তারেক রহমান জবাব দিবেন কি ? বঙ্গবন্ধু যদি মহানুভবতা না দেখাতেন তাহলে আজকে আপনার মা,কি জানজোয়ার উপ-পত্নী বা রক্ষিতা থাকতেন ?

166

আবুল খায়ের শাহজাহানঃ-

Tarek-sajuজাতীয় শিক্ষক নেতা ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষক কর্মচারী কল্যান ট্রাস্টের সদস্য সচিব এক সময়ের তুখোড় ছাত্রনেতা কুস্টিয়া ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু, বি,এন,পির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের তীব্র সমালোচনা করে তারেক রহমান কে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুন্ঠনকারী হিসাবে অভিহিত করে বলেছেন দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে বিদেশে স্বেচ্ছায় পালিয়ে থাকা তারেক রহমান জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষনা ও প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে যে অত্যন্ত আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন তাতে দেশবাসী চরমভাবে হতবাক ও বিস্মিত।

এক সাক্ষাতকারে জনাব শাহজাহান আলম সাজু বলেন, শুধু তাই নয় বেগম খালেদা জিয়াও অর্বাচিন তারেকের সাথে সুর মিলিয়ে স্বাধীনতার ৪৩ বছর পর বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা ও আওয়ামীলীগ সম্পর্কে খুবই আপত্তিজনক মন্তব্য করেছেন। হঠাৎ করে মা, ছেলের এই সব অনভিপ্রেত ও অনাকাংখিত বক্তব্য জাতি আজ ক্ষুদ্ধ। অর্বাচিন তারেক রহমানের নির্দেশনায় দূর্বল মস্তিস্ক প্রসুত সির্দ্ধান্তের কারনে বি,এন,পি আজ মুসলীমলীগে পরিনত হতে চলেছে, আর এইভাবে অপরিপক্ষ সির্দ্ধান্তে চলতে থাকলে সাময়িক ভাবে জাতি কিছুটা বি,এন,পির সন্ত্রাসী কার্য্যকলাপের জন্য ক্ষতিগ্রস্থ হলেও অতি নিকট ভবিষ্যতে বি,এন,পি ইতিহাসের অতলগহব্বরে হারিয়ে যাবে এতে কোন সন্দেহ নাই।

প্রখ্যাত সাংবাদিক আবেদ খানের বক্তব্যের বরাত দিয়ে অধ্যক্ষ শাহজাহান সাজু বলেন, রাষ্ট্রধারণা, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ধারনা কিংবা রাষ্ট্রপতি বিষয়ক ধারনা খালেদা জিয়ার নেই, পুথিগত জ্ঞানের কারনেই। আবেদ খানের মতে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা, আনুপার্বিক ইতিহাস, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষন, উত্তাল মার্চ সম্পর্কে কোন কিছুই খালেদা জিয়ার জানা সম্ভব নয়, কারন পাকিস্তানী সেনাবাহীনিতে কর্মরত সেনা অফিসারের স্ত্রীদের রাজনৈ্তিক ঘটনাবলী সম্পর্কে চিন্তাভাবনা, এমনকি কথাবার্তা বলা পর্যন্ত নিয়মবদ্ধভাবে নিষিদ্ধ ছিল। নিছক রঙ করা পুতুলের মতো সেনা অফিসারের পত্নীদের মূখস্ত পরিবেশ, মূখস্ত কথাবার্তা, মূখস্ত জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হতে হতো। তিনি বলেন, তারেক রহমান আপনার মা,র বিদ্যার জোর অষ্টম শ্রেনী। আপনার বিদ্যার জোর কি তা নিয়েও অনেকের প্রশ্ন। আপনি বিদ্যা অর্জন করতে গিয়ে দেশে বিদেশে অনেক প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করেছেন কিন্ত কি ডিগ্রি অর্জন করেছেন তা কিন্ত জাতি জানে না, আমাদের ও জানা নেই।

