নূর হোসেন এলাকায় না থাকলেও চাঁদাবাজি চলছে

17

তার ক্যাডার বাহিনী আগের মতই বেপরোয়া

আবুল খায়ের

 

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম এবং আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন হত্যাকাণ্ডের পর প্রধান আসামি নূর হোসেনের সন্ত্রাসী ও কিলার বাহিনী পরিবহন সেক্টরে চাঁদা আদায় অব্যাহত রেখেছে। নজরুলসহ সাতজনকে প্রকাশ্যে দিবালোকে অপহরণ করে হত্যাশেষে লাশ নদীতে ফেলে দেয়া হয়। ৩০ এপ্রিল সাতটি লাশ শীতলক্ষ্যা নদী থেকে উদ্ধারের পর শুরু হয় নারায়ণগঞ্জ জুড়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তত্পরতা। পুরো জেলা পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নেটওয়ার্কের আওতায় চলে আসে।

নূর হোসেন আত্মগোপনে থাকলেও তার ক্যাডার বাহিনী এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে। এ নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জবাসী বলেন, স্মরণকালের বর্বরোচিত ও লোমহর্ষক সাতটি হত্যাকাণ্ডে নারায়ণগঞ্জসহ পুরো দেশবাসী বিক্ষুব্ধ এবং মর্মাহত। প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে নূর হোসেন এবং তাদের সহযোগীদের গ্রেফতারে তত্পরতা চলছে। শীর্ষ পর্যায় থেকে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। এরইমধ্যে নূর হোসেনের ক্যাডার বাহিনীর প্রকাশ্যে পরিবহন থেকে চাঁদাবাজি করার ঘটনা নিয়ে সকলকে ভাবিয়ে তুলেছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, নূর হোসেনের কোটি কোটি টাকার চাঁদার ভাগ দৈনিক স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের এক শ্রেণির কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, এক শ্রেণির সাংবাদিক ও বিভিন্ন পেশার লোক পেয়ে আসছিল এ ঘটনার মধ্য দিয়ে তা প্রমাণিত হয়েছে।

দুইজন বাস চালক ও তিনজন ট্রাক চালক বলেন, আন্তঃজেলা ট্রাক চালক ইউনিয়নের সভাপতি নূর হোসেন ও গ্রেফতারকৃত রফিকুল ইসলাম এর যুগ্ম সম্পাদক। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় রতনকে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে পুলিশ গ্রেফতার করে। রতন পরিবহন সেক্টরের চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করতো। নূর হোসেন পলাতক থাকায় চাঁদার রেট কমিয়ে দেয় তার ক্যাডার বাহিনীরা। আগে প্রতি ট্রাক ও বাস থেকে দৈনিক ৩শ টাকা আদায় করতো। নূর হোসেন পলাতক থাকার পর দিন থেকে অর্থাত্ ২ মে থেকে প্রতি বাস ও ট্রাক ২শ টাকা করে চাঁদা নির্ধারণ করেছে ক্যাডার বাহিনী। এই রেটেই তারা নিয়মিত চাঁদা আদায় করে আসছে। রতন ছাড়াও সেলিম, রেজা, মনির, রাজীব, ইউসুফ ও সোহাগের নেতৃত্বে ক্যাডার বাহিনী প্রতিদিন নির্ধারিত হারে চাঁদা আদায় করে আসছিল বলে চালকরা জানান।

পরিবহন শ্রমিকরা জানান, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন থেকে কর্মকর্তাদের বদলি করা হলেও চাঁদাবাজি বন্ধ হয় না। চাঁদার ভাগ প্রতিদিন ঐ সব পুলিশ কর্মকর্তা কিংবা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর স্থলাভিষিক্ত কর্মকর্তাদের দিতে হয়। এটা রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। পৃথিবী যত দিন থাকবে ঐ চাঁদার ভাগ আপনা-আপনি ঐ সব পুলিশ কর্মকর্তাদের পকেটে যাবেই বলে পরিবহন শ্রমিকরা জানান।

নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন বলেন, নূর হোসেনের ক্যাডার বাহিনী ও চাঁদা আদায়কারীদের গ্রেফতারে তত্পরতা চলছে। গতকাল সন্ধ্যায় পরিবহন সেক্টরের নূর হোসেনের অন্যতম সহযোগী রতনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here