নিরাপত্তারক্ষীদের পিটুনিতে এক ছাত্রের আহতের জের ধরে বসুন্ধরায় তুলকালাম কান্ড। নর্থ সাউথ শিক্ষার্থীকে মারধরের জের *আজকের ক্লাস স্থগিত।

44

জনতার নিউজ

বসুন্ধরায় তুলকালাম

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার নিরাপত্তারক্ষীদের পিটুনিতে এক ছাত্রের আহত হওয়ার জের ধরে প্রগতি সরণিতে অবরোধসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও ভাংচুর করেছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা। বুধবার রাত ১১ টায় নিরাপত্তারক্ষীদের মারধরে আহত নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ’র ৬ষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার হাসনাত তপুকে এ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় রাতে এক দফা বিক্ষোভের পর গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন ফেসবুকে। সকালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন কর্মসূচিতে বাধা দিলে অবরোধ, বিক্ষোভ ও ভাংচুরের ঘটনা আশেপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, বসুন্ধরা গ্রুপ এবং পুলিশের মধ্যে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক শেষে এ ঘটনায় বসুন্ধরা গ্রুপ দুঃখ প্রকাশ করে। শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়। পরে আজ শুক্রবার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়। শনিবার থেকে ক্লাস ও পরীক্ষা চলবে।

আহত শিক্ষার্থীর সহপাঠী কামরুল জানান, বুধবার রাত ১০টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার অ্যাপোলো গেটে মোটরসাইকেল রাখাকে কেন্দ্র করে আবাসিক এলাকার নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন ছাত্রের কথা কাটাকাটি হয়। এর এক পর্যায়ে নিরাপত্তারক্ষীরা তাদের ওপরে হামলা করে। এ খবর শুনে আরও ১০/১৫ জন ছাত্র সেখানে গেলে তারাও মারধরের শিকার হন। এরপর রাত থেকেই বিক্ষোভ শুরু করেন নর্থ সাউথের শিক্ষার্থীরা। আহত তপুকে এ্যাপলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মানববন্ধন করার ঘোষণা দেন। কিন্তু সকালে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন করতে দেওয়া হয়নি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার প্রধান কার্যালয়ের ‘বসুন্ধরা হাউজিং’ ভবনে হামলা করে কাঁচের দরজা, জানালা ও দুটো জেনারেটর ভাঙচুর করেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া ওই এলাকার সব চেকপোস্টে আগুন ধরানোর চেষ্টা করেন। তারা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ভিতরে বিভিন্ন রাস্তায় কাগজ জড়ো করে আগুন ধরিয়ে দিয়ে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন।

এসময় পুলিশ কয়েক দফা ধাওয়া দেয়। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তারা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন স্টপ ইট অ্যান্ড শেয়ার কাবাবের দোকান ভাঙচুর করেন। সকাল ১১ টার দিকে শিক্ষার্থীরা একটি মিছিল নিয়ে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে বের হয়ে প্রগতি সরণিতে অবরোধ করেন। এতে দুই দিকে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

শিক্ষার্থীরা সেখানে সমাবেশ করেন। সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার নিরাপত্তা প্রহরিদের শাস্তির দাবি করেন। বেলা ১২ টার দিকে ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সৈয়দ কামরুল ইসলাম ও পুলিশের একটি টিম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করলে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়। সেখান থেকে ৫ জন শিক্ষার্থীকে ডেকে নেওয়া হয় ছাত্র প্রতিনিধি হিসাবে।

পুলিশের গুলশান জোনের সহকারী কমিশনার মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চলে গেছেন।’

দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বসুন্ধরা গ্রুপ কর্তৃপক্ষ বুধবারের ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে। বৈঠক শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বসুন্ধরা গ্রুপ কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের বেশ কয়েকটি দাবি মেনে  নিয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- এ ঘটনায় জড়িত নিরাপত্তাকর্মীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ, আহত শিক্ষার্থীকে মেডিক্যাল ও অন্যান্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া, শিক্ষার্থীদের যথাযথ সম্মান দিতে নিরাপত্তাকর্মীদের অবহিত করা এবং বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার প্রধান ফটক প্রাথমিকভাবে রাত ৮টা ও পরবর্তীতে ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here