তারেক রহমান ও তার মা সংবিধান ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত

16

sansad-adhibatiionক্ষমতাসীন জোটের সদস্যরা বিএনপিসহ ১৯ দলীয় জোটের সমালোচনা করে ক্ষমতাসীন জোটের সংসদ সদস্যরা বলেছেন, নব্য গোলাম আযম সেজে তারেক রহমান ও তার স্বশিক্ষিত মা খালেদা জিয়া দেশ, সংবিধান ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে নতুন ষড়যন্ত্রে নেমেছে। রাজনৈতিক ও আইনগতভাবে তাদের এই ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হবে।
আজ বুধবার রাতে জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এসব কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে চলা এই আলোচনায় অংশ নেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি, আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক, পঞ্চানন বিশ্বাস, হোসনে আরা লুত্ফা ডালিয়া ও ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা এবং বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন ও জাতীয় পার্টির রওশন আরা মান্নান প্রমূখ।
বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, নির্বাচনের পূর্বে অপশক্তিকে রুখে দাঁড়ানোর কোনো বিকল্প ছিল না। ওই নির্বাচন সম্পন্ন করা শুধু যৌক্তিকই ছিল না, ওই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে সামনে এগিয়ে যাওয়া জাতীয় কর্তব্য ছিল। তিনি বলেন, তথাকথিত তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে ফখরুদ্দীন ও মইন উ আহমেদের সেনা সমর্থিত শাসকরা রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করে সামরিক প্রক্রিয়া চিরপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিলেন। সেই ফখরুদ্দীন-মইনুদ্দীনরা এখনও বিচারের বাইরে। যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখনও সামরিক শাসকদের বিচার হচ্ছে, যেমন পাকিস্তানে জেনারেল (অব.) পারভেজ মোশাররফের বিচার চলছে, অথচ দুর্ভাগ্যে, আমরা আজও ফখরুদ্দীন-মইনুদ্দীনদের আইনের মুখোমুখি দাঁড় করাতে পারিনি।
প্রবীণ এই বামপন্থী নেতা বলেন, এখনও বিভিন্ন জায়গা থেকে ষড়যনে্ত্রর আওয়াজ উচ্চারিত হচ্ছে। বিএনপির তারেক রহমান লন্ডনে বসে এবং তাঁর মা খালেদা জিয়া ঢাকায় বসে বললেন ‘জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক ও প্রথম রাষ্ট্রপতি’। এটা ইতিহাসের বিকৃতি ছাড়া আর কিছুই নয়। বিএনপি নেত্রী আমাদের জাতীয সঙ্গীত নিয়েও কটাক্ষ করেছেন, তিনি বলেছেন-গণআন্দোলনের মাধ্যমে নাকি গিনেস বুকে নাম ওঠাবেন। গিনেস বুকে তো তিনি ইতোমধ্যেই রেকর্ড করেছেন। সেটি হলো মিথ্যার রেকর্ড এবং ২৯ ডিসেম্বরের কথিত রোড টু ডেমোক্রেসির নাটক। তিনি আরো বলেন, উপজেলা নির্বাচনে অনিয়ম হয়নি, তা অস্বীকার করি না। কিন্তু সমগ্র নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যে প্রক্রিয়া দেখছি, তা আসলে পুরো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা। ওই নির্বাচনে যতটুকু ভুল-ত্রুটি হয়েছে, সেটির দায় নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) নিতে হবে। কমিশন আরেকটু সক্রিয় ও কঠোর হলে এই অনিয়ম সম্ভব হতো না। স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাতিল করা ঠিক হবে না বলে তিনি দাবি করেন।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে নিপীড়ণ-দুঃশাসনের চিত্র তুলে ধরে অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন বলেন, দেশের এমন কোন পেশার মানুষ নেই তারা জোট সরকারের আমলে নির্যাতনের শিকার হতে হয়নি। হাওয়া ভবন খুলে দেশের অর্থ-সম্পদ লুণ্ঠন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে হাওয়া ভবন খোলার সব পথ বন্ধ করে দিতে হবে। বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনার আগ মুহূর্তে খালেদা জিয়া কোথায় এবং কেন লুকিয়ে পালিয়ে গিয়েছেন, দেশবাসী এখনও তা জানে না। বর্তমান সরকার বিএনপি-জামায়াত সৃষ্ট সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ কঠোর হস্তে দমন করেছে বলেই দেশে কোনো সিরিজ বোমা হামলা, গ্রেনেড হামলা বা সন্ত্রাসী হামলার কোন ঘটনা ঘটেনি। সন্ত্রাসী-জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি আরো বলেন, চিকিৎসার নামে লন্ডনে বসে তারেক রহমান নব্য গোলাম আযম সেজে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। কিন্তু দেশের জনগণের ভাগ্যে নিয়ে আর কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেয়া হবে না। তারেক রহমানের স্বশিক্ষিত মা খালেদা জিয়া দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে আঘাত হানছে। নির্বাচনের আগে মানুষ হত্যা ও রেলপথ উপড়ে ফেলাসহ ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করেছিলো। আজ মা-ছেলে বলছেন-জিয়াউর রহমান নাকি প্রথম রাষ্ট্রপতি! তাদের তো লেখাপড়া নেই, লেখাপড়া থাকলে তারা এই ধরনের কথা বলতে পারতেন না। এই বক্তব্যের জন্য তিনি খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।
সংসদ সদস্যরা বিএনপি-জামায়াত জোট এবং গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে কতিপয় কথিত ‘বুদ্ধিজীবী’র অপতত্পরতার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, নির্বাচনের পূর্বে অপশক্তিকে রূখে দাঁড়ানোর কোন বিকল্প ছিল না। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন ছিল না। এটা ছিল কতগুলো চক্রান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের লড়াই। সেই যুদ্ধে আমরা জয়ী হয়েছি। আগামীতে যে কোন ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় সকলকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here