ধর্ষণ মামলা সাজাতে গিয়ে ধর্ষিতাই ধরা!

15

porokiyaসাবেক স্বামীর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে উচিত শিক্ষা দিতে চেয়েছিলেন এক তরুণী। তাই এক ছেলে বন্ধুর কাছে পরামর্শ চান তিনি। ‘মতলববাজ’ সেই বন্ধু তাকে পরামর্শ দেয়, স্বামীকে শিক্ষা দিতে হলে যৌন নির্যাতনের মামলা করতে হবে। এ জন্য আলামত তৈরি করতে হবে। ওই বন্ধুর পরামর্শে সেই তরুণী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে এক নাটকও সাজান। তবে নাটকের সেই দৃশ্যায়নে কোনো অভিনয় ছিল না; ছিল বাস্তব। কৌঁশলে বান্ধবীকে দিয়ে নিজের কামনা মেটায় লম্পট সেই বন্ধু। এরপর প্রতারক বন্ধুর পরামর্শেই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) এসে সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন ধর্ষিতা সেই তরুণী। তবে ওসিসির নারী চিকিৎসকদের জেরার মুখে সত্য প্রকাশ করে ফেঁসে গেছেন তিনি। তাকে পুলিশে সোপর্দ করার পর বেরিয়ে আসে ধর্ষণ মামলা সাজানোর সেই ঘটনা। পুলিশ মোহাম্মদ আলী (২৮) নামে অভিযুক্ত সেই বন্ধুকেও গ্রেপ্তার করেছে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার ঘটনাস্থল ছিল রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে।

ঘটনার ব্যাপারে ওসিসির সমন্বয়ক ডাক্তার বিলকিস বেগম জানান, গতকাল সকালে ২৫ বছর বয়সের ওই তরুণী ওসিসিতে এসে ভর্তি হন। তিনি জানান, কামরাঙ্গীরচরে তার বাসা। গ্রামের বাড়ি বরগুনায়। বাবার নাম সফেত গাজী। তরুণীর সাবেক স্বামী উজ্জল তাঁর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছে বলে অভিযোগ ছিল তাঁর। কথাবার্তায় সন্দেহ হওয়ায় ভুক্তভুগী তরুণীকে গভীরভাবে পরীক্ষা এবং জিজ্ঞাসাবাদ করেন ওসিসির কর্মীরা। এক পর্যায় সে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করে। তখন ওসিসির পুলিশ কামরাঙ্গীরচর থানার কাছে তাকে হস্তান্তর করে।

কামরাঙ্গীরচর থানার অফিসার ইনচার্য (ওসি) শেখ মহসিন কালের কণ্ঠকে বলেন, কলহের কারণে স্বামী উজ্জলের সঙ্গে তরুণীর বিচ্ছেদ হয়। এর জের ধরে স্বামীর ওপর প্রতিশোধ নিতে চাইছিলেন তিনি। ঘটনাচক্রে মোহাম্মদ আলী নামের ওই কথিত বন্ধু তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। এরপর মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ না করে উজ্জলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে। ওসি আরও বলেন, ধর্ষণের নাটকের নামে আলী তাকে (তরুণী) ধর্ষণ করেছে নাকি পরিকল্পিত ঘটনা তাও যাচাই করে দেখা হচ্ছে। কখন, কীভাবে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে- এ ব্যাপারে দুইজনকে ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নাশকতার আসামির পালানোর চেষ্টা : গতকাল সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের পঞ্চম তলার গ্রীন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন মুকুল (৩৫) নামে এক আসামী পালানোর চেষ্টা চালিয়েছে। হাসপাতাল ও কারা সূত্র জানায়, সাতক্ষীরায় বোমা হামলা চালাতে গিয়ে নিজেই বোমায় আহত হন মুকুল। গ্রেপ্তারের পর কেন্দ্রীয় কারাগারের অধীনে চার দিন ধরে তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গতকাল সকালে দুই কারারঙ্গীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বার্ন ইউনিটের ভবন থেকে বেরিয়ে যান তিনি। পরে জরুরি বিভাগের ফটক থেকে কারারঙ্গীরাই তাকে আবার আটক করে। এরপর তার পায়ে ডান্ডাবেরি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনা তদন্ত করে দুই কারারক্ষীর বিরুদ্ধে ব্যস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানা গেছে।

দুইজনের অস্বাভাবিক মৃত্যু : মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কমল কৃষ্ণ সাহা জানান, গতকাল সকালে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের ৫ নম্বর গলি এলাকার একটি বাসায় ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন মাহতাব (২২) নামের এক যুবক।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত পেৌণে ২টার দিকে রহিমা বেগম (৪৯) নামে এক হাজতী ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। চাঁদপুরে ২০০৫ সালে নিজের ভাতিজিকে হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন রহিমা। স্বজনরা জানান, তিনি মানসিক সমস্যাসহ নানা রোগে ভুগছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here