তারেক দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত: তোফায়েল

12

image_98729বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেয়া ভিডিও বার্তা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা শিল্প এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, আইনের দৃষ্টিতে পলাতক তারেক রহমান স্বাধীনতাবিরোধীদের উসকে দিয়েছেন, বিদেশে বসে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে গণতন্ত্রকে হত্যার অপতত্পরতা চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, তাঁর (তারেক রহমান) বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। তাঁর নির্দেশে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া, আহসান উল্লাহ মাস্টার, মঞ্জুরুল ইমাম, মমতাজ উদ্দিন, গোপালকৃঞ্চ মুহুরী, হুমায়যন কবীর বালু, শামসুর রহমানসহ বহু বরেণ্য ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তার নির্দেশে হওয়া ২১ আগস্ট শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এতে আইভী রহমানসহ ২৪ জন নেতাকর্মী নিহত হন।

আজ শনিবার বিকালে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের পক্ষে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

খালেদা জিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বাধাগ্রস্ত করবেন না। সংঘাতের পথ পরিহার করুন। গণতন্ত্রবিরোধী যেকোনো অশুভ শক্তির ব্যাপারে সচেতন থাকার জন্য তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

‘শান্তি, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’ এ প্রত্যয়কে সামনে রেখে নৌকা প্রতীকে ভোট দেয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, নৌকায় ভোট দিয়ে বাঙালি জাতি ভাষা, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, ভোট ও ভাতের অধিকার পেয়েছে। এই নৌকা জাতীয় নেতা শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাষানী, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর স্বার্থক উত্তরসূরী শেখ হাসিনার নৌকা। এই নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে আওয়ামী লীগকে আরেকবার দেশ সেবার সুযোগ দিন।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক ধারা অক্ষুণ্ন রাখতে রবিবার স্বতস্ফূর্তভাবে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এক্ষেত্রে ইসিকে সার্বিক সহযোগিতা দেয়া অব্যাহত রেখেছে সরকার। কেউ এ নির্বাচন বানচাল কিংবা বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। নির্বাচন বানচালের সাধ্য বিএনপি-জামায়াতের নেই। প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও অতন্দ্র প্রহরীর মতো পাহারা দেবে।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, বিরোধী দলের নেতা খালেদা জিয়া গৃহবন্দী নন, মুক্ত আছেন। এ কারণে তিনি বিবৃতি প্রদান এবং বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে দেখা করতে পারছেন। তার স্বাভাবিক কাজকর্মে কোন বাঁধা নেই। এ সময় তোফায়েল আহমেদ বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, খালেদা জিয়া গৃহবন্দী থাকলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা ও বৃটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন কীভাবে তাঁর সঙ্গে দেখা করলেন?

বিরোধী দলের সঙ্গে সমঝোতা প্রসঙ্গে তোফায়েল আহমেদ বলেন, জাতিসংঘের রাজনীতি বিষয়ক সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর উপস্থিতিতে বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংলাপ হয়েছিল।

সেই সংলাপে নিজের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে তোফায়েল আহমেদ, আমি বিএনপিকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য নির্বাচন ১০ দিন পিছিয়ে দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু বিরোধী দলের ছিল এক কথা। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকলে ও তফসিল স্থগিত করা না হলে তারা নির্বাচনে অংশ নেব না। তাদের নির্বাচনে আনতে সরকারি দলের পক্ষ থেকে চেষ্টার কোনো ত্রুটি করা হয়নি।

আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াত সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, মানুষ হত্যা ও নাশকতার সমালোচনা করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, অবস্থাদৃষ্টে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, ১৯৭১ সালে আমাদের সুমহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয় লগ্নে পলায়নপর পাক হানাদার বাহিনী যে পোড়া মাটি নীতি অনুসরন করে বুদ্ধিজীবী হত্যা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছিল তাদের প্রেতাত্মা বিএনপি-জামায়াত জোট আজ সেই ঘৃণ্য পথ বেছে নিয়ে এক সর্বগ্রাসী ধ্বংসযজ্ঞে মেতে উঠেছে-যা কখনোই গণতান্ত্রিক আন্দোলন হতে পারে না। অথচ খালেদা জিয়া তার লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসী জঙ্গিদের রক্তাক্ত উন্মমত্তাকে গণতান্ত্রিক আন্দোলন বলে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। তারা গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণা দিলেও তাদের আন্দোলনে জনগণের কোন সম্পৃক্ততা নেই।

একাদশ নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তোফায়েল আহমেদ বলেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার পর কোন না কোন সময় একাদশ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সমঝোতার ভিত্তিতে একাদশ নির্বাচন হতে পারে প্রধানমন্ত্রী সে কথাই বলেছেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, প্রেসিডিয়াম সদস্য ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, আহমদ হোসেন, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, উপ-দপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য সুজিত রায় নন্দী, আমিনুল ইসলাম আমিন, একেএম এনামুল হক শামীম প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here