তারেক সাঈদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

18

জনতার নিউজঃ অনলাইন ডেস্কঃ

নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন চাকুরিচ্যুত র‌্যাব-১১ এর সাবেক অধিনায়ক অবসরে পাঠানো সেনাবাহিনীর লে. কর্নেল তারেক সাঈদ। ৬ দফায় ৩২ দিনের রিমান্ড শেষে আজ বুধবার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন তিনি।

জবানবন্দিতে তারেক সাঈদ বলেন, ‘সাতজনকে অপহরণের বিষয়টি তিনি জানলেও সকলকে হত্যার বিষয়টি তাকে জানানো হয়নি। অপহরণের পর তাদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে ছেড়ে দেয়া হবে তেমনটাই তাকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু রাতের বেলায় সাতজনকে হত্যার পর বিষয়টি জানানো হয়। আর এ কাজটি করেন মেজর আরিফ ও নূর হোসেনসহ র‌্যাবের কিছু সদস্য। কিন্তু সাতজনকে মারার পর আমি অনেকটাই হতবিহ্বল হয়ে পড়ি। তবে সাতজনকে হত্যার পর বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য লাশ নদীতে ফেলে দেয়ার কথা বলি আরিফকে।

সকাল ১১টা হতে বিকেল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কে এম মহিউদ্দিনের খাস কামরায় সাত খুনের ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলায় তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। জবানবন্দি শেষে বিচারক তারেক সাঈদকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে একই আদালতে গত ৪ জুন আরিফ হোসেন ও পরদিন ৫ জুন এম এম রানা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিজেদের দোষ ও দায় স্বীকার করেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের একজন কমকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সকাল ৮টায় জেলা পুলিশ লাইন হতে তারেক সাঈদকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নারায়ণগঞ্জ আদালতে আনা হয়। পরে তাকে নেওয়া হয় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কে এম মহিউদ্দিনের আদালতে। সেখানে তাকে প্রথমে জবানবন্দি দেয়ার ব্যাপারে চিন্তা ভাবনার সুযোগ দেয়া হয়। সকাল ১১টা হতে জবানবন্দি দেওয়া শুরু করেন তারেক সাঈদ।

সাত খুনের ঘটনায় দুটি মামলা দায়ের হয়। প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও তার ৪ সহযোগীকে হত্যার ঘটনায় নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটির দায়ের করা হত্যা মামলায় প্রথমে জবানবন্দি দেন তারেক সাঈদ। পরে অ্যাডভোকেট চন্দন সরকার ও তার গাড়ি চালক হত্যার ঘটনায় বিজয় পালের দায়ের করা মামলায় জবানবন্দি দেন তিনি।

জবানবন্দিতে কী উল্লেখ করা হয়েছে সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে রিমান্ডে থাকা সময়ে তারেক সাঈদ বারবার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজের দায় অস্বীকার করেছিলেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের খাসখামরায় তারেক সাঈদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। এতে সে বেশ কিছু তথ্য প্রদান করেছে। নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের এস আই আশরাফ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি প্রদানের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here