নির্বাচন বয়কট না করতে খালেদাকে ইইউর অনুরোধ

14

527b9ed66c031-index

নির্বাচন বর্জন না করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে অনুরোধ জানিয়েছে। পাশাপাশি সংলাপের মাধ্যমে চলমান সংকট নিরসনের তাগিদ দিয়েছে ইইউ।

তবে নির্বাচন বর্জনের বিষয়ে ইইউর এ অবস্থানের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তাঁর মতে, যে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না, তাতে যোগ দিয়ে লাভ কী!

আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিরোধীদলীয় নেত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর ঢাকায় নিযুক্ত ইইউর রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম আনা ও বিএনপির ভাইস চেয়ারপারসন শমসের মবিন চৌধুরী সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

উইলিয়াম আনার নেতৃত্বে ইইউর আট সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বিএনপির চেয়ারপারসনের সঙ্গে তাঁর গুলশানের কার্যালয়ে দেখা করেন। বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন ও জার্মানির রাষ্ট্রদূত আলব্রেখট কনজে।

প্রায় ৪৫ মিনিটের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন ইইউর রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম আনা। তিনি বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে বৈঠকে যে বিষয়গুলো উপস্থাপন করা হয়েছে, সে সম্পর্কে একটি বিবৃতি পড়ছি।’ তবে বৈঠক সম্পর্কে কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে তিনি অপারগতা জানান।

লিখিত বিবৃতিতে উইলিয়াম আনা বলেন, ‘আগামী কয়েক সপ্তাহ বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য ক্রান্তিকাল। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে সমর্থন জুগিয়ে আসছে ইইউ। আর এ বিষয়টি বাংলাদেশের সঙ্গে ইইউর সম্পর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আমরা আজ বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে দেখা করেছি। এরপর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার আশা করছি।’

ইইউর রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বৈঠকে তিনটি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। প্রথমত, আমরা চলমান সংকটের রাজনৈতিক সমাধান চাই। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘাত অব্যাহত থাকায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তাই অবিলম্বে সংলাপ শুরুর জন্য আমরা প্রধান দুই দলকে সংলাপে বসার ফের আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা সব ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতার বিপক্ষে। সংখ্যালঘুদের ওপর নতুন করে হামলা হওয়ায় আমরা উদ্বিগ্ন। আমরা এ ধরনের সব হামলার নিন্দা জানাই।’

উইলিয়াম আনা লিখিত বিবৃতিতে বলেন, ‘ইইউ সব দলের অংশগ্রহণে একটি স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়। অবাধ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে আমরা দুই দলের মাঝে আস্থা গড়ে তুলতে উত্সাহ জোগাই। নির্বাচন কমিশনকে কারিগরি দিক থেকে সহযোগিতা দান অব্যাহত রাখব। আমরা নির্বাচনী পর্যবেক্ষক পাঠাতে তৈরি আছি। আমরা আশা করি, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এমন একটি টেকসই ফলাফল আসবে, যা প্রধান রাজনৈতিক শক্তির কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।’

নির্বাচন বর্জন প্রসঙ্গে ইইউর রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘নির্বাচন বর্জন ও জনজীবন ব্যাহত করার প্রক্রিয়া বন্ধের তাগিদ দিয়েছি। আমরা বিরোধী দলকে সংলাপে উত্সাহ জুগিয়েছি। সেই সঙ্গে নির্বাচন বর্জনের চাপ না বাড়াতে বলেছি। আমরা বিএনপি ও তার শরিকদের সব ধরনের সহিংসতার নিন্দা জানাতে বলেছি। আর নির্বাচনের সময় ও নির্বাচনের পর সহিংসতায় জড়িত হওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছি। বিরোধী দলকে পুনরায় হরতাল আহ্বান না করার অনুরোধ জানিয়েছি। কারণ, হরতালে অর্থনীতি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন পর্যুদস্ত হয়।’

ইইউর প্রস্তাবে খালেদা জিয়ার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন সংলাপের জন্য যে তৈরি রয়েছেন, সেটি তাদের জানিয়েছেন।

নির্বাচন বর্জনের ব্যাপারে বিএনপির চেয়ারপারসনের অবস্থান কী, জানতে চাইলে খালেদা জিয়াকে উদ্ধৃত করে শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, যে নির্বাচন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য না হয়, সবার আস্থা না থাকে, সে নির্বাচনে গিয়ে লাভ কী!

ফের হরতাল না দেওয়া প্রসঙ্গে ইইউর অনুরোধে খালেদা জিয়া জানিয়েছেন, জনগণের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার আদায়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here