থাইল্যান্ডে মার্শাল ল

13

আশা করি সামরিক আইন হবে সাময়িক :যুক্তরাষ্ট্র

থাইল্যান্ডে গত কয়েক মাস যাবত সরকার এবং বিরোধী দলের মধ্যে উত্তেজনার পর সেনাবাহিনী গতকাল মঙ্গলবার সামরিক আইন জারি করেছে। সামরিক আইন প্রয়োগের জন্য সেনাবাহিনী নিজেদের ব্যাপক ক্ষমতাও প্রদান করেছে। সৈন্যরা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। সেনাবাহিনী বলছে, এর মাধ্যমে তারা দেশব্যাপী নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করছে এবং এটি কোন অভ্যুত্থান নয়।

মার্শাল ল’ জারির পর রাজধানীতে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হয়। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও রাস্তায় সামরিক বাহিনীকে অস্ত্র সজ্জিত গাড়িতে টহল দিতে দেখা গেছে। সেনাবাহিনী সকল সংবাদ মাধ্যমকে জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে এমন ধরণের সংবাদ কিংবা স্থির চিত্র প্রচার থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। সেনা প্রধান জেনারেল প্রায়ুত চ্যান-ও-চা’র বিবৃতিতে এ নির্দেশনার কথা বলা হয়। তার এ বিবৃতি প্রত্যেকটি চ্যানেল প্রচার করে।

এমাসের শুরুর দিকে থাই একটি আদালত প্রধানমন্ত্রী ইংলাক চিনাওয়াতসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রীকে পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেয়। গত বেশ কয়েক মাস ধরেই বিরোধী দল অনির্বাচিত একটি প্র্রশাসনের অধীনে নির্বাচনের দাবীতে বিক্ষোভ করে যাচ্ছে, যারা সংবিধানেও পরিবর্তন করতে পারবে। এর আগে রাজনৈতিক অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে সর্বশেষ ২০০৬ সালেও থাই সেনাবাহিনী সামরিক আইন জারি করেছিল। খবর এএফপি ও বিবিসির।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, থাই সামরিক বাহিনীর সামরিক আইন জারি অবশ্যই সাময়িক হবে এবং এটি কোনভাবেই গণতন্ত্রের পথকে বাধাগ্রস্ত করবে না বলে ওয়াশিংটন আশা করে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র জেন সাকি এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থাইল্যান্ডের রাজনৈতিক সংকটের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন এবং ‘বাক স্বাধীনতার প্রতি সম্মানসহ গণতান্ত্রিক রীতিনীতি মেনে চলতে সকল দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।’ সাকি বলেন, ‘আমরা বুঝতে পেরেছি যে, শান্তি ও আইনের শাসন বজায় রাখতেই রাজকীয় থাই সেনাবাহিনী সেদেশে সামরিক আইন জারি করেছে এবং তা সামরিক অভ্যুত্থান নয়। আমরা আশা করছি যে, এক্ষেত্রে সামরিক বাহিনী তাদের দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে। সহিংসতা প্রতিরোধে একটি সামরিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এটি জারি করা হয়েছে এবং সামরিক বাহিনীর এ পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্ষতিগ্রস্থ করবে না।’ যুক্তরাষ্ট্র দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, থাইল্যান্ডের সকল দল সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য দূর করতে অবশ্যই একসাথে কাজ করবে এবং দেশকে এগিয়ে নেয়ার উপায় খুঁজে বের করবে। এ ঘটনা থাই জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরেছে।’

অপরদিকে, থাই সেনাপ্রধান দেশের সংকট নিরসনে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার দেশটিতে সামরিক আইন জারি হওয়ার কয়েক ঘন্টা পর তিনি এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছি, কিন্তু পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। তাই দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সামরিক আইন জারি করতে হয়েছে।’ রাজনৈতিক সংকট বৃদ্ধি পেতে থাকায় রক্তক্ষয়ী সহিংতা ছড়িয়ে পড়ার আশংকার প্রেক্ষাপটে সেনাপ্রধান সকল পক্ষকে সংঘর্ষ পরিহারের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরে আসার পর সামরিক আইন প্রত্যাহার করে নেয়া হবে। উল্লেখ্য, থাইল্যান্ডে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে সহিংসতায় এ পর্যন্ত ২৮ জন নিহত এবং অসংখ্য লোক আহত হয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here