জনাব শাহজাহান সাজু আরো বলেন,তারেক রহমান এখন হঠাৎ করে বুদ্ধিজীবি সেজে যে তথ্য জাতিকে সরবরাহ করছেন তা হয়ত বাঙালি জাতিকে সাময়িক বিভ্রান্ত করে আপনাদের পেয়ারে পাকিস্তানকে খুশি করার জন্য করেছেন তা বুঝতে কারো বাকি নেই।

তিনি বলেন তারেক রহমান আপনার মা নিজেই স্বীকার করেছেন তিনি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে দেশ ত্যাগ করেননি, ক্যান্টনমেন্টে ছিলেন, তার উপর শাররীক নির্যাতন করা হয়েছে। তারেক রহমান আপনার মা,কে কি কখনো প্রশ্ন করেছেন যে আপনার বাবা একাত্তরে আপনার মাকে ভারতে নিয়ে যাবার জন্য বার বার লোক পাঠানোর পরও কেন তিনি যায়নি ?

তিনি প্রশ্ন করেন আপনার মা, ক্যান্টনমেন্টে বন্দি অবস্থায় নির্যাতিত হয়েছেন বলে ৪৩ বছর পর স্বীকার করলেন। তাহলে কি তিনি বীরিঙ্গনা ? একাত্তরে পাকিস্তানী হানাদারদের অন্যতম প্রধান জেনারেল জানজোয়ারের সাথে আপনার মায়ের কি এমন সম্পর্ক ছিল যে তার মৃত্যুর পরও আপনার মা, সরকারের সমস্ত প্রটোকল উপেক্ষা করে সেই লাশ দেখার জন্য পাকিস্তানে ছুটে গিয়েছিলেন ? তারেক জিয়া বঙ্গবন্ধু কে নিয়ে কটুত্তি করার আগে একবার চিন্তা করা উচিত ছিল আপনি কাকে ছোট করতে চাচ্ছেন । নিশ্চয়ই আপনার জানা থাকার কথা । একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন দেশে আপনার বাবা ফিরে এসে আপনার মাকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করতে চাননি, আপনার মা সেদিন বঙ্গবন্ধুকে পিতা বলে সম্ভোধন করে তার পা জড়িয়ে ধরেছিলেন যেন আপনার বাবাকে বুঝিয়ে তার স্ত্রী হিসেবে তাকে পুর্ণরায় গ্রহন করে তার সংসার জোড়া লাগানোর জন্য। আপনার মাকে জিজ্ঞেস করবেন সেদিন তার যখন কোন আশ্রয় ছিল না তখন কে তাকে আশ্রয় ও শান্তনা দিয়ে নিজের খাটে ঘুমাতে দিয়েছিলেন ? সেদিন যখন কর্নেল সাফায়েত জামিল, জেনারেল ওসমানী সবাই একে একে আপনার বাবাকে বুঝাতে পারলেন না, তখন বঙ্গবন্ধু আপনার বাবাকে বুঝিয়ে, ধমক দিয়ে অবশেষে চাকুরীর ভয় দেখিয়ে আপনার মাকে গ্রহন করতে বাধ্য করেছিলেন।

যদি সেদিন বঙ্গবন্ধু আপনার মায়ের প্রতি মহানুভবতা না দেখাতেন তাহলে আজ তাঁর বা আপনার ঠিকানা কোথায় হতো ? যদি সেদিন দেশ স্বাধীন না হতো তাহলে আপনার মাকে পাকি জেনারেল জানজোয়ার উপ-পত্নী কিংবা রক্ষিতা হিসেবেই বাকি জীবন কাটাতে হতো। পরিশেষে বলতে চাই তারেক জিয়া আপনি অবিলম্বে আপনার সকল উদ্ভট বক্তব্য প্রত্যাহার করুন, সকল সন্ত্রাসী কার্য্যকলাপ পরিহার করে পেট্রোল বোমা মেরে সাধারন নিরিহ মানুষ হত্যার দায়স্বীকার করে জাতীর কাছে ক্ষমা চান। ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না এটা মনে রাখলে আপনার জন্য ভাল হলে হতেও পারে। ইতিহাসের মহানায়কদের প্রতি কটাক্ষ করার আগে আপনার নিজের যোগ্যতা সম্পর্কে জেনে নেওয়া ভাল,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here