ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ,পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর না করা পর্যন্ত মন্ত্রিত্ব থাকবে

12

pm vcপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মন্ত্রিসভার সদস্যরা সম্প্রতি যে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তাতে রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর না করা পর্যন্ত তারা স্বপদে বহাল থাকবেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র দিলেই পদত্যাগ বলে বিবেচিত হয় না। রাষ্ট্রপতি তাদের পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করলেই পদগুলো শূন্য হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজয় একাত্তর হল, শহীদ আবুল খায়ের ভবন, বঙ্গবন্ধু টাওয়ার ও সিনিয়র শিক্ষকদের জন্য নির্মিত আবাসিক ভবনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রসঙ্গত, মন্ত্রিসভার সব সদস্য গত সোমবার প্রধানমন্ত্রীর হাতে পদত্যাগপত্র জমা দেন। আর এরমধ্য দিয়ে নির্বাচনকালীন ‘সর্বদলীয়’ সরকার গঠনে মন্ত্রিসভার পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে বিএনপিসহ কয়েকটি মহল থেকে দাবি করা হয়, সংবিধান অনুযায়ী পদত্যাগপত্র দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মন্ত্রীদের পদ শূন্য হয়ে গেছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকে সংবিধান ‘ভালো করে না পড়েই, না বুঝেই’ মন্তব্য করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে মন্ত্রীরা কেবল তাদের পদত্যাগের ইচ্ছা পোষণ করেছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচন এগিয়ে এলে স্বভাবতই মন্ত্রিসভার আয়তন কমবে। আমরা চাইলে পুরো মন্ত্রিসভা ভেঙে দিতে পারতাম; কিন্তু আমি তাদের (মন্ত্রীদের) পদত্যাগপত্র জমা দিতে বলেছি এবং তারা সেটা করেছেন। এ নিয়ে দেশে অহেতুক সমালোচনা হচ্ছে। তিনি বলেন, অনেকে বলছেন পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মন্ত্রিত্বের পদ শূন্য হবে; কিন্তু তারা এ ব্যাপারে রাষ্ট্রপতির ভূমিকার কথা ভুলে গেছেন। তারও ভূমিকা রাখার বিষয় আছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীদের পদত্যাগ নিয়ে বক্তব্যের সমর্থনে দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বলেন, সোহেল তাজ পদত্যাগপত্র দিয়েছিলেন। আমি যতোদিন গ্রহণ করিনি ততোদিন তিনি স্বপদে বহাল ছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভায় কারা থাকবেন সেই সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা এককভাবে প্রধানমন্ত্রীর। যদি প্রধানমন্ত্রী না থাকেন, কোনো মন্ত্রিসভাও থাকবে না; কিন্তু সংবিধান অনুযায়ী যেকোনো সময় মন্ত্রিসভা পুনর্বিন্যাস করার ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর রয়েছে। তবে নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভা ছোট হবে। প্রধানমন্ত্রী কাকে রাখবেন, কাকে বাদ দিবেন সে বিষয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাব উত্থাপন করবেন।

সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার পর একটা জাতীয় নির্বাচনও সুষ্ঠু হয়নি, সংবিধান অনুযায়ী হয়নি। এবার সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। অবৈধভাবে কেউ ক্ষমতা নেবে, সংবিধানে এমন কোনো ফাঁক-ফোকর রাখা হয়নি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী মধ্যযুগের সাহিত্যকীর্তি মনসামঙ্গলের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, লখিন্দর ও বেহুলার বাসর ঘর লোহা দিয়ে বানানো হয়েছিল। সেখানে সুঁই ঢোকার মতো ফাঁক রাখা হয়েছিল। আর সেই পথ দিয়েই সাপ ঢুকে পড়ে। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা সংবিধানে সেরকম কোনো ফাঁক রাখিনি। অবৈধভাবে কেউ যাতে ক্ষমতা দখল না করতে পারে, সে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আগামী প্রজন্মের জন্য সুন্দর ব্যবস্থা রেখে যেতে চাই। অ্যাডহক ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা না রেখে গণতন্ত্রের জন্য সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তার নিজের বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, এটা আমার বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম কখন আসেন, সে বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৬২ সালে যখন ছাত্র আন্দোলন হয়, তখনই প্রথম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন তিনি। বদরুন্নেসা কলেজ ও ইডেন কলেজে পড়ার সময় নানা আন্দোলনের সুবাদে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসতেন। পরে এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই বাংলা বিভাগে তিনি অনার্সে ভর্তি হন ১৯৬৭ সালে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ ঢুকছিলাম, তখন মনে হয়েছিল, আবার যদি হারানো দিনগুলো ফিরে পেতাম; কিন্তু সেটা তো আর সম্ভব নয়। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান চিরদিন অম্লান থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের সফলতা তুলে ধরে বলেন, আমরা যথেষ্ট পরিমাণ বিদ্যুত্ উত্পাদন করেছি। আমরা ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদনে সফল হয়েছি। এটা নিয়েও নানা সমালোচনা হয়েছে। কুইক রেন্টাল নিয়েও নানা কথা হয়েছে। মধ্যরাতের টকশোতেও নানা কথা হয়েছে। আমি জানি, আমি সততার সঙ্গে কাজ করছি, দেশের উন্নয়নে কাজ করছি। আর সে কারণে সেসব কথায় কান দেইনি। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। আমরা জানি, কীভাবে সততার সঙ্গে কাজ করতে হয়, কীভাবে দেশের কল্যাণে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের সে শিক্ষাই দিয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here