দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য বাড়তি কর আসছে: অর্থমন্ত্রী

13

 

পরিবেশ দূষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাড়তি কর আরোপ করা হবে। পাশাপাশি যারা পরিবেশবান্ধব প্রতিষ্ঠান গড়বেন, তারা কর রেয়াতের সুবিধা পাবেন। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির সদস্যের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ তথ্য জানান। শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অর্থমন্ত্রী জানান—কাজের বিনিময়ে খাদ্যকর্মসূচি (কাবিখা) আর হবে না। দেশে যখন খাদ্যসংকট ছিল, তখন এটি চালু করা হয়। এখন গ্রামীণ পূর্তকাজ হবে টাকার বিনিময়ে। তিনি আরো বলেন, ‘দেশে গ্রামীণ সড়কের প্রয়োজন আছে তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতীয় মহাসড়কের প্রয়োজন নেই। বর্তমান সড়ক ও সেতুগুলোর উন্নয়নে বরাদ্দ থাকবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সব সময় উচ্চাভিলাসী বাজেট দিই। এবারের বাজেটের আকার শুনে অনেকে বলেছেন—প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি, কেউ বলেন উচ্চাভিলাসী। তার পরও আমি উচ্চাভিলাসী বাজেট দিই। কারণ, এ সরকারের গত সব কটি বাজেটের ৯৬ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। এর আগে বাজেটের বাস্তবায়ন ৯০ শতাংশের নিচে।’

প্রাক-বাজেট আলোচনায় সরকারি হিসাব, অর্থ ও পরিকল্পনা এবং নৌ-পরিবহন, সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

অর্থমন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন—একটি জাতির অগ্রগতির ও উন্নয়ন নির্ভর করে বাজেটের ওপর। কর আদায় বাড়াতে একটি টাক্সফোর্স গঠন পরামর্শ দেন তিনি। বাড়ির মালিক, ডাক্তার ও উকিলদের কর ফাঁকি বন্ধ করে করের আওতায় নিয়ে আসা উচিত। সরকার অবকাঠামো ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারলে বিনিয়োগ বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।

ড. রুস্তম আলী ফরাজি এমপি বলেন—বাজেটে জনগণের সুফল নিশ্চিত করতে দুর্নীতি বন্ধ করাসহ স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে। বাজেট বাস্তবায়নের স্বার্থে অন্যায়, দূনীতিকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় না দিতে অর্থমন্ত্রীকে আনুরোধ জানান তিনি। এ ছাড়া, আগামী বাজেটে পদ্মা সেতুর দৃশ্যমান অগ্রগতির দাবি জানান তিনি। বাজেট প্রণয়নের আগে দেশের দরিদ্র মানুষের সাথে আলোচনার তাগিদ দিয়েছেন, মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম এমপি। তিনি বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্বৃত্ত অর্থ বাজেয়াপ্ত করে পদ্মা সেতু প্রকল্পে ব্যয়ের আহ্বান জানান। একই সাথে এলজিইডির মাধ্যমে এমপিদের জন্য ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ আগামী বাজেটে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

গোলাম দস্তগীর গাজী এমপি বলেন—ধীরে ধীরে কাস্টম ডিউটি শূন্য পর্যায়ে নিয়ে আসা উচিত। শিল্প সুরক্ষায় বাজেটে বিভিন্ন উদ্যোগ থাকতে হবে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, অর্থসচিব ফজলে কবির, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মেজবাহ উদ্দিন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here