তিনশ’ কোটি টাকার বেশি মূল্যের সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ : মওদুদ ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা ।

14

moududবিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও তার ভাই মঞ্জুর আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর গুলশান থানায় মামলাটি করা হয়। একটি সরকারি বাড়ি আত্মসাতের অভিযোগে এ মামলা করা হয়। বাড়িটির বর্তমান মূল্য তিনশ কোটি টাকারও বেশি। দুদকের উপ-পরিচালক হারুনুর রশীদ বাদী হয়ে এ মামলাটি করেন বলে সাংবাদিকদের জানান দুদকের গণসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য। এদিকে দুদক কমিশনার (বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত) মো. সাহাবুদ্দিন (চুপ্পু)  জানান, ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি সম্পত্তি দখলের অভিযোগে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও তার ভাই মঞ্জুর আহমেদের বিরুদ্ধে গতকালই মামলার অনুমোদন দেয় কমিশন। এরপর মামলাটি করা হয়। তিনি আরো জানান, এ ব্যাপারে দীর্ঘদিন অনুসন্ধান করেছে দুদক। এর প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় এমএলএআর (মিউচ্যুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিসটেন্স রিকোয়েস্ট) পাঠিয়েও বিভিন্ন তথ্য আনা হয়েছে।
মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদ রাজধানীর গুলশান এভিনিউর বাড়িটি (এন ডব্লিউ এইচ-৬, হোল্ডিং নম্বর ১৫৯) অবৈধভাবে দখল করে আছেন। ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৯ সালের মধ্যে তিনি এ কাজ করেন। আর এই দখলের সঙ্গে তার লন্ডন প্রবাসী ভাই মঞ্জুর আহমেদও জড়িত।
এজাহার অনুযায়ী বাড়িটি অস্ট্রেলিয়ান ইনজে মারিয়া ফ্ল্যাজ নামের এক মহিলার। তিনি মারা গেছেন। মারিয়া ফ্ল্যাজ ও তার স্বামী পাকিস্তানি নাগরিক মো. এহসান এ বাড়িতে থাকতেন। এক বিঘা ১৩ কাঠা ১৪ ছটাক জমির এই বাড়িটির বর্তমান মূল্য তিনশ’ কোটি টাকারও বেশি। মারিয়া ফ্ল্যাজ ও তার স্বামী বাংলাদেশের স্বাধীন হওয়ার আগে দেশ ছেড়ে চলে যান। স্বাধীনতার পরে সরকার এ সম্পত্তি পরিত্যক্ত হিসেবে ঘোষণা করে তা সরকারি সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। বাড়িটি সরকারি সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। ১৯৭৩ সালের ২ আগস্ট মওদুদ আহমদ এ সম্পদ আত্মসাতের জন্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি তৈরি করেন। পরে তিনি নিজেকে ইনজে ফ্ল্যাজের ভাড়াটিয়া দেখিয়ে সেখানে থাকতে শুরু করেন। এরপর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে মওদুদ আহমদ বিএনপিতে যোগ দেন। ব্যারিস্টার মওদুদ উপ-প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ইনজে ফ্ল্যাজের বাড়িটির হস্তান্তর দলিল তৈরির ব্যবস্থা করেন। যার মূল্য ধরা হয় মাত্র একশ’ টাকা। ১৯৮০ সালে ২১ জুন করা ওই দলিলের নম্বর ২২০৮০। এদিকে ১৯৮৪ সালের ২৫ মার্চ ওই বাড়িটি মহসিন দরবার নামের একজনের নামে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেখানো হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here