ঢাকা আসতে শুরু করেছে ১৮ দলের নেতা-কর্মীরা

12

18 dolবিরোধী দলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আহ্বানে আগামী রবিবার ‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রা’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে ঢাকায় আসতে শুরু করেছেন ১৮ দলের নেতা-কর্মীরা। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে সংগঠিতভাবে না এসে বিচ্ছিন্নভাবে যে যার মতো করে রাজধানীতে ঢুকছেন তারা। গতকাল বুধবার সকাল থেকেই সড়ক, রেল ও নৌ-পথে তারা ঢাকা অভিমুখে রওনা দেন। আজ শুক্রবারের মধ্যেই সারাদেশ থেকে বেশিরভাগ নেতা-কর্মীকে ঢাকায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, রবিবারের কর্মসূচিকে কেন্দ করে একাধিক বিকল্প করণীয় নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে। সরকার বাধা দিলে ওইদিন ঢাকাসহ সারাদেশে তাত্ক্ষণিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি ফের টানা অবরোধ এমনকি অসহযোগ আন্দোলন কর্মসূচির ডাক দিতে পারেন খালেদা জিয়া। আর যদি রাজধানীর নয়াপল্টনে লোকজন জড়ো হতে পারেন, কিন্তু খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে বের হতে দেয়া না হয়- এক্ষেত্রে সমবেত লোকজনের উদ্দেশে তার একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনানো হতে পারে, এমনকি তার রেকর্ডকৃত ভিডিও বক্তব্য প্রচার করার সম্ভাবনাও রয়েছে।

এ ব্যাপারে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শাসসুজ্জামান দুদু বলেন, শান্তিপূর্ণ এই কর্মসূচিতে সরকার বাধা দিলে দায় সরকারকেই নিতে হবে। তিনি বলেন, দেশে তো এখন গণতন্ত্র নেই। গণতন্ত্র না থাকলে কী কী হতে পারে, সেসব বিষয় মাথায় রেখেই আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপি নেতা এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান এমপি  বলেন, ‘নেতা-কর্মীরা দু’একদিন আগেই যার যার মতো করে ঢাকায় পৌঁছে যাবেন। রবিবার সবাই নয়াপল্টনে জড়ো হবেন।’

এদিকে ১৮ দল সূত্রে জানা গেছে, কর্মসূচি সফল করা নিয়ে জোট নেতাদের মধ্যে সংশয়ও রয়েছে। তারপরেও এই কর্মসূচির মাধ্যমে সর্বশক্তি প্রয়োগের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে জোটের অন্যতম শরিক জামায়াত সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ কর্মসূচিতে জোটের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি সুশীল সমাজ, আইনজীবী, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, চিকিত্সক ও সাংস্কৃতিক কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার লোকজনকেও সম্পৃক্ত করার কাজ চলছে। বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ  বলেন, সরকার, নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ রবিবারের কর্মসূচির অনুমতি দেবে না, ঢাকায় ঢুকতে পথে-পথে বাধা দেয়া হবে এবং যানবাহনের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হবে- এমনটি প্রায় ধরে নিয়েই রবিবারের কর্মসূচি সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন, গণতন্ত্রের অভিযাত্রা কর্মসূচিকে ভন্ডুল করতে সরকার প্রাণপণ চেষ্টা করছে। কর্মসূচির সফলতা আঁচ করতে পেরে সরকার শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে যে কোনো উপায়ে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।

অন্যদিকে, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ শীর্ষক এক আলোচনা অনুষ্ঠানে বলেছেন, এই কর্মসূচিতে কোনো ধরনের বাধা বা ষড়যন্ত্র বরদাস্ত করা হবে না। যেখানে বাধা আসবে সেখানেই আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা হবে।

খালেদা জিয়ার বাড়ি ও কার্যালয়ে যাতায়াতেও কড়াকড়ি

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত মঙ্গলবার কর্মসূচি ঘোষণার পর ওইদিনই দিবাগত রাত ৩টা থেকে তার গুলশানের বাসার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কার্যত তার কাছে দলীয় নেতা-কর্মীদের কাউকেই ঘেঁষতে দেয়া হচ্ছে না। গতকাল তার বাড়ি ও কার্যালয়ে কর্মচারীদেরও যাতায়াতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান  জানান, গতকাল সকাল থেকে কাউকেই খালেদা জিয়ার বাড়ি ও কার্যালয়ে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। পুলিশ দাবি করেছে, ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে’ খালেদা জিয়ার বাসভবন ও কার্যালয়ের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

তবে বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, রবিবারের কর্মসূচি যেন সফল না হয় এবং নেতা-কর্মীরা যেন আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন, সেজন্যই দলীয় প্রধানকে তাদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। কর্মসূচি নিয়ে তিনি যেন দল ও জোটের নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দিতে না পারেন, সেজন্যই কাউকে তার কাছে যেতে দেয়া হচ্ছে না। যারা যাচ্ছে তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।

জেলায়-উপজেলায় বৈঠক ও ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু

ঢাকামুখী গণতন্ত্রের অভিযাত্রা সফল করতে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিএনপি ও ১৮ দলের নেতারা গত দু’দিন ধরে দফায়-দফায় বৈঠক করছেন। কোনো কোনো স্থানে প্রকাশ্যে, কোথাও গোপনে এসব বৈঠক হচ্ছে। কর্মসূচির পক্ষে জনমত গঠনে কোনো কোনো জায়গায় প্রচারপত্রও বিলি করা হচ্ছে। এছাড়া গতকাল দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির সুযোগেও দেশের বিভিন্ন জেলায় মিছিল-সমাবেশ করেও কার্যত রবিবারের কর্মসূচির প্রস্তুতি নিয়েছেন ১৮ দলের মাঠ নেতা-কর্মীরা।

রবিবারