নির্বাচন বন্ধ করতে অনেক ষড়যন্ত্র চলছে: রাজধানীতে পৃথক তিনটি জনসভায় প্রধানমন্ত্রী

9

pm1আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নির্বাচন বন্ধ করতে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত চলছে। এ ব্যাপারে দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, গণতন্ত্র রক্ষায় পাঁচ জানুয়ারি নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচনে কেউ বাধা দিতে এলে তাদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলে উপযুক্ত শিক্ষা দিয়ে দেবেন।

গতকাল বুধবার রাজধানীতে তিনটি নির্বাচনী জনসভায় বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা-১৪ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কামাল আহমেদ মজুমদারের সমর্থনে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরের আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ময়দান, ঢাকা-১৬ আসনের প্রার্থী ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ’র সমর্থনে পল্লবীর হারুন মোল্লা ঈদগাঁও খেলার মাঠ এবং ঢাকা-১৮ আসনের প্রার্থী সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের সমর্থনে উত্তরার আজমপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন রবীন্দ্র সরণীতে এই জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রত্যেক জনসভায় ছিল ব্যাপক জনস্রোত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী নির্বাচন সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার নির্বাচন। আর তাই ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে। আওয়ামী লীগ কোন বাধার মুখে নতি স্বীকার করে না। আন্দোলন করে বিএনপি ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না। তিনি বলেন, যারা ২০০৭ সালে দেশে ওয়ান ইলেভেন সৃষ্টি করে কিংস পার্টি তৈরি করেছিল তারা এখনো সক্রিয় রয়েছে। এরা কষ্টার্জিত গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে চায়। কারণ দেশে গণতন্ত্র না থাকলে কিংবা অসাংবিধানিক সরকার ক্ষমতায় আসলে তাদের মূল্য বাড়ে। তাই তারা নিজেরা নিজেদের ‘বিশিষ্টজন’ হিসাবে ঘোষণা দিয়ে ষড়যন্ত্রে নেমেছে। এরা জনগণের কল্যাণ কোনদিনই চায় না। এদের ব্যাপারে দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে দেশ সেবার সুযোগ করে দেয়ার জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি তাঁর আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী আগামীতে ক্ষমতায় আসলে ঘরে ঘরে বিদ্যুত্ পৌঁছে দেয়া, ঢাকাকে আধুনিক নগরীতে পরিণত, ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমস্যার সমাধানের জন্য তাঁকে (খালেদা জিয়া) বহুবার সমঝোতায় বসার আহ্বান জানিয়েছি। কিন্তু উনি (খালেদা জিয়া) গণতন্ত্র চান না, গণতন্ত্রের লেশমাত্র বোঝেন না। শুধুমাত্র ঘুষ, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ আর মানুষ হত্যা বুঝেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবিধান অনুযায়ী গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে ৫ জানুয়ারি নির্বাচন করতেই হবে। গণতন্ত্রের জন্য এই নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়ার জন্য তরুণ ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসা মানেই উন্নয়ন, অগ্রগতি, শান্তি ও সমৃদ্ধি। আর বিএনপি মানেই সন্ত্রাস, দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ, হাওয়া ভবনের মাধ্যমে কমিশন খাওয়া, মানুষ খুন, দেশকে পাঁচবার দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১০ সাল থেকে আলোচনায় বসার জন্য আমি বিরোধী দলীয় নেত্রীকে বার বার আহ্বান জানিয়েছি। কিন্তু উনি আমার কোনো কথাই রাখেননি। আমি সমঝোতার কথা বললে উনি আল্টিমেটাম দেন, আমাকে দেশছাড়া করার হুমকি দেন। উনি সমঝোতা বা শান্তির পথে থাকতে চান না, যুদ্ধাপরাধী, সন্ত্রাসী, জঙ্গিদের নিয়ে চলতে চান। যারা আন্দোলনের নামে সহিংসতা সৃষ্টি করে মানুষ হত্যা করছে তাদের বিচার বাংলার মাটিতে হবে। আর খালেদা জিয়া হবেন হুকুমের আসামি।

দুই নেত্রীর ফোনালাপ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি তাঁকে টেলিফোন করলাম। বেলা একটা থেকে চেষ্টার পর সন্ধ্যা ছয়টায় উনি ফোন ধরলেন। প্রথমে আমি বললাম আপনি কেমন আছেন? ভদ্রতাস্বরূপ আমি কেমন আছি সেটা জানতে না চেয়েই উনি (খালেদা জিয়া) ঝগড়া ও ঝাড়ি মারা শুরু করলেন। আমি তো আর তাঁর সঙ্গে ঝগড়া করে পারবো না। তাই ধৈর্য ধরে সব শুনেছি। উনি যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে চান, যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দিচ্ছেন। কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকরের পর সারাদেশে উনি হাজার হাজার বৃক্ষ নিধন করেছেন, ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন। জনগণের ভাগ্যে নিয়ে এমন করে ছিনিমিনি খেলতে আমরা দিতে পারি না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে মানুষ কিছু পায়। ক্ষমতায় আসার পর ৫ বছরে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রায় এক কোটি বেকারের কর্মসংস্থান করেছি। ৭০ থেকে ৮০ ভাগ বেতন বৃদ্ধিসহ মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধি করেছি। গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন ১৬শ’ টাকা থেকে ৫ হাজার ৩০০ টাকায় উন্নীত করেছি। একসঙ্গে ২১৯ ভাগ বেতন বৃদ্ধির ইতিহাস বিশ্বের কোনো দেশে নেই। ৩২শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ থেকে মাত্র ৫ বছরে দেশ আজ ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদনের সক্ষমতা অর্জন করেছে। ৬৯টি নতুন বিদ্যুত্ কেন্দ্র আমরা স্থাপন করেছি।

দলীয় প্রতীক বিশাল বিশাল নৌকা নিয়ে আর কণ্ঠে ‘নৌকা’র শ্লোগানে প্রকম্পিত ছিল এই তিন নির্বাচনী এলাকা। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শেষ করে চলে যাওয়ার পর এই তিন নির্বাচনী এলাকাতেই নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে খণ্ড খণ্ড নির্বাচনী মিছিলে মুখরিত হয়ে ওঠে অলি-গলি, সড়ক-মহাসড়ক। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী জোয়ারে বিএনপি-জামায়াত জোটের টানা অবরোধ ছিটে-ফোঁটাও প্রভাব ফেলতে পারেনি। অবরোধকারীদের রাজধানীর কোথাও দেখা না মিললেও ঢাকার নির্বাচনী এলাকাগুলোতে হাজার হাজার নৌকা প্রতীক নিয়ে মিছিল-শ্লোগানে বুধবার মহানগরীর পরিবেশই পাল্টে গিয়েছিল।

তিনটি নির্বাচনী জনসভায় আওয়ামী লীগের তিন প্রার্থী ছাড়াও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, এম এ আজিজ, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, এস এম কামাল হোসেন, এনামুল হক শামিম, ঢাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত সংসদ সদস্য আসলামুল হক আসলাম, আশরাফুন্নেসা মোশাররফ, নাজমা আখতার এমপি, অপু উকিল এমপিসহ স্থানীয় নেতারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here