দুজনে বসে কূজনে কী কথা বলে: শেখ হাসিনা

32

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে বিকল্পধারার সভাপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বৈঠকের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আজ দেখি দুজনে বসে কূজনে কী কথা বলে।’

আজ শুক্রবার ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘হরতাল, অবরোধ, আন্দোলন চলার পরও আওয়ামী লীগ দক্ষতার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করেছে। তাই আবার জয় পেয়েছে। বিএনপি নেতার এটা পছন্দ নয়। তাই তিনি আন্দোলনের নতুন সূত্র খুঁজে বেড়াচ্ছেন। তাড়িয়ে দেওয়া লোকদের সঙ্গে ধরনা দিয়ে বেড়াচ্ছেন। ছবিতে দেখলাম লাল শাড়ি পরে বদু কাকার সঙ্গে কথা বলছেন। জানি না তিনি রজনীগন্ধা নিয়ে গিয়েছিলেন কি না। একসময় তো এমন তাড়া খেয়েছিলেন যে রেললাইনের তলা দিয়ে পালাতে হয়েছিল। তখন তিনি বলেছিলেন, “আমি একগুচ্ছ রজনীগন্ধা নিয়ে চলে গেলাম”। আজ দেখি দুজনে বসে কূজনে কী কথা বলে।’

বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চে দেওয়া ভাষণের তাত্পর্য তুলে ধরেন। তবে তাঁর বক্তব্যের বেশির ভাগ অংশ জুড়েই ছিল বিএনপির নেতা খালেদা জিয়ার সমালোচনা। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে দেওয়া বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি ‘ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার ওয়াদা করেন।

আওয়ামী লীগ কোথাও ধরনা দিতে যায় না

শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। আওয়ামী লীগ কোথাও ধরনা দিতে যায় না।’ তিনি বলেছেন, ‘আজকে যত জায়গায় ধরনা দিক আর আশার বাণী শোনাক, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেব না।’

প্রধানমন্ত্রীর ওয়াদা

প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘মনে রাখতে হবে অনেক কষ্টে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। স্বাধীনতার মর্যাদা ধরে রাখতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ক্ষুধামুক্ত দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলব, এটাই আমার ওয়াদা।’

বিএনপির নেতা নিজে ছিলেন ফেলু

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির নেতা নিজে ছিলেন ফেলু। তাই আমাদের ছেলেমেয়েরা ফেলু হোক, তা-ই তিনি চান। এ কারণে তিনি আন্দোলনের নামে স্কুল পুড়িয়েছেন।’ বিএনপি আন্দোলনের নামে আগুন দিয়ে কোরআন শরিফ পুড়িয়েছে, মন্দির ভেঙেছে বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

কত রক্ত হলে তাঁর পিপাসা মিটবে

খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানিকগঞ্জে তিনি বলেছিলেন, লাশ আর রক্ত চান। তাহলে তিনি দেশ উদ্ধার করবেন। কত রক্ত হলে তার পিপাসা মিটবে আমি জানি না। তাঁদের আন্দোলন মানেই ধ্বংসযজ্ঞ।’

২০০১-২০০৬ কলঙ্কজনক অধ্যায়

বক্তব্যের শুরুতে শেখ হাসিনা ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ভাষণের তাত্পর্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ পাঁচ বছর সফলতার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করেছে। বাংলাদেশকে উন্নতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা আরও বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বাঙালি জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। জাতির পিতার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ গড়ার কাজ শুরু হয়েছিল। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে সামনে রেখে জনগণের জন্য কাজ শুরু করে। কিন্তু ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে বিএনপি জোট দেশকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যায়। তিনি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মানি লন্ডারিং প্রভৃতির কথা তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তাদের অপকর্মের জন্যই ১/১১-এর অবস্থা সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ বাংলাদেশের মানুষের জন্য কলঙ্কজনক অধ্যায়।

জনগণকে ধন্যবাদ

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোটের আন্দোলনে জনগণ সাড়া দেয়নি। সেজন্য বাংলাদেশের মানুষকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই।’

জাতির পিতা পথ দেখিয়ে গেছেন

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘জাতির পিতা বলেছিলেন, “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম।” তিনি আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। অর্থনৈতিক মুক্তির পথ দেখিয়ে দিয়ে গেছেন। তাঁর নীতি, আদর্শ ধরে বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির পথই আমাদের লক্ষ্য।’ সেই লক্ষ্যে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here