দেশকে হুমকির মুখে ফেলায় সর্বোচ্চ শাস্তি

20

52ec08ab3a2d0-Untitled-5দেশের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলা, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকেও ভয়ংকর অপরাধে যুক্ত হওয়া, ঘটনার সঙ্গে যুক্ততার ধরন ও মাত্রা, ঘটনা ধামাচাপা দিতে প্রভাব খাটানো ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চট্টগ্রামে ১০ ট্রাক অস্ত্র আটক মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শাস্তি নির্ধারণ করেছেন আদালত।
রায় ঘোষণার সময় বিচারক বলেন, এক-দুটো অস্ত্র উদ্ধার হলে আদালত দোষীদের যাবজ্জীবন সাজা দেন। কিন্তু এখানে ১০ ট্রাক অস্ত্র ও গোলাবারুদ আটক হয়েছে এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এর সঙ্গে জড়িত বলে প্রমাণিত হয়েছে।
দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে এ বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে বিচারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন।
আদালত সূত্র জানায়, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) কাজ হলো দেশের নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য সরকারকে জানানো। কিন্তু সংস্থাটির গুরুত্বপূর্ণ ও শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরাই বিচ্ছিন্নতাবাদী একটি সংগঠনের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। এর মাধ্যমে তাঁরাই দেশের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছেন। শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষও আদালতে এই যুক্তি উত্থাপন করেছিল।
আর দেশের প্রতিরক্ষাবিষয়ক ঝুঁকির বিষয়টি দেখার দায়িত্ব প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই)। কিন্তু এ সংস্থাটিরও কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা একই বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। এসব কর্মকর্তার সম্মিলিত তৎপরতা দেশের জন্য নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করেছে। ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে তাঁদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিষয়টি আদালতের কাছে গুরুত্ব পেয়েছে। অস্ত্র চোরাচালানের ঘটনায় পরস্পরকে দায়ী করে আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, ২০ জন সাক্ষীর ১৬৪ ধারার বিবৃতি এবং আদালতে সাক্ষীদের দেওয়া বক্তব্যের ভিত্তিতে ১৪ আসামির সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয়েছেন আদালত। আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ এস এম মজিবুর রহমান ১০ ট্রাক অস্ত্র আটকের ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে চোরাচালানের অভিযোগে করা মামলায় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৪ জনকে ফাঁসির আদেশ দেন। আর অস্ত্র আইনে করা মামলায় তাঁদের সবাইকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
২০০৪ সালের ১ এপ্রিল রাতে চট্টগ্রামের ইউরিয়া সার কারখানা (সিইউএফএল) জেটিঘাটে অস্ত্রগুলো খালাসের সময় আটক করে পুলিশ। ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার জন্য বিপুল এ অস্ত্র দেশের গোয়েন্দা সংস্থার তত্ত্বাবধানে খালাস হচ্ছিল।
সর্বোচ্চ শাস্তি পাওয়া ১৪ জন আসামির কাকে কার বা কাদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, আদালত সূত্রে তার একটা চিত্র পাওয়া গেছে।
নিজামী: রায়ে মতিউর রহমান নিজামীকে দোষী সাব্যস্ত করতে তৎকালীন শিল্পসচিব শোয়েব আহমদ ও বাংলাদেশ রসায়ন শিল্প সংস্থার (বিসিআইসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ইমামুজ্জামানের বক্তব্য আমলে নিয়েছেন আদালত। শিল্পমন্ত্রী হিসেবে সিইউএফএল জেটিঘাট নিজামীর অধীন স্থাপনা ছিল এবং এটা ছিল বিশেষ নিরাপত্তা স্থাপনা। সেখানে অস্ত্র খালাস ও আটকের বিষয়ে নিজামীকে জানিয়েছিলেন এই দুজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা। তাঁরা আদালতকে বলেছেন, তখন নিজামী তাঁদের বলেছিলেন, ‘আমি বিষয়টা শুনেছি। এটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেখছে। দেশের হাইয়েস্ট অথরিটিও (সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ) এ বিষয়ে অবগত আছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিচ্ছে। কাজেই আমাদের কোনো কিছু করার প্রয়োজন নেই।’ আসামি ও সাক্ষীদের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, বিশাল চালানের অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিরাপদে সিইউএফএল জেটিঘাটে খালাসের জন্য তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত শিল্পসচিব নুরুল আমিনকে সিইউএফএল রেস্টহাউসে পাঠিয়েছিলেন তখনকার শিল্পমন্ত্রী নিজামী। এসব বিবেচনায় নিয়ে আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
