নেপালকে হারিয়ে সুপার টেনের পথে বাংলাদেশ

13

cricketদিনের উত্তাপ বলছে, গ্রীষ্ম চলে এসেছে। কিন্তু সাগড়পাড়ের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম যেন তা বিশ্বাস করতে রাজী নয়। সন্ধা হতেই ফ্লাড লাইটের নিচে পুরু হয়ে গেল শিশিরের আস্তর। মায়াবী আলোর সঙ্গে কুয়াশা মিলে মাঠের এ পার থেকে ওপার দেখা কঠিন। সবমিলে এ যেন এক অচেনা জগত্!

এই অচেনা জগতেই চেনা উত্সব করলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। নেপালের অপ্রত্যাশিত প্রতিরোধ, শঙ্কা সব উড়িয়ে দিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে গতকাল চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে তুলে নিলো বাংলাদেশ ৮ উইকেটের জয়।

এই জয়ের ফলে বাংলাদেশের সুপার টেনে খেলাটা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। কিছু কাগুজে সমীকরণ এখনও আছে বাংলাদেশের বিপক্ষে। কিন্তু কার্যত টানা দুই ম্যাচ জিতে ৪ পয়েন্টের মালিক বাংলাদেশকে আটকানো এখন প্রায় অসম্ভব। আগে ব্যাট করে বাংলাদেশকে চমকে দিয়েই ২০ ওভারে মাত্র ৫ উইকেট হারিয়ে ১২৬ রান তুলেছিল নেপাল। নেপালের জন্য এই রানটা অনেক বড় হলেও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির তুলনায় নয়। সেটাই প্রমাণ করে দিলেন এনামুল হক বিজয়রা।

এই রান পাড়ি দিতে ঠিক যেমন দরকার, তেমনভাবেই শুরুটা এনে দিলেন তামিম ইকবাল ও বিজয়। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশকে ভালো শুরু এনে দিলেন দুই ওপেনার। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৪৫ রানের পর গতকাল প্রথম জুটিতে এলো ৬৩ রান। এই জুটি করার পথে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ নিজেদের সর্বোচ্চ উদ্বোধনী রানের জুটিও করে ফেললো। এই জুটি ভাংলো শেষ পর্যন্ত মাত্র ২২ বলে ২টি চার ও ১টি ছক্কায় সাজানো ৩০ রানের ইনিংস খেলা তামিম ইকবালের বিদায়ে।

এরপরও চলেছে বিজয়ের ব্যাট। কিন্তু হতাশাজনক এক রানআউটে ফিরে যেতে হল ৩৩ বলে ৫টি চার ও ২টি ছক্কায় সাজানো ৪২ রান করা বিজয়কে।

বাকীটা পথ পাড়ি দিতে অবশ্য বাংলাদেশকে আর কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি। বরং শেষ দিকে নেপালী বোলারদের নিয়ে ছেলেখেলাই করলেন ১৮ বলে ৩৭ রানে অপরাজিত থাকা সাকিব আল হাসান।

স্পিন আক্রমণ নির্ভর বাংলাদেশের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল শিশির। একেবারে ম্যাচের শুরু থেকেই ফ্লাড লাইটের নিচে যে তীব্র শিশির জমতে শুরু করলো, তাতে পেসারদেরও হাত থেকে বল ফসকে যাচ্ছিল। সেখানে স্পিনারদের বল দিতেই ভয় পাওয়ারই কথা।

অবশ্য তিন পেসার মাশরাফি, আল আমিন ও ফরহাদ রেজা শুরুটা ভালোই এনে দিলেন। মাশরাফির আটোসাটো বোলিংয়ের পাশাপাশি আল আমিনের এক ওভারে দুই উইকেট ও ফরহাদ রেজার এক আঘাত মিলিয়ে ৩৯ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারিয়ে ফেললো নেপাল।

কিন্তু এরপরই অধিনায়ক পরশ খাড়কা ও শরদ বিশাখর মিলে চতুর্থ উইকেটে নেপালের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৮৫ রান যোগ করে ফেললেন। ১২.৩ ওভার মেয়াদী এই জুটিতে রান উঠলো ৬.৮০ করে। নেপালের এই প্রবল প্রতিরোধ অনেককেই বিস্মিত করলো বৈকী!

এর মধ্যে মুশফিক একটি স্ট্যাম্পিংয়ের সুযোগ মিস করলেন, আরও দু একটি মিস ফিল্ডিং হলো। তারপরও বোলারদের চেষ্টার কমতি ছিল না। সাকিব ও রাজ্জাক; বিশ্বের অন্যতম সেরা দুই স্পিনার যখন কিছুই করতে পারছিলেন না, তখন অফস্পিনার নাসির পর্যন্ত পেস বোলিং শুরু করলেন।

শেষ পর্যন্ত খাড়কাকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন মাশরাফি। আর ইনিংসের শেষ বলে রানআউট হন শরদ। বিশেষ করে শেষ ওভারগুলোতে আল আমিন বেশ আটোসাটো বল করে নেপালকে শেষ পর্যন্ত আর ততোটা বিধ্বংসী হতে দিলেন না।

স্কোর:

নেপাল: ২০ ওভারে ১২৬/৫ (সুভাষ ৮, সাগর ১২, জ্ঞানেন্দ্র ১২, খাড়কা ৪১, শরদ ৪০, বিনোদ ০; মাশরাফি ১/২৩, আল আমিন ২/১৭, ফরহাদ ১/২৭, সাকিব ০/২২, নাসির ০/২২, রাজ্জাক ০/১২)

বাংলাদেশ: ১৫.৩ ওভারে ১৩২/২ (তামিম ৩০, বিজয় ৪২, সাব্বির ২১, সাকিব ৩৭; সোমপাল ০/২১, খাড়কা ০/২৩, শক্তি ০/৪০, জিতেন্দ্র ০/১৬, বসন্ত ১/১৪. সাগর ০/১৬)

ফল: বাংলাদেশ ৮ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: আল আমিন

জেপি’র অভিনন্দন

নেপালের বিপক্ষে জয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছে জাতীয় পার্টি (জেপি)। গতকাল দলের চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং পার্টির মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম এক বিবৃতিতে এই অভিনন্দন জানান।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আগামী খেলাগুলোতে বাংলাদেশ দলের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন। নেতৃবৃন্দ আগামী খেলাগুলোতে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা ধৈর্য্যসহকারে খেলে আরো জয় ছিনিয়ে আনবে বলেও প্রত্যাশা করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here