তারেকের রায় এ মাসেই আশা করছেন আইনজীবীরা

13

Tarek+Rahmanমুদ্রা পাচারের অভিযোগে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলার রায় এই মাসেই আশা করছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এ এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে।

আগামী সোমবার শুরু হবে আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন।
বিচারক মোতাহের হোসেনের আদালতে বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর মামলার বাদী দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, “এ মাসেই এ মামলার রায় পাব বলে আশা করছি।”
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দুই ছেলের বিরুদ্ধেই মুদ্রা পাচারের মামলা হয়। এর মধ্যে একটি মামলায় ছোট ছেলে আরাফাত রহমানের ৬ বছর কারাদণ্ড হয়েছে।
আরাফাতের অনুপস্থিতিতে এই মামলার বিচার ও রায় হয়। তিনি রয়েছেন থাইল্যান্ডে। তার বড় ভাই তারেক রয়েছেন যুক্তরাজ্যে।
নির্বাচনের আগে নির্দলীয় সরকারের দাবিতে বিএনপির আন্দোলনের মধ্যে দলটির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান
তারেকের মামরার বিচার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে এসেছে।
তারেকের আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সরকার এ মামলার বিচারকাজ তড়িঘড়ি করে শেষ করতে চাইছে।”
অন্যদিকে মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, “রাজনৈতিক সুবিধা লাভের আশায় আসামি পক্ষ বিচার পেছানোর জন্য নানা রকমের ছলচাতুরির আশ্রয় নিলেও শেষ পর্যন্ত কামিয়াব হচ্ছেন না।”
তারেক ও তার বন্ধু কারাবন্দি গিয়াস আল মামুনের বিরুদ্ধে ২০১১ সালের ৬ জুলাই এই মামলার বিচার শুরু হয়।
ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলাটি দায়ের হয়েছিল ২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর। গত বছরের ২ জুলাই অভিযোগপত্র আদালতে দেয়া হয়।
চলতি বছরের ২৪ অক্টোবর বাদি ও আসামি পক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষের পর রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়, যা শেষ হল বৃহস্পতিবার।
আদালতে তারেক-মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে পেরেছেন দাবি করে দুদকের কৌঁসুলি কাজল বলেন, “আমরা মামলাটি চূড়ান্তভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আসামি তারেক রহমান ও গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।”
রাষ্ট্রপক্ষের ১৩ সাক্ষীর সাক্ষ্য বিশ্লেষণ এবং তার ভিত্তিতে আসামিদের শাস্তি দেয়ার পক্ষে আইনি যুক্তি আদালতে তুলে ধরেন এই আইনজীবী।
এই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, টঙ্গীতে প্রস্তাবিত ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ নির্মাণ কনস্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পাইয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ঘুষ নেন মামুন।
সিঙ্গাপুরে লেনদেনের পর সেখানকার সিটি ব্যাংকে মামুনের হিসাবে জমা রাখা এই অর্থের মধ্যে ৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা তারেক খরচ করেন বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে।
শুনানিতে কাজল বলেন, “মামুন তারেকের সঙ্গে বন্ধুদত্বর সুযোগ নিয়ে অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে বাংলাদেশের ব্যাংককে ফাঁকি দিয়ে অর্থ পাচার করে দেন।”
তিনি জানান, এই মামলায় পলাতক তারেকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল করা গেল কি না, তা আদালতকে জানাতে পররাষ্ট্র সচিবকে নির্দেশ দেয়ার আবেদনও করেছেন তারা।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আটক তারেকের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা হয়। ওই সব মামলায় জামিন নিয়ে তিনি যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে পাঁচ বছর ধরে সেখানেই রয়েছেন তিনি।
খালেদার ছেলের অন্যতম আইনজীবী জয়নাল আবেদীন মেজবাহ জানান, তারেকের বিরুদ্ধে ১৬টি মামলা ছিল, সাধারণ ডায়েরি ছিল একটি।
এর মধ্যে পাঁচটি মামলা বিচারাধীন। সিঙ্গাপুরে অর্থ পাচারের এই মামলা ছাড়া অন্যগুলো হচ্ছে- জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলা, ২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলার দুই মামলা এবং সোনালী ব্যাংকের দায়ের করা ডান্ডি ডাইয়িংয়ের ঋণ খেলাপির মামলা।
একটি মামলা এবং একমাত্র সাধারণ ডায়েরির অভিযোগ থেকে তারেক খালাস পেয়েছেন বলে মেজবাহ জানান। বাকি ১০টি মামলার কার্যক্রম হাই কোর্টের আদেশে স্থগিত রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here