দ্রুত বিচার আইনের মেয়াদ আরো পাঁচ বছর বাড়লো

19

newবহুল আলোচিত-সমালোচিত দ্রুত বিচার আইনের মেয়াদ এই প্রথমবারের মতো একবারে পাঁচ বছর বাড়ানো হলো। ২০০২ সালে তত্কালীন বিএনপি সরকারের আমলে প্রণীত ‘আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুতবিচার)’ আইনটির মেয়াদ বিগত দুটি সরকারের আমলেই প্রত্যেকবার দুই বছরের জন্য বৃদ্ধি করা হয়েছিল। এবারই প্রথম একবারে পাঁচ বছর মেয়াদ বৃদ্ধি করে গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদে আইনটির সংশোধনী পাস হয়েছে। ফলে আইনটি ২০১৯ সালের ৭ এপ্রিল পর্যন্ত বলবত্ থাকবে। যদিও ২০০২ সালে আইনটি প্রণয়নের বিরোধিতা করে তত্কালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ এটিকে ‘কালো আইন’ বলে আখ্যায়িত করেছিল। পরবর্তীতে বিরোধী দলে যাওয়ার পর বিএনপিও এই আইনের সমালোচনা করে।

দ্রুতবিচার আইনের মেয়াদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুতবিচার) আইন’ ২০০২ সালের (২০০২ সালের ১১ নম্বর আইন)-ধারা ১ এর উপধারায় (২) এ সংশোধনী আনা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশ আকারে ‘আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুতবিচার) (সংশোধন) আইন, ২০১৪’ পাসের জন্য স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সংসদে প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। আগামী ৭ এপ্রিল আইনটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। গতকাল নতুন সংশোধনী পাস হওয়ায় ৮ এপ্রিল থেকে তা আবার কার্যকর হবে। প্রসঙ্গত, দশম জাতীয় সংসদে পাস হওয়া এটিই প্রথম বিল।

এদিকে পিরোজপুর-৩ আসনের স্বতন্ত্র এমপি ডা. রুস্তম আলী ফরাজী ২৫ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য বিলটি তিন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত একটি বাছাই কমিটিতে পাঠানোর এবং জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব আনেন। তবে তিনি এসময় সংসদে অনুপস্থিত থাকায় তার প্রস্তাব উত্থাপিত হয়নি। একইসঙ্গে আইনটির মেয়াদ পাঁচ বছরের পরিবর্তে একবারে আরও ৮ বছর বৃদ্ধির প্রস্তাব করেও সংশোধনী আনেন তিনি। তার অনুপস্থিতির কারণে এই সংশোধনীও উত্থাপিত হয়নি বলে উল্লেখ করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

জানা গেছে, মূলত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংস আন্দোলন এবং আগামীদিনের সম্ভাব্য রাজনৈতিক আন্দোলনের কথা মাথায় রেখেই দ্রুতবিচার আইনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, যানবাহনের ক্ষতিসাধন করা, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নষ্ট করা, ত্রাস ও অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি ও ভয়-ভীতি প্রদর্শনকে এই আইনে অপরাধ হিসেবে ধরা হবে। এসব অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির অপরাধ প্রমাণিত হলে তিনি সর্বনিম্ন দুই বছর ও সর্বোচ্চ পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

‘আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুতবিচার) (সংশোধন) আইন-২০১৪’ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে এর মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বৃদ্ধির প্রস্তাব বহাল রেখে বুধবার সংসদে প্রতিবেদন জমা দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

আইনটির সংশোধনীর উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে বিলে দেয়া বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, আইনটির মেয়াদ আরও ৪ বছর বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি প্রস্তাবনা গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপিত হয়। পরে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং গ্রহণ সাপেক্ষে এর মেয়াদ ৫ বছর বৃদ্ধির নীতিগত ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

প্রসঙ্গত, ২০০২ সালে প্রণীত দ্রুতবিচার আইনটির প্রথমে মেয়াদ ছিল ২০০৪ সালের ১০ এপ্রিল পর্যন্ত। পরে প্রতিবার দুই বছর করে এর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। সর্বশেষ মেয়াদ বাড়ে ২০১২ সালে।

জাপার মন্ত্রীরা অনুপস্থিত: এদিকে গতকাল ‘আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) (সংশোধন) বিল-২০০৪’ পাসের সময় প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির (জাপা) সদস্য পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক অধিবেশন কক্ষে উপস্থিত ছিলেন না। তবে দলটির অপর সদস্য পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা অধিবেশন কক্ষেই ছিলেন। বিল পাসের সময় তিনিসহ জাপার অন্য সদস্যরা নিরব ছিলেন। বিলের পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো ধরনের ভোটই দেননি।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের সংসদীয় পদ্ধতির ইতিহাসে এবারই প্রথমবারের মতো বিরোধী দল থেকেও মন্ত্রিসভায় সদস্য রয়েছেন। যার কারণে সরকারি বিল পাসের সময় বিরোধী দলের ভূমিকা কী হয়, তা নিয়ে অনেকের কৌতূহল ছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here