বাবর: লুৎফুজ্জামান বাবরের সম্পৃক্ততার তথ্য আদালতে বর্ণনা করেন ২৪ জন সাক্ষী ও আসামি। আদালত ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) সাদিক হাসান রুমী ও তৎকালীন অধিনায়ক কর্নেল এ কে এম রেজাউর রহমান, পুলিশের তৎকালীন উপকমিশনার আবদুল্লাহেল বাকী, তৎকালীন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার এস এম সাব্বির আলী ও সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব ওমর ফারুকের বক্তব্য আমলে নেন। তদন্তের সময় অস্ত্রগুলো এনএসআইয়ের কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে খালাসের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার জন্য বাবর নির্দেশ দিয়েছিলেন। ফলে বিশাল চালানের অস্ত্র খালাসের আসল তদন্ত ধামাচাপা পড়ে যায়। আদালত সূত্র জানায়, বাবরকে দোষী সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে এটি অন্যতম ভূমিকা রেখেছে।
রেজ্জাকুল হায়দার: মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় আরেক আসামি উইং কমান্ডার সাহাব উদ্দিন ও ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) সাদিক হাসান রুমীর জবানবন্দির ভিত্তিতে। ২০০৪ সালের মার্চে ঢাকা সিএমএইচে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় সাহাব উদ্দিনকে দেখতে যান উলফা নেতা পরেশ বড়ুয়া। পরেশ বড়ুয়াকে বিদায় দেওয়ার সময় দরজা খুলে সাহাব উদ্দিন দেখতে পান রেজ্জাকুল হায়দারকে।
এ ছাড়া ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন মহাপরিচালক সাদিক হাসান রুমী ২০০৪ সালের ২ এপ্রিল বাবরের সঙ্গে অস্ত্র দেখার জন্য চট্টগ্রামে আসেন। তখনই ডিজিএফআইয়ের অধিনায়ক কর্নেল এ কে এম রেজাউর রহমান অস্ত্র চোরাচালানের সঙ্গে রেজ্জাকুল হায়দারের জড়িত থাকার বিষয়টি সাদিক হাসানকে জানিয়েছিলেন বলে তাঁদের জবানবন্দিতে জানা যায়। আদালতে দেওয়া তাঁদের বক্তব্য আমলে নিয়ে রেজ্জাকুল হায়দারকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় বলে সূত্র জানিয়েছে।
আবদুর রহিম: এনএসআইয়ের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম প্রসঙ্গে বলা হয়, পাকিস্তানের মালিকানাধীন দুবাইভিত্তিক এআরওয়াই গ্রুপের আমন্ত্রণে ২০০৩ সালে ব্রিগেডিয়ার আবদুর রহিম সস্ত্রীক দুবাই সফরে গিয়ে পাকিস্তান গোয়েন্দা সংস্থা প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন। একই বছর এআরওয়াই গ্রুপ রহিমকে ৪০ হাজার পাউন্ড উপহার দেয়। ঢাকার সেফ হাউসে পাকিস্তানের হাইকমিশনারকে নিয়ে পরেশ বড়ুয়াসহ একাধিক বৈঠক করেন রহিম। ২০০৪ সালের মার্চে মহাপরিচালক রহিম তাঁর কক্ষে উইং কমান্ডার সাহাব উদ্দিন ও মেজর লিয়াকতকে ডেকে পাঠান। মহাপরিচালক তাঁদের বলেন, এআরওয়াই গ্রুপের অর্থায়নে ওই দেশের সহায়তায় কিছু অস্ত্র ও যন্ত্রপাতি আসবে। এ থেকে আদালত নিশ্চিত হন, ঘটনার সঙ্গে রহিম শুরু থেকেই জড়িত ছিলেন এবং সে জন্য তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
সাহাব উদ্দিন: এনএসআইয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার (অব.) সাহাব উদ্দিন আহাম্মদ দোষী সাব্যস্ত হন মাঠ কর্মকর্তা আকবর হোসেন খান এবং মহাপরিচালক আবদুর রহিমের বক্তব্যের ভিত্তিতে। মাঠ কর্মকর্তা আকবর হোসেন সাহাব উদ্দিনের নির্দেশে অস্ত্র পরিবহনের জন্য চট্টগ্রামের গ্রিনহাউস ট্রান্সপোর্ট থেকে ট্রাক ভাড়া করেন। অস্ত্র আটকের পর সাহাব উদ্দিনকে বিমানবাহিনীতে বদলি করে পাঠানো হলে আমেরিকান দূতাবাসের দুই কর্মকর্তা দিয়ে তিনি রহিমের কাছে তদবির করান। আকবর ও রহিম তা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন।
লিয়াকত হোসেন: এনএসআইয়ের উপপরিচালক মেজর (অব.) লিয়াকত হোসেনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় তৎকালীন পুলিশ কমিশনার সাব্বির আলী ও উপকমিশনার আবদুল্লাহেল বাকীসহ আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্যের জবানবন্দির ভিত্তিতে। আদালত সূত্র জানায়, ঘটনার দিন ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল দিবাগত রাত আড়াইটা-তিনটার দিকে উপকমিশনার (বন্দর) আবদুল্লাহেল বাকী পুলিশ কমিশনার সাব্বির আলীকে ফোনে জানান, অবৈধ মালামালের একটি বাক্স খুলে অস্ত্র ও গোলাবারুদ দেখা গেছে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক, পাঁচটি ট্রাক ও দুটি ট্রলার জব্দ করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন নিজেকে এনএসআইয়ের উপপরিচালক মেজর লিয়াকত বলে পরিচয় দিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মালামাল খালাস করা হচ্ছে জানিয়েছিলেন। বাধা দেওয়া হলে লিয়াকত আবদুল্লাহেলকে বলেছিলেন, ‘আপনি কেন এ মালামাল আটক করছেন। এ মালামাল খালাসের ব্যাপারে সহায়তা করুন।’
