তবুও ভাল ফল, জেএসসিতে পাসের হার ৮৯ দশমিক ৭১ জেডিসিতে ৯১ দশমিক ১১ শতাংশ

7

Eduজুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার ফল গতকাল রবিবার সারা দেশে একযোগে প্রকাশিত হয়েছে। চতুর্থবারের মতো অনুষ্ঠিত জেএসসি (অষ্টম শ্রেণি) পরীক্ষায় আটটি বোর্ডে গড় পাসের হার ৮৯ দশমিক ৭১ শতাংশ। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত জেডিসি পরীক্ষায় পাসের হার ৯১ দশমিক ১১ শতাংশ। আর সার্বিক পাসের হার ৮৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ। রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও অতীতের সব রেকর্ড ডিঙ্গিয়ে ভালো করেছে শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ গতকাল বেলা সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ফলাফলের কপি হস্তান্তর করেন। পরে বেলা ১ টায় সংবাদ সম্মেলন করে এবারের ফল সম্পর্কে বিস্তারিত জানান।

গতবারের চেয়ে এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ উভয়ই বেড়েছে। গতবারের চেয়ে জেএসসি পরীক্ষায় পাসের হার বেড়েছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং জেডিসিতে বেড়েছে ২ দশমিক ১৭ শতাংশ। গতবার জেএসসিতে পাসের হার ছিল ৮৬ দশমিক ১১শতাংশ। জেডিসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৯০ দশমিক শূন্য ৮৭ শতাংশ। এবার জেএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৯৯৭ জন। গতবার জেএসসিতে পাসের হার ছিল ৪৬ হাজার ৯৮২ জন। এবার জেডিসিতে জিপিএ ৫ পেয়েছে ১৯ হাজার ২২১। গতবার এ সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৭৮৪ জন। প্রসঙ্গত, ঐচ্ছিক বিষয়ের নম্বর যোগ করার ফলে এবার জিপিএ-৫ এর সংখ্যা চারগুণ বেড়েছে।

গতকাল জেএসসির ফল প্রকাশের সাথে সাথে স্কুলগুলোতে খুশির জোয়ার বয়ে যায়। ফল সংগ্রহের জন্য বাবা-মাকে নিয়ে দুুপুরে তারা উপস্থিত হয় স্কুল প্রাঙ্গণে। ফল ঘোষণার সাথে সাথে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। সবচেয়ে বেশি খুশি দেখা গেছে বাবা-মাকে। নামি-দামি স্কুলগুলোতে ছিল অন্যরকম চেহারা। ড্রামের তালে তালে নেচে-গেয়ে শিশুরা বাবা-মায়ের সাথে আনন্দ করে। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অনেকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ফল সংগ্রহ করতে পারেনি। যাদের স্কুল বাসার খুব কাছে তারাই স্কুলে উপস্থিত হয়ে ফল সংগ্রহ করতে পেরেছে। গতকাল ফল প্রকাশের পরপরই মিষ্টির দোকানে ছিল উপচেপড়া ভিড়। দুপুরের পর পরই দোকানের সব মিষ্টি শেষ হয়ে যায়। মোবাইল এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও শিক্ষার্থীরা ফল সংগ্রহ করে।

সংবাদ সন্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও শিক্ষার্থীরা ভালো ফল করেছে। ৪ নভেম্বর পরীক্ষার নির্ধারিত তারিখ থাকলেও বিরোধী দলের কর্মসূচির কারণে তা শুরু হয় ৭ তারিখে। ফলে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা শুরু করা যায়নি। রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে ১১দিনের মধ্যে ৬ দিনের জেএসসিতে ৯ টি এবং জেডিসিতে ৮টি মোট ১৭টি পত্রের পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তন করতে হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক লেখাপড়ায় বিঘ্ন ঘটে। কেন্দ্র হতে উত্তরপত্রসহ পরীক্ষার গোপনীয় কাগজপত্র বোর্ডে আনার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে। উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য বোর্ডসমূহ পরীক্ষকদের মধ্যে প্রতি শুক্রবার এবং রাতে উত্তরপত্র বিতরণ করে।

