়ারি।

সমগ্র অনুষ্ঠানে নেয়া হয় নজিরবিহীন নিরাপত্তা। কড়াকড়ি আরোপ করা হয় দুই সীমান্তে। বেনাপোল পেট্রাপোল চেকপোস্টে যাতে কেউ প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য বিজিবি ও বিএসএফ অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয় দুই সীমান্তে। সীমান্ত টপকে যাতে কেউ অবৈধভাবে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য বিজিবি ও বিএসএফ কাঁটাতারের বেষ্টনী দিয়ে কঠোর নিরাপওা ব্যবস্থা গড়ে তুলে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here