নির্বাচনী সরকারে যোগ দেবে বিএনপি, যদি…

14

বেশ কয়েকটি শর্ত পূরণ সাপেক্ষে নির্বাচনকালীন সরকারে যোগ দিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। তবে শর্তগুলো পূরণ হওয়া বেশ কঠিন বলেও তারা মনে করছে।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সূত্র প্রথম আলো ডটকমকে জানায়, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি থেকে কিছুটা ছাড় দিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে চায় বিএনপি। তবে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে, এমন নিশ্চয়তা তারা চায়। এজন্য বেশ কয়েকটি শর্ত পূরণ হতে হবে। সে শর্তগুলো হলো—সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে শেখ হাসিনাকে সরে যেতে হবে। সংসদ ভেঙে দিয়ে এর পরবর্তী ৯০ দিনে নির্বাচন করতে হবে। বর্তমান নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে। প্রশাসন এখন যেভাবে ‘সাজানো’ আছে, বিশেষ করে ডিসি, এসপিদের রদবদল করতে হবে।
এজন্য বিএনপি প্রধান দুই দলের মধ্যে একটি কার্যকর সংলাপ চায়।

দলীয় সূত্র জানায়, এসব বিষয়ে দুই দল একমত হলে বিএনপি নির্বাচনকালীন সরকারে যোগ দেবে।
গতকাল সোমবার বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।
তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, এসব শর্ত পূরণ হবে বলে তাঁরা মনে করেন না। কারণ তাঁদের ধারণা, সরকার চাইছে বিএনপিকে বাইরে রেখে নির্বাচন করতে।

আজ সন্ধ্যায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ১৮ দলের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাত্ করবে। দলীয় সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতির কাছে বিএনপি সংকট নিরসনে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানাবে। রাষ্ট্রপতি যদি দুদলের মধ্যে সংলাপের বিষয়ে উদ্যোগ নেন, তা হলে বিএনপি এসব বিষয় নিয়ে দরকষাকষি করবে।

রাষ্ট্রপতি কী উদ্যোগ নেন, তা দেখার জন্য বিএনপি দিন দুয়েক অপেক্ষা করবে। ইতিবাচক কোনো সাড়া না পেলে আবারও আন্দোলনের রাস্তায় হাঁটবে প্রধান বিরোধী দল।
২০১১ সালে আদালতের এক রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার-ব্যবস্থা বাতিল করে মহাজোট সরকার। ওই ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট। অন্যদিকে সরকার সংবিধানের মধ্যে থেকেই নির্বাচন করতে অনড়। এরই অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে সরকার নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যাকে সরকার বলছে ‘সর্বদলীয় সরকার’।
তবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এটিকে তামাশা ও প্রহসন এবং মহাজোট সরকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। গতকাল সোমবার আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও ওয়ার্কার্স পার্টির আটজন নতুন করে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এর পরপরই বিএনপির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি চাওয়া হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here