গতবারের মতো এবারও বরিশাল বোর্ডে পাসের হার ৯৬ দশমিক ৬০ শতাংশ। যা আট বোর্ডের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছাত্র-ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে ঢাকা বোর্ড থেকে। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যার দিক দিয়ে আট বোর্ডে সবচেয়ে এগিয়ে আছে ঢাকা। এ বোর্ডের ৫৫ হাজার ২২৩ জন ছাত্র-ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

এবার মোট ১৮ লাখ ৬২ হাজার ৩৮০ পরীক্ষার্থী অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলো। উত্তীর্ণ ১৬ লাখ ৭৫ হাজার ১০৯ জনের মধ্যে ছাত্র ৭ লাখ ৯৩ হাজার ৪৪৬ জন; আর ৮ লাখ ৮১ হাজার ৬৬৩ জন ছাত্রী।

জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ঢাকা বোর্ডসহ সারাদেশে এবারও প্রথম স্থান অর্জন করেছে ভিকারুন নিসা নূন স্কুল । দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ, মতিঝিল ও তৃতীয় রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

কেউ পাস করেনি এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা জেএসসিতে ৩৩ ও জেডিসিতে ২৪ টি। শতভাগ পাস করেছে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা জেএসসিতে ৩ হাজার ৪৮৬ এবং জেডিসিতে ৪ হাজার ৯৯৭টি।

ঢাকা বোর্ড : এই বোর্ডে অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থী ছিল ৪ লাখ ৯৮ হাজার ৯০০ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৬৬২ জন। পাসের হার শতকরা ৮৭ দশমিক ৯৩ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৫ হাজার ২২৩ জন। এই বোর্ডে প্রথম হয়েছে রাজধানীর ভিকারুন নিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ।

রাজশাহী বোর্ড : এই বোর্ডে অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৮৪ হাজার ৪৫০ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ১৬৬ জন। পাসের হার শতকরা ৯৩ দশমিক ৮৮ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০ হাজার ৫২৩ জন। এই বোর্ডে প্রথম হয়েছে ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ।

কুমিল্লা বোর্ড : এই শিক্ষা বোর্ডের পাসের হার ৯০ দশমিক ৪৫ ভাগ। এবছর এই বোর্ডে অংশ নেয়া পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫০ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৯৬৯ জন শিক্ষার্থী। পাসের হার ৯০ দশমিক ৪৫ ভাগ। মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৬ হাজার ৯৫ জন শিক্ষার্থী। ফলাফলে এই বোর্ডে প্রথম হয়েছে কুমিল্লা জিলা স্কুল।

যশোর বোর্ড : এই বোর্ডে অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৭৭ হাজার ১৫ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫৯৩ জন। পাসের হার শতকরা ৮৯ দশমিক ০৩ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৪ হাজার ৭০৪ জন । এই বোর্ডে প্রথম হয়েছে সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়।

চট্টগ্রাম বোর্ড : এই বোর্ডে অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৩৮ হাজার ২৫ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৮৮৭ জন। পাসের হার শতকরা ৮৬ দশমিক ১৩ ভাগ। মোট পাস করা পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৪ হাজার ১০৫ জন । এ বোর্ডে প্রথম হয়েছে খাস্তোগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।

বরিশাল বোর্ড : এ বোর্ডে অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থী ছিল ৮৫ হাজার ৬৭৫ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ৮২ হাজার ৭৬৮ জন। মোট পাসের হার ৯৬ দশমিক ৬০ শতাংশ। এবার বোর্ডে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০ হাজার ৭৬৩ জন । ফলাফলে এই বোর্ডে প্রথম স্থানে রয়েছে- বরিশাল সরকারি বালিকা বিদ্যালয়।

সিলেট বোর্ড : এই বোর্ডে অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থী ছিল ৯৫ হাজার ২২৭ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ৮৬ হাজার ৮০১ জন। পাসের হার শতকরা ৯১ দশমিক ১৫ ভাগ। মোট পাস করা পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ৭৪৮ জন । এই বোর্ডে প্রথম হয়েছে সিলেট ক্যাডেট কলেজ।

দিনাজপুর বোর্ড : এই বোর্ডে অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৭৪ হাজার ৮৫৮ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪৭৩ জন। পাসের হার শতকরা ৮৮ দশমিক ৯১ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫ হাজার ৮৩৬ জন। এই বোর্ডে প্রথম হয়েছে ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, রংপুর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here