নির্বাচনের পথে এরশাদ!

13

image_85102বিএনপি না গেলে আমরাও নির্বাচনে যাবো না’- জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ প্রায় প্রতিদিনই এমন কথা বললেও তার দলেরই গুরুত্বপূর্ণ নেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের দেয়া তথ্য বলছে- এরশাদ কার্যত নির্বাচনের পথেই হাঁটছেন। তাকে ঘিরে রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন তত্পরতা। এছাড়া বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের বেশ কয়েকটি শরিকও অন্যত্র যোগাযোগ রাখছেন, কারও কারও সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকেও নানা মাধ্যমে যোগাযোগ করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বিরোধী দলের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সামগ্রিক রাজনীতিতে পর্দার অন্তরালে চলছে নানা তত্পরতা।

এরশাদ দু’দিন আগে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাত্কারে বলেছেন ‘প্রয়োজনে জেলে যাবো, তবু কোনো পাতানো নির্বাচনে যাবো না, গেলে মানুষ আমাকে থুথু দেবে।’ গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি বলছেন ‘আর কোনো জোট নয়, জাপা এককভাবেই নির্বাচন করবে’। সেই এরশাদ গতকাল বৃহস্পতিবার বলেছেন, ‘শিগগিরই আমরা নতুন জোটের ঘোষণা দেব। অশুভ চক্র ভেঙ্গে জাপা নির্বাচনে জয়লাভ করবে। আমাদের জোট জয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে।’

জাপার প্রেসিডিয়ামের একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এরশাদের নতুন জোট গঠনের তত্পরতাও নির্বাচনের পথে হাঁটারই অংশ। বিএনপি নির্বাচনে না গেলে জাপার ভূমিকা ও কৌশল কী হবে, তা নিয়েও সরকারের সঙ্গে তার এরই মধ্যে পরামর্শ হয়েছে। বিএনপি থেকে নেতাদের জাপায় যোগদান করিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করানোরও চেষ্টা রয়েছে এরশাদের পরিকল্পনায়। এরশাদের জোট গঠনের এই নতুন তত্পরতা ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা না করার বিষয়ে জাপার প্রভাবশালী একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য গতকাল ইত্তেফাককে বলেন ‘আসলে আমরাও বুঝতে পারছি না তিনি ঠিক কী করবেন। বাইরে বলছেন-বিএনপিসহ সব দল না গেলে তিনিও নির্বাচনে যাবেন না, আবার আমাদের সঙ্গে আলোচনায় নির্বাচনে যাওয়ার লক্ষ্যে নানা পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলছেন। কাজেই পুরো বিষয়টি এক ধরনের ধাঁধা।’

এদিকে, বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দল শরিকদের শীর্ষ নেতারা বাইরে অভিন্ন কণ্ঠে বলছেন, ‘নির্দলীয় সরকার ছাড়া আমরা নির্বাচনে যাব না’। কিন্তু কয়েকটি শরিক দলের শীর্ষ নেতারা গত কয়েকদিন ধরে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। আবার সরকারও দলীয় নেতাসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ১৮ দলের কয়েকটি শরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বুধবার রাতে বৈঠক করেছেন ১৮ দলের অন্যতম শরিক এলডিপি সভাপতি কর্নেল অলি আহমদের (অব.) সঙ্গে। মহাখালীর নিউ ডিওএইচএস- এ অলির বাসায় এই বৈঠক হয়।

জানা গেছে, শুধু বুধবার নয়, এনিয়ে তিন দফায় অলি আহমদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি। বিএনপির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ‘যদি দেখি অলি আহমদ এ সরকারের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন তাহলেও অবাক হবো না।’

নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন রয়েছে, বিএনপি ছাড়া ১৮ দলের এমন পাঁচটি শরিক দলের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের সবার সঙ্গেই সরকারের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে জাতীয় পার্টি (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ ইত্তেফাককে বলেন ‘আমার সঙ্গে কারও যোগাযোগ হয়নি’।

অন্যদিকে, অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্পধারা, আ.স.ম রবের জেএসডি, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও ড. কামাল হোসেনের গণফোরামসহ কয়েকটি দলও নিজ নিজ হিসাব কষছে। এ দলগুলোর সূত্রে বলছে- আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় থাকতে কিংবা বিএনপিকে ক্ষমতায় নিতে সহযোগিতা করা তাদের লক্ষ্য নয়। তাদেরও লক্ষ্য নিজেরা ক্ষমতাসীন হওয়া। সেই পথের সন্ধান-ই করছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির জোটের বাইরে থাকা উল্লেখযোগ্য এসব দল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here