তিস্তা চুক্তি হিমঘরে পাঠাতেই বিকল্প প্রস্তাব মমতার!

13

জনতার নিউজ

তিস্তা চুক্তি হিমঘরে পাঠাতেই বিকল্প প্রস্তাব মমতার!

গঙ্গা ব্যারেজ নিয়ে সুর চড়তে পারে। এটা বুঝেই তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি হিমঘরে পাঠাতে তোর্সা, ধানসিঁড়ি, জলঢাকা, রায়ডাক নদীর পানি বণ্টনের বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। আর তাতে কিছুটা হলেও পিছিয়ে গেছে তিস্তার পানি বণ্টন সমস্যা সমাধানের বিষয়টি। শুধু তাই নয়, তিস্তার পাশাপাশি একই সময়ে ফেনী নদীর পানি বন্টন চুক্তিও হওয়ার কথা। এই নদীটি ভারতের ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশে ঢুকেছে। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার ২০১১ সাল থেকেই এ বিষয়ে সম্মতি জানিয়ে রেখেছেন। তিস্তা না হওয়ায় পিছিয়ে গেল এই চুক্তির বিষয়টিও।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফর উপলক্ষে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি আয়োজিত নৈশভোজে যাবেন না বলেও শেষ মুহূর্তে গেছেন মমতা। তাই আশা করা গিয়েছিল মমতা তিস্তা নিয়ে সুর বদলাবেন। শনিবার দুপুরে যৌথ ভাষণের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মাদির বক্তব্যেও ছিল সেই ইঙ্গিত। কিন্তু তিনি যেভাবে শেখ হাসিনার সামনে মমতা ব্যানার্জির ঘাড়ে তিস্তার দায়িত্ব চাপিয়ে দিতে চেয়েছেন, তা পছন্দ হয় নি মমতার। তারপরই তিনি বেশ চুপচাপ হয়ে যান।

তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে জানা গেছে, এরপরই মমতা তড়িঘড়ি পশ্চিমবঙ্গের নদী বিশেষজ্ঞদের কাছে জানতে চান পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যে অভিন্ন কোন কোন নদী আছে? কয়েকটি নাম তাকে জানানো হয়। শনিবার রাতে তোর্সার পাশাপাশি, ধানসিঁড়ি, মানসিঁড়ি, ধরলা ও  রায়ডাকের কথা তিনি বলেন। বলেন, জলঢাকার কথাও। পরে জানা যায় জলঢাকা নদীই আসলে ধরলা। সেটি মাত্র ৬২ কিলোমিটার লম্বা।

তিস্তা নিয়ে কেন এরকম বারবার পিছু হঠছেন মমতা? তৃণমূল সূত্রে জানা গেছে, তিস্তায় শুকনো মওশুমে পানি প্রায় থাকে না। চুক্তি হলেও যে পানি বাড়বে এমনটা নয়। কিন্তু তখন চাপ বাড়বে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ওপর। পশ্চিমবঙ্গের উত্তরের জেলাগুলিতে  সেচের পানি পেতে সমস্যা হলে বিরোধী সিপিএম, কংগ্রেস তো বটেই সেক্ষেত্রে সুযোগ বুঝে বিজেপিও বলার চেষ্টা করতে পারে পশ্চিমবঙ্গ সরকার উদ্যোগ নেয় নি বলেই তিস্তায় পানি বাড়ে নি। তাই দোটানায় বারবার তিস্তা চুক্তির বিষয়ে পিছিয়ে যাচ্ছেন মমতা।

জানা গেছে, তিস্তায় শুকনো মওশুমে পানির  প্রবাহ বাড়াতে একটাই পথ খোলা আছে। সেটি হল বড় বড় জলাধার গড়ে বর্ষার সময় সেখানে পানি ধরে রাখা। পরে খরা মওশুমে ফিডার ক্যানেলের মাধ্যমে সেই জলাধারের পানি তিস্তা গর্ভে সঞ্চালন করা। পাশাপাশি তিস্তার গভীরতা বাড়াতে ড্রেজিং করারও প্রয়োজন। নদীর গভীরতা বাড়লে স্বাভাবিক ভাবেই বর্ষার সময় অতিরিক্ত পানি বন্যার কারণ হবে না। আর খরা মওশুমে বেশি পানি থাকায় পশ্চিমবঙ্গের চাষীরা সেচের জন্য বেশি পানি তো পাবেনই, লাভ হবে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলেরও। তবে সেই পরিকল্পনায় কয়েক হাজার কোটি রূপীর প্রয়োজন। সেটার সংস্থান কী করে হবে, সেটাই দিল্লি মমতাকে জানায় নি। স্বাভাবিক ভাবেই মমতা ব্যাকফুটে গিয়ে তিস্তার পরিবর্তে বাঁধ নেই, এমন নদীর পানি বাংলাদেশকে দেওয়ার বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here