তুরস্কে অভ্যুত্থান পরিকল্পনাকারীদের মৃত্যুদণ্ড!

11

জনতার নিউজ

তুরস্কে অভ্যুত্থান পরিকল্পনাকারীদের মৃত্যুদণ্ড!

ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থান চেষ্টায় জড়িতদের নিঃশেষ করে দিতে ব্যাপক দমনাভিযান শুরু করেছেন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। অভ্যুত্থানের পরিকল্পনাকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব গণমাধ্যম। তারা জানিয়েছে বিদ্রোহী সেনাদের মৃত্যুদণ্ড দেয়ার সম্ভাবনাকে নাকচ করেননি এরদোগান।

দমনাভিযানে দেশজুড়ে এ পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার জনকে আটক করেছে তুরস্ক। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছে, উচ্চপদস্থ সেনা সদস্যরাসহ ২ হাজার ৭০০ বিচারক। আরও ৫০ জনের বেশি সেনাকে রবিবার গ্রেফতার করা হয়েছে। আরো মানুষ গেফতার হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিচারমন্ত্রী বেকির বোজদাগ।

অভ্যুত্থান চেষ্টায় জড়িতদেরকে ‘চরম মূল্য দিতে হবে’ বলে  জানিয়েছেন এরদোগান। সেইসঙ্গে তিনি বলেছেন, পার্লামেন্ট নতুন করে মৃত্যুদণ্ড চালুর প্রস্তাব বিবেচনা করে দেখবে।

অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার সময় সংঘর্ষে নিহত একজনের শেষকৃত্যে যোগ দিয়ে এরদোয়ান দেশে প্রায় ১২ বছর পর আবার মৃতু্দণ্ড চালুর এ ইঙ্গিত দেন।

রয়টার্স জানায়, সমাবেশে কিছু সমর্থক অভ্যুত্থান-চেষ্টাকারীদের মৃত্যুদণ্ডের দাবি তোলে। এর  জবাবে এরদোয়ান বলেন,  ‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আমরা জনগণের অনুরোধ আমলে না নিয়ে পারি না… এটি আপনাদের অধিকার।’ টিভিতে সরাসরি সম্প্রচারিত ভাষণে তিনি বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী, যথাযথ কর্তৃপক্ষ এ অধিকারের মূল্যায়ন করবে এবং এ ব্যাপারে একটি সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে। সরকারের সব বিভাগ থেকে ভাইরাস দূর করতে হবে।’

সেনাবাহিনীর ক্ষুদ্র একটি অংশ অভ্যুত্থানের চেষ্টা করেছিল বলে জানান এরদোয়ান। তিনি এ প্রচেষ্টাকে ‘দেশদ্রোহ’ বলে নিন্দা করেছেন। তুরস্কে রাজনৈতিক দলগুলো এক বিরল ঐক্যের মধ্য দিয়ে শুক্রবারের অভ্যুত্থান চেষ্টার নিন্দা জানিয়েছে। তাদের এ একতা কতক্ষণ স্থায়ী হবে তা বলা মুশকিল। তবে তুরস্কে এরদোয়ানই এখনও চূড়ান্ত ব্যক্তিত্ব। দেশের জনগণের অর্ধেকই তাকে পছন্দ করে এবং তার বন্দনা করে।

জনতা তুরস্কের পার্লামেন্টের বাইরে জড়ো হয়েছে। সেখানে বিক্ষোভকারীরা অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রকারীদের সাজা হিসাবে নতুন করে মৃত্যুদণ্ডের প্রয়োগ চাইছে।

তুরস্ক সেই ১৯৮৪ সাল থেকে আর কারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেনি। তাছাড়া, ২০০৪ সালে তুরস্কের ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগ দেওয়ার চেষ্টার অংশ হিসাবে আইনগতভাবে মৃত্যুদণ্ড বিলোপ করা হয়। কিন্তু এখন জনতার দাবির মুখে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম বলেছেন, ‘আমরা আপনাদের বার্তা পেয়েছি। যা প্রয়োজন তা করা হবে।’

প্রেসিডেন্ট এরদোগানও বলেছেন, সরকার মৃত্যুদণ্ড আবার চালু করার বিষয়টি নিয়ে বিরোধীদলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে।  তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে আমরা দেরী করব না। কারণ, যারা এদেশে অভ্যুত্থানের চেষ্টা করেছে তাদেরকে মূল্য দিতেই হবে।’

গত শুক্রবার রাতে তুরস্কে সেনাবাহিনীর একটি অংশের অভ্যুত্থান-চেষ্টা শুরু হয়।  এ খবর প্রথম জানান প্রধানমন্ত্রী  ইলদিরিম। ওই সময় তিনি বলেন, একদল সৈন্য সরকার উৎখাতের চেষ্টা চালিয়েছে, তাদের বশে আনতে নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করছে।

পরবর্তীতে সামরিক বাহিনীর সব অংশের সমর্থন না থাকায় এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের তৎপরতায় জনগণ রাস্তায় নেমে এলে বিদ্রোহী সেনাদের উদ্যোগ ভেস্তে যায়। ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার জন্য স্বেচ্ছা-নির্বাসনে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনকে দায়ী করেছেন এরদোগান।

তার জোরালো দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের আশ্রয়ে থাকা গুলানই সেনা বিদ্রোহের হোতা। গুলান দীর্ঘ দিন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেইনিয়ায় থাকলেও, তুরস্কে তার প্রভাব আছে। ‘হিজমেত মুভমেন্ট’ নামের একটি জনপ্রিয় আন্দোলনের প্রধান তিনি।

এদিকে গুলান এরদোগানের এই দাবি প্রত্যাক্ষান করে বলেন, সামরিক ক্যু এরদোগান সরকারের তৈরি নতুন কোন নাটক হতে পারে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here