নানা বঙ্গবন্ধু আমার রাজনীতিতে আসার বড় কারণ

15

tulipব্রিটিশ এমপি প্রার্থী টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকির (৩১) নির্বাচনী তহবিল জোগাতে এক ডিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। ২০১৫ সালের ৭ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট নির্বাচনে লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসন থেকে লেবার পার্টির হয়ে লড়বেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ সন্ধ্যায় পূর্ব লন্ডনের ইম্প্রেশন ইভেন্ট ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত এই ডিনারে মা শেখ রেহানা, বোন রুপন্তি, স্বামী ক্রিস এবং তার শ্বশুর-শাশুড়িসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক অতিথি উপস্থিত ছিলেন।

শফিক সিদ্দিক ও শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ বর্তমানে লন্ডনের ক্যামডেন কাউন্সিলের কালচার অ্যান্ড কমিউনিটি-বিষয়ক কেবিনেট মেম্বার হিসেবে কাজ করছেন। হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসনে বর্তমান এমপি লেবার পার্টির গ্লেনডা জ্যাকসন বার্ধক্যজনিত কারণে আগামী নির্বাচনে প্রার্থী না হওয়ার ঘোষণা দেয়ায় দলটি এ আসনে নতুন প্রার্থী মনোনয়ন দেয়। মনোনয়ন প্রতিযোগিতায় টিউলিপ তার প্রতিদ্বন্দ্বী সহকর্মী স্যালি গিমসন (৪৮) এবং হ্যাকনি কাউন্সিলের কাউন্সিলর সোফি লিনডেনকে (৪৩) বিপুল ভোটে পরাজিত করে এমপি প্রার্থী নির্বাচিত হন। অস্কার জয়ী অভিনেত্রী গ্লেনডা জ্যাকসন আসনটিতে ১৯৯২ সাল থেকে টানা এমপি নির্বাচিত হন।

গত নির্বাচনে কনজারভেটিব প্রার্থী ক্রিস ফিলিপ এই আসনে মাত্র ৪২ ভোটে লেবার প্রার্থীর কাছে হেরে যান। এবার টিউলিপ আসনটিতে কনজারবেটিভ দলের প্রার্থী স্থানীয় কাউন্সিলর সায়মন মার্কাসের সাথে লড়বেন।

লেবার দলের এমপি এবং শ্যাডো জাস্টিস সেক্রেটারি সাদিক খান, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একমাত্র ব্রিটিশ এমপি এবং শ্যাডো এডুকেশন মিনিস্টার রুশনারা আলী, নিউহ্যামের এমপি স্টিফেন টিমস, সাবেক অলিম্পিক মিনিস্টার ডেইম টেসা জাওয়াল, ডিয়ান এবোট এমপি এবং কিয়ার স্টারমার কিউসি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে টিউলিপের নির্বাচনী তহবিল গঠনে সবাইকে সহায়তার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর নাতনি টিউলিপ সবার সহযোগিতা কামনা করে বলেন, ‘গত বছরের ১৫ জুলাই প্রার্থী মনোনিত হওয়ার পর দিন সকাল ৯টা থেকেই প্রচারণায় নেমেছি। প্রতিদিন মানুষের দরজায় গিয়ে কড়া নাড়ছি, লিফলেট বিলি করছি। কিন্তু আমার আসল কাজ এখনো রয়ে গেছে। সে কাজটি হচ্ছে—নির্বাচনে হ্যাম্পটেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসনে লেবার দলকে জয়ী করা। এ জন্য আরো কঠোর পরিশ্রম দরকার।’ এ সময় তিনি তার নির্বাচনী অফিস গড়ে তোলা এবং প্রচারণার খরচ নির্বাহের জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

টিউলিপ বলেন, ‘অনেকে আমার রাজনীতি করার কারণ জানতে চান। তারা জিজ্ঞেস করেন—আমার রাজনীতির মূল্যবোধ কী। আমি বলতে চাই—আমার রাজনীতির একটাই কারণ, তা হলো আমার পরিবার। আমার নানা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের জাতির পিতা। আমার পরিবারের লোকেরা জনগণের সেবক। তারা সমাজে সমতা এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছেন। এটাই আমার রাজনীতিতে আসার বড় কারণ। এটাই আমার মূল্যবোধ, যা লেবার পার্টিরও মূল্যবোধ।’

টিউলিপ বলেন, ‘বর্তমান টোরি সরকারের বৈরী নীতির কারণে মানুষ কষ্টে আছে। এ থেকে রেহাই পেতে অবশ্যই লেবার সরকারকে ফিরিয়ে আনতে হবে।’

রুশনারা আলীকে ‘আপা’ সম্বোধন করে টিউলিপ বলেন, ‘রুশনারাই হচ্ছে তার রাজনীতির সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।’

এরপর রুশনারা টিউলিপের সাথে মঞ্চে যোগ দিয়ে বলেন, ‘আমি চাই পার্লামেন্টে ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি পাক। এ জন্য টিউলিপকে নির্বাচিত করা জরুরি।’

২০১৫ সালে যুক্তরাজ্যের পার্লমেন্ট নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিনজন এমপি পদের জন্য দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। এদের একজন বর্তমান এমপি রুশনারা আলী। তিনি ২০১০ সালে লেবার দলের পক্ষে লন্ডনের বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো আসন থেকে নির্বাচিত হন। এবারও তিনি একই আসন থেকে নির্বাচন করছেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কিংসটন ইউনিভার্সিটির প্রফেসার রূপা হক প্রার্থী হয়েছেন লন্ডনের ইলিং সেন্ট্রাল অ্যান্ড অ্যাকটন আসনে। টিউলিপ লড়ছেন হ্যাম্পটেড অ্যান্ড কিরবার্নে। এরা সবাই লেবার দলের প্রার্থী।

টিউলিপ ১৯৮২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর লন্ডনের মিচহ্যামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক এবং কিংস কলেজ থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১১ সালে তিনি পলিটিকস পলিসি অ্যান্ড গভার্নমেন্ট বিষয়ে দ্বিতীয় বার স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। এক দশক ধরে তিনি লেবার দলের রাজনীতির সাথে যুক্ত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here