আকবর হোসেন: এনএসআইয়ের মাঠ কর্মকর্তা আকবর হোসেন খান অফিসের নয় এমন কাজ অর্থাৎ অস্ত্র খালাসের জন্য ট্রাক ভাড়া করে ফেঁসে যান বলে আদালত সূত্র জানায়। সাহাব উদ্দিনের নির্দেশে আকবর গ্রিনহাউস ট্রান্সপোর্ট থেকে অস্ত্র পরিবহনের জন্য ট্রাক ভাড়া করেন, যা আকবর নিজেই জবানবন্দি দিয়ে স্বীকার করেছেন। তাঁর এ বক্তব্য সমর্থন করে সাহাব উদ্দিন ও পরিবহন সংস্থার মালিক হাবিবুর রহমান জবানবন্দি দেন।
শিল্প মন্ত্রণালয় ও সিইউএফএলের তিনজন: সাবেক ভারপ্রাপ্ত শিল্পসচিব নুরুল আমিন, সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহসীন তালুকদার ও মহাব্যবস্থাপক কে এম এনামুল হকের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয় একই সংস্থার নিরাপত্তা কর্মকর্তা মবিন হোসেন খান ও বিসিআইসির চেয়ারম্যান ইমামুজ্জামানের বক্তব্যে। অস্ত্র খালাস নির্বিঘ্ন করতে নুরুল আমিন সিইউএফএল রেস্টহাউসে ওঠেন। ঘটনার পরদিন ২০০৪ সালের ২ এপ্রিল বিষয়টি তাঁর নজরে আনা হলে তিনি বলেন, ‘এটা নিয়ে মাথা ঘামানোর কিছু নেই। ওপর মহল সব জানে।’ তাঁর এ অবস্থান সাক্ষীদের বক্তব্যেও উঠে আসে। মহসীন তালুকদার ও এনামুল হকও জেটিঘাট ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়ে অস্ত্র খালাসে সহযোগিতা করেছিলেন বলে আদালতের কাছে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।
পরেশ বড়ুয়া: পরেশ বড়ুয়াকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় সাহাব উদ্দিন ও হাফিজুর রহমানের বক্তব্যের ভিত্তিতে। আবদুর রহিমের সঙ্গে পরেশ বড়ুয়া দুবাই সফর করেন। ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে অস্ত্র আনার কাজ তদারক করেছিলেন। হাফিজকে তিনটি খাকি প্যাকেটে ট্রাক ভাড়া বাবদ ৫০ লাখ টাকা দিয়েছিলেন পরেশ বড়ুয়া।
হাফিজুর: পরেশ বড়ুয়ার কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা নিয়ে অস্ত্র খালাসের দায়িত্ব নেওয়ায় দোষী সাব্যস্ত হন হাফিজুর রহমান। এ অর্থ নেওয়া ও ঘটনায় যুক্ত থাকার কথা তিনি নিজের জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন। এ বিষয়টি আদালত আমলে নিয়ে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
আবদুস সোবহান: ট্রলার ভাড়া দিয়ে সমুদ্রপথে অস্ত্র পরিবহনে সহযোগিতা করেন আবদুস সোবহান। সোবহানের কাছ থেকে ট্রলার ভাড়া নেওয়ার কথা হাফিজ তাঁর জবানবন্দিতেও উল্লেখ করেন।
দ্বীন মোহাম্মদ: অস্ত্র খালাসের জন্য শ্রমিক সরবরাহ করেন দ্বীন মোহাম্মদ। তাঁর জবানবন্দির উদ্ধৃতি দিয়ে রায়ে বলা হয়, ঘটনার এক সপ্তাহ আগে আরজু মিয়া ওরফে পাগলা শ্রমিক সরবরাহের জন্য দ্বীন মোহাম্মদকে অনুরোধ করেন। অস্ত্র খালাসের জন্য শ্রমিক সরবরাহ করেন দ্বীন মোহাম্মদ। এ কারণে এ দুজনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় বলে আদালত সূত্র জানায়।
জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গত রাতে প্রথম আলোকে বলেন, কোন অপরাধে কী শাস্তি দেওয়া হবে, তার এখতিয়ার আদালতের। অপরাধের গুরুত্ব বিচার করে এবং অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই আদালত শাস্তি দেন।
রায়ে বিচারক মজিবুর রহমান অস্ত্র খালাসের সঙ্গে যুক্ত প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তাদের বিপথগামী হিসেবে উল্লেখ করেন। আদালতের মন্তব্য, ‘আমাদের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা অত্যন্ত সুনাম ও দক্ষতার সঙ্গে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর হয়ে বিশ্বের গোলযোগপূর্ণ দেশগুলোতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে। এতে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। কিন্তু ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালানের সঙ্গে বিপথগামী চার-পাঁচজন সদস্য যুক্ত হওয়ায় প্রতিরক্ষা বাহিনীর উজ্জ্বল ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছিল।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here