তামিম-ইমরুলে চাপা পড়ছে জিম্বাবুয়ে

12

tamimnews

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামটা তৈরি করা হয়েছে একেবারে সমুদ্রের পাড়েই। ইদানিং গাছপালা বড় হওয়ায় এবং দালানকোঠা বেড়ে যাওয়ায় স্টেডিয়াম থেকে সরাসরি সমুদ্র দেখা যায় না, গর্জনও শোনা যায় না। তবে সমুদ্রের গর্জন ব্যাপারটা কী, তা জিম্বাবুয়ের খেলোয়াড়দের একেবারে হাতে-কলমে দেখিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের হয়ে জিম্বাবুয়েকে এই গর্জন শোনানোর কাজটা করেছেন চট্টগ্রামের ছেলে তামিম ইকবাল এবং চট্টগ্রামের প্রিয় ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েস।

দেশের ভুরি ভুরি ছোট-বড় রেকর্ড ছ্ুঁয়ে ফেলা, ভেঙে ফেলার এই দিনে বাংলাদেশের এই দুই ওপেনার সেঞ্চুরি করে ইতিমধ্যে সিরিজের শেষ এই টেস্টে দলকে প্রতিপক্ষের ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যাচ্ছেন। উদ্বোধনী জুটিতে তামিম-ইমরুলের রেকর্ড ২২৪ রানে ভর করে চট্টগ্রাম টেস্টের গতকাল প্রথম দিন শেষে মাত্র ২টি উইকেট হারিয়ে ৩০৩ রান তুলে ফেলেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ।

উদ্বোধনী জুটিতে দেশের পক্ষে এটিই সর্বোচ্চ রান। এর আগে ২০১০ সালে লর্ডসে এই তামিম-ইমরুল জুটির ১৮৫ রানই ছিলো বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটিতে সর্বোচ্চ রান। আর বাংলাদেশের পক্ষে যে কোন জুটিতে রানের বিচারে এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ। গত বছর মার্চে গল টেস্টে শ্রীলংকার বিপক্ষে ৫ম উইকেট জুটিতে করা আশরাফুল ও মুশফিকের করা ২৬৭ রান যে কোন উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটিতেও রয়েছে ইমরুলের নাম। এবছরের ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রাম টেস্টে দ্বিতীয় উইকেটে শাসসুর আর ইমরুল মিলে করেছিলেন ২৩২ রান।

দেশের ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় বারের মতো দুই ওপেনারই ফিফটি করে ফেলেন। পাশাপাশি বছর ধরে চলতে থাকা উদ্বোধনী জুটির হতাশা কাটিয়ে জুটিতে শতরানও পার করে ফেলেন। এরপর নিজেদের করা ১৮৫ রানের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলেন তারা। দুইজনের মারমুখী ব্যাটিংয়ের ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই এই জুটি দুইশ’ রানের মাইলফলকও ছুঁয়ে ফেলেন। জিম্বাবুয়ের পার্টটাইম বোলার সিকান্দার রাজার বলে মাসাকাদজার হাতে ধরা পড়ার মধ্য দিয়ে বিচ্ছিন্ন হয় ২২৪ রানের উদ্বোধনী জুটি। জুটি ভাঙ্গার আগে দুই ব্যাটসম্যানই করে ফেলেন ব্যক্তিগত শতক। দেশের ইতিহাসে উদ্বোধনী দুই ব্যাটসম্যানের শতকের রেকর্ড এটাই প্রথম। আর দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল এই ব্যাটিং জুটি বাংলাদেশকে অবিস্মরণীয় এক দিন উপহার দেয় এদিন।

তামিম ইকবালের পুরোনো বন্ধু ইমরুল কায়েস এই টেস্টে ফিরেই টানা ব্যর্থতার কারণে স্কোয়াড থেকে বাদ পড়া শামসুর রহমানের বদলে ইনিংস শুরু করার সুযোগ পেয়ে যান। সুযোগের সদ্ব্যবহারও করেছেন ইমরুল। চট্টগ্রামের মাটিতেই করলেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। প্রথম সেঞ্চুরিটিও পেয়েছিলেন এই চট্টগ্রামের মাটিতেই। এবছরের ফেব্রুয়ারিতে শ্রীলংকার বিপক্ষে করেছিলেন ১১৫ রান। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরির এই অবিশ্বাস্য যাত্রাপথে ইমরুল কায়েস একটা জীবন পেলেও দুই জনই অত্যন্ত সাবলীল ক্রিকেট খেলেছেন। খুলনা টেস্টে একেবারে খোলসে ঢুকে পড়া তামিম গতকাল ছিলেন অনেকটাই স্বাচ্ছন্দে। নিজের খেলা ১৫০তম বলটা লেগ স্কয়ারে ঠেলে দিয়ে নিজের শহরে প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরিটা করে ফেলেন তামিম।

 সেঞ্চুরিতে পৌঁছে যাওয়ার পর তামিম আর ইনিংসটাকে খুব বেশি টেনে নিয়ে যেতে পারেননি। ১৭১ বলে ১৪টি চার ও ১টি ছক্কায় সাজানো ১০৯ রানের ইনিংস খেলে ফিরে আসেন তামিম। এরপরও মুমিনুলের সঙ্গে চালিয়ে গেছেন ইমরুল। ২৫৭ বলে ১২টি চার ও ২টি ছক্কায় সাজানো ১৩০ রানের ইনিংস খেলে শেষ পর্যন্ত ইমরুল আউট হন মাসাকাদজার বলে।

তামিম-ইমরুলের বিদায়ের পর উইকেটে আছেন আরো দুই ইনফর্ম ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক (৪৬) ও মাহমুদউল্লাহ (৫)। তামিম-ইমরুলের আড়ালে পড়ে যেতে থাকা মুমিনুল অবশ্য আরো একটা ফিফটির দিকে এগোচ্ছেন। এখন তার সামনে ব্যক্তিগত লক্ষ্যটা হল, ফিফটিটাকে তামিম-ইমরুলের দেখানো পথে সেঞ্চুরিতে পরিণত করা। আর বাংলাদেশের লক্ষ্যটা তামিম-ইমরুল দুই জনই বলে গেছেন—বড় একটা ইনিংস খেলে জিম্বাবুয়েকে রানের নিচেই চাপা দেয়া।

এই টেস্ট শুরুর আগেই বাংলাদেশ অনেক কিছু অর্জন করে ফেলেছে। জিম্বাবুয়েকে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে হারিয়ে সিরিজ জেতার ভেতর দিয়ে র্যাংকিংয়ে এক ধাপ এগিয়ে নয় নম্বরে উঠে এসেছে মুশফিকুর রহিমের দল। শেষ এই টেস্টে দুটো লক্ষ্য ছিল—আরো দাপটের সঙ্গে ম্যাচ জেতা এবং জিম্বাবুয়েকে হোয়াইট ওয়াশ করা। এই দুই লক্ষ্য পূরণেই বাংলাদেশকে সঠিক শুরু এনে দিয়েছেন ইমরুল ও তামিম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here