নগর আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা মহিউদ্দিন চৌধুরী সভাপতি আ জ ম নাছির সাধারণ সম্পাদক

25

mohiuddin-chy-AZM-Nasir

দীর্ঘ সাত বছর পর মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে কেন্দ্র থেকে। কমিটিতে সভাপতি হিসেবে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী বহাল রয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক পদে এসেছে পরিবর্তন। আ জ ম নাছির উদ্দিনকে সাধারণ সম্পাদক করে ৭১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে । এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির উপ-দপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাশ বলেন, আজ (গতকাল) প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন। এতে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে সভাপতি ও আ জ ম নাছির উদ্দিনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য পদে কারা আছেন বলা যাবে না। ঘোষিত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আপনাদেরকে (সাংবাদিক) কমিটিতে আর কার কার নাম রয়েছে জানাবেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সভানেত্রী পূর্ণাঙ্গ কমিটিই অনুমোদন করেছেন।
পরবর্তীতে কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঠিক রেখে অন্যান্য পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব। এসব কথা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। অনুমোদিত কমিটিতে কোনো পরিবর্তন আনার সুযোগ নেই।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি বলেন, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বেশ কিছু নাম নির্ধারিত রাখা হয়েছিল আগে। কিন্তু রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ অন্যান্য কারণে এতোদিন প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়াও কিছুটা সময় নেওয়া হয়েছে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার জন্য। প্রধানমন্ত্রী আজ (গতকাল) পূর্ণাঙ্গ কমিটিই অনুমোদন করেছেন।
প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালের ২৭ জুন কাউন্সিলের মাধ্যমে নগর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কমিটি গঠিত হয়েছিল। কমিটিতে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে সভাপতি ও কাজী ইনামুল হক দানুকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছিল।
সমপ্রতি ইনামুল হক দানু মারা গেলে সাধারণ সম্পাদকের পদটি শূন্য হয়। এরপর থেকেই এ পদে কে আসছেন কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি নতুন করে গঠন করা হচ্ছে কি-না এ নিয়ে জল্পনা কল্পনা শুরু হয়।
মহিউদ্দিনসহ নগর আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা সম্মেলন ছাড়া এবং নির্বাচনের আগে কমিটি ঘোষণার বিপক্ষে অবস্থান নিলেও শেষ পর্যন্ত কেন্দ্র থেকে কমিটি ঘোষণা করায় সকল জল্পনা কল্পনার অবসান হয়।
নতুন কমিটিতে সভাপতি পদ পাওয়া এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের রাজনীতির অভিভাবক হিসেবে বিবেচনা করেন নেতাকর্মীরা। ষাটের দশকে ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে উঠে আসা মহিউদ্দিন শ্রমিক লীগ হয়ে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসেন।
১৯৯৪ সাল থেকে পরপর তিনবার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন মহিউদ্দিন। বিগত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে পরাজিত হলেও চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের রাজনীতি কার্যত তার নিয়ন্ত্রণেই আছে বলে মনে করেন চট্টগ্রামের মানুষ।
নতুন কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক পদ পাওয়া আ জ ম নাছির উদ্দিন পঁচাত্তর উত্তর আওয়ামী লীগের দু:সময়ে ছাত্রলীগের হাল ধরেছিলেন। সেসময় ছাত্রলীগকে সুসংগঠিত করার ক্ষেত্রে আ জ ম নাছিরের ভূমিকা ছিল।
সেসময়ে ছাত্রলীগের মাধ্যমে ও পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ-যুবলীগের রাজনীতিতে উঠে আসা নেতাকর্মীদের ওপর দৃশ্যত নিয়ন্ত্রণ আছে আ জ ম নাছিরের। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন কলেজভিত্তিক ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও তার অনুসারী।

অনুমোদিত কমিটির বিস্তারিত বিবরনঃ

কমিটির সভাপতি হয়েছেন এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছিরউদ্দিন।
কমিটির নয়জন সহসভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, নঈম উদ্দিন চৌধুরী, সুশীল কুমার সরকার, মোহাম্মদ আফসারুল আমীন (মন্ত্রী), সাংসদ নুরুল ইসলাম বিএসসি, ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী, খোরশেদ আলম, জহিরুল আলম দোভাষ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী।
তিনজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরী, বদিউল আলম এবং এম এ রশিদ। আইনবিষয়ক সম্পাদক ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, কৃষিবিষয়ক সম্পাদক আহমেদুর রহমান সিদ্দিকী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক চন্দন ধর, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন, দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ হাসান মাহমুদ শমসের, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক জহুর আহম্মেদ, প্রচার সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুক, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মশিউর রহমান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক মানস রক্ষিত, মহিলাবিষয়ক সম্পাদিকা জোবাইদা নার্গিস, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক দেবাশীষ গুহ, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক দিদারুল আলম চৌধুরী, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক জালাল উদ্দীন ইকবাল, শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক মাহাবুবুল হক মিঞা, শ্রম সম্পাদক আবুল আহাদ, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ আবু তাহের, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, শফিক আদনান ও চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী। উপদপ্তর সম্পাদক জহুর লাল হাজারী, উপপ্রচার সম্পাদক মো. শহিদুল আলম এবং কোষাধ্যক্ষ সিডিএর চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম।
৩৩ সদস্য হলেন: এস এ জাফর, মুহাম্মদ এয়াকুব, মোহাম্মদ শফি, আবুল মনসুর, মুহাম্মদ আফসার মিয়া, নুরুল আমিন, মোহাম্মদ ইউসুফ সর্দার, সৈয়দ আমিনুল হক, পেয়ার মোহাম্মদ, দোস্ত মোহাম্মদ, সাংসদ এম এ লতিফ, নুরুল আলম, মাহমুদুল হক মিয়া, গাজী শফিউল আজিম, শেখ জমির আহম্মদ, কামরুল হাসান, জালাল উদ্দিন ইকবাল, গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী, সাইফুদ্দীন খালেদ, নজরুল ইসলাম বাহাদুর, আহম্মদ ইলিয়াস, বিজয় কৃষ্ণ কিষাণ, জাফর আলম, গৌরাঙ্গ চন্দ্র ঘোষ, মহব্বত আলী, মুন্সী মিয়া, আবদুল লতিফ, মহিবুল ইসলাম চৌধুরী, মোহাম্মদ ইলিয়াছ, নিছাব উদ্দিন আহমেদ, মোহাম্মদ জাবেদ, বেলাল আহম্মদ ও মো. মোরশেদ আকতার চৌধুরী।
১৩ জন উপদেষ্টা হলেন, ইসহাক মিয়া, বেলায়েত হোসেন, সৈয়দুর রহমান, মুহাম্মদ কলিমুল্লাহ চৌধুরী, সুলতান আহমেদ, আলহাজ নুরুল হক, আলহাজ আহমেদুর রহমান সিদ্দিকী, আলহাজ নুরুল ইসলাম, আলহাজ শফিকুল ইসলাম, আলহাজ খন্দকার সিরাজুল আলম, মোহাম্মদ সফর আলী, শেখ মাহমুদ ইসহাক ও এম এনামুল হক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here