দোহারে নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় নিহত ৩

16

doharঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনে নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খানের সমর্থকদের হামলায় বিজয়ী প্রার্থী জাতীয় পার্টির (জাপা) অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের তিন সমর্থক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহত ৯ জনকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দোহার উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের হাজারবিঘা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করেছে। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

নিহতরা হলেন হাজারবিঘা গ্রামের বাসিন্দা মোশারফ খন্দকার (৬০), তার ছেলে মাসুদ খন্দকার (২৫), প্রতিবেশি তোতা মুন্সির ছেলে উপজেলা স্বেচ্ছা সেবক লীগের সহ-সভাপতি মকবুল হোসেন (৩৫)। এরা সবাই আওয়ামী লীগের সমর্থক। তবে নির্বাচনের কয়েকদিন আগে তারা মান্নান খানের পক্ষ ত্যাগ করে সালমা ইসলামের পক্ষে সমর্থন দেয়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আব্দুল মান্নান খান সমর্থিত উত্তর বিলাসপুর গ্রামের বাসিন্দা হুকুম আলী চকদার, বাশার চকদার, রাশেদ চকদারের নেতৃত্বে একটি দল গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সালমা ইসলাম সমর্থক বিলাশপুর ইউনিয়নের হাজারবিঘা গ্রামের বাসিন্দাদের বাড়ি-ঘরে হামলা চালায়। অনেককেই তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। আহতদের মধ্যে শাহ্জালাল খন্দকার (৪৬), সালেহা খাতুন (৩২), শাহ্ আলম খন্দকার (৪০), সাদ্দাম (২২), আনোয়ার খন্দকার (৬০), আমিরন (৫০) ও নিয়াজুল মোল্লা (৩৫), মোশারফ খন্দকার (৬০), তার ছেলে মাসুদ খন্দকার (২৫), প্রতিবেশি তোতা মুন্সির ছেলে মকবুল হোসেন (৩৫) ও আনোয়ার মোল্লার ছেলে আসলাম মোল্লা (২০)সহ ২৩ জনকে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি মকবুল হোসেন, মোশারফ খন্দকার ও তার ছেলে মাসুদ খন্দকারকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আহত ৯ জনকে উন্নত চিকিত্সার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জানান, হামলায় নিহত তিনজনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মর্গে নেয়া হয়েছে।

দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম মিঞা জানান, ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এরা হলেন আনোয়ার চকদার (৩১), খোকন হোসেন (২২) ও তোতা মিয়া (৩৫)। হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশী অভিযান চলছে। গতকাল রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় কোনো মামলা হয়নি।

উল্লেখ্য, নির্বাচনের আগে উপজেলা আওয়ামী লীগের একটি অংশ অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খানের পক্ষ ত্যাগ করে সালমা ইসলামকে সমর্থন জানায়।

দিনাজপুরে নির্বাচনী সহিংসতায় আরো দুইজনের মৃত্যু

দিনাজপুর থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, দিনাজপুর-১ আসনের বীরগঞ্জ উপজেলার শিবরামপুর ইউনিয়নের ভগিরপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গত রবিবার ব্যালট ছিনতাই ও গোলযোগ করার চেষ্টাকালে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ১৮ দলের সমর্থক মাদ্রাসা ছাত্র সালাহউদ্দিন (১৭) গতকাল সোমবার মারা গেছে। সালাহউদ্দিনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। গতকাল সকালে ৭ টা ২০ মিনিটে চিকিত্সাধীন অবস্থায় সে মারা যায় বলে জানান হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডাঃ ইকবাল। একই ইউনিয়নের ভেলাপুকুর কেন্দ্রে গত রবিবার সংঘর্ষে আহত আসাদুল ইসলাম (১৫) গতকাল একই হাসপাতালে মারা যায়। এ নিয়ে দিনাজপুরে নির্বাচনী সহিংসতায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হলো ৬।

নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে প্রতিবন্ধী যুবক নিহত

নোয়াখালী প্রতিনিধি ও সোনাইমুড়ী সংবাদদাতা জানান, সোনাইমুড়ী উপজেলার গজারিয়া বাজারে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে জগত্ জীবনপুর গ্রামের মাহফুজুর রহমান (২৩) নামের বাকপ্রতিবন্ধী যুবক নিহত হয়। এ সময় কমপক্ষে ৫ জন আহত হয়েছে। গত রবিবার রাত ৮ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। মাহফুজকে নিজেদের কর্মী বলে দাবি করে যুবলীগ ও বিএনপি। তবে তার পিতা জয়নাল আবেদীন জানিয়েছেন মাহফুজ কোন দলের কর্মী নয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা শুরু হলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা স্থানীয় বাজারে আনন্দ মিছিল বের করে। এ সময় তারা বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির ব্যাপারে উস্কানিমূলক শ্লোগান দিলে দুই পক্ষে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় মারধরে মাহফুজ গুরুতর আহত হয়। তাকে প্রথমে বজরা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে জেলা শহরের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। রবিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে সে মারা যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here