তিন কারণে বাংলাদেশ দিয়ে সোনা পাচার, অধিকাংশ চালানের গন্তব্যই ভারত

13

J News

তিন কারণে বাংলাদেশ দিয়ে সোনা পাচার

ভারতের সঙ্গে অন্যান্য দেশের দামের পার্থক্যের কারণে সোনা চোরাচালান বাড়ছে। এমন তথ্য দিয়েছেন দেশটির রাজস্ব গোয়েন্দা বিভাগের এক পরিচালক। এসব স্বর্ণের বেশির ভাগই দুবাই ও সিঙ্গাপুর থেকে বাংলাদেশ হয়ে ভারতে যাচ্ছে। এ ছাড়া শ্রীলঙ্কা হয়ে সাগরপথেও ভারতে ঢুকছে সোনা। অনৈতিক এ ব্যবসা অত্যধিক লাভজনক হওয়ায় চোরাকারবারিরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। ভারতে সোনা আমদানিতে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় সে দেশে বৈধপথে সোনা আমদানির পরিমাণও কমে গেছে। প্রসঙ্গত, দুবাই ও সিঙ্গাপুরের চাইতে ভারতে প্রতিকেজি সোনার দাম পাঁচ লাখ রুপি বেশি।

এদিকে বাংলাদেশ দিয়ে সোনা চোরাচালান বেড়ে যাওয়ার জন্য তিনটি কারণ খুঁজে পেয়েছেন দেশের শুল্ক গোয়েন্দারা। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান  বলেন, গত আড়াই বছরে প্রায় ২৮ মণ সোনা তার অধিদপ্তর আটক করেছে। বিভিন্ন ঘটনায় মোট ১২০ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। তিনি জানান, সোনা চোরাচালানের জন্য তিনটি বিষয়কে আমরা সামনে এনেছি। গত ১০ বছর বাংলাদেশে সোনার কোনো বৈধ আমদানি নেই। কিন্তু এখানে আট হাজার স্বর্ণের দোকান চলছে। চোরাচালানের কিছু সোনা স্থানীয় বাজারে জোগান দেয়া হয়। তবে এর পরিমাণ খুব সামান্য। দ্বিতীয়ত, ভারতের বাজারে সোনার চাহিদা ব্যাপক। এ জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে চোরাচালান হয়ে সোনা ভারতে যাচ্ছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের জন্যও সোনার লেনদেন বাড়ছে।

মইনুল খান আরো জানান, পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে ব্যাংকের যে কোনো সন্দেহজনক লেনদেন ঝুঁকিপূর্ণ। এ জন্য অপরাধীরা লেনদেনের ক্ষেত্রে অর্থের চাইতে সোনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে বেশি। ভারতের ব্যবসায়ীরা চোরাচালানের অর্থের বিনিময়ে সোনা গ্রহণ করে থাকতে পারে বলেও তিনি জানান। প্রসঙ্গত, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে সাম্প্রতিককালে বেশ কয়েকটি সোনা চোরাচালানের ঘটনা উদ্ঘাটন করা  গেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতেও দুটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট থেকে ২৫ কেজির বেশি সোনার বার উদ্ধার করা হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক দিলদার আহমেদ সেলিম বলেন, বাংলাদেশে চোরাচালানের যত সোনা ধরা পড়ছে তার প্রায় সবগুলোর গন্তব্য ভারত। এখানে শুধু বাংলাদেশকে রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সোনা আমদানিতে ভারত সরকার কড়াকড়ি আরোপ করায় সেখানে চোরাচালানের ঘটনা বাড়ছে বলে তিনি জানান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ভারতের চোরাচালানকারীরা সোনা চোরাচালানের জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের ব্যবহার করছে। দুবাই, আবুধাবি এবং শারজাহ থেকে যেসব প্রবাসী বাংলাদেশি দেশে আসেন তাদের ওপর ভর করেন চোরাকারবারিরা। বাংলাদেশে আসার পর সীমান্ত দিয়ে এসব সোনা চলে যায় প্রতিবেশী দেশে।

ভারতের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (এফআইইউ) মতে, প্রতিদিন সাতশ কেজি সোনা চোরাচালান হয়ে ভারতে আসে। অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় এ হার অনেক বেশি। চোরাচালানকারীরা এ কাজে অভিনব সব পদ্ধতি অবলম্বন করে। ভারতের শুল্ক গোয়েন্দারা বলছেন, ভারতে যে পরিমাণ সোনা চোরাচালান হয় তার অধিকাংশই হয় আকাশপথে। এ ক্ষেত্রে চোরাচালানকারীরা আন্তর্জাতিক রুটের বিমানে ভারতের কোনো এয়ারপোর্টে আসেন। পরে একজন  স্থানীয় যাত্রী ওই সোনা নিয়ে কোনো রাজ্যে চলে যান। এক হিসেবে দেখা যায়, এক বছরের ব্যবধানে ভারতে সোনা চোরাচালান তিনশ ভাগ বেড়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সোনার ওপর ব্যাপকহারে শুল্ক আরোপ করায় ভারতে সোনা চোরাচালানের ঘটনা বাড়ছে। শৌখিন ভারতীয়দের কাছে সোনা এতই জনপ্রিয় যে এটির আমদানি ব্যয় মেটাতে সরকারের কোষাগারে টান পড়ছিল। এক হিসাবে দেখা যায়, সোনা আমদানিতে শুল্ক বাড়ানোর আগে ২০১২-১৩ অর্থবছরে ভারতের চলতি হিসাবের ঘাটতি ছিল ৮৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। কিন্তু এখন তা এসে দাঁড়িয়েছে ৫০ বিলিয়ন ডলারে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, ভারত সরকারও জানে পাশের দেশগুলো থেকে সোনা চোরাচালান হয়ে ভারতে ঢুকছে। ভারতের সাবেক অর্থমন্ত্রী এবং সিনিয়র বিজেপি নেতা যশবন্ত সিনহা ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসিকে বলেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে ভারতে সোনা চোরাচালান হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে তিনি অবশ্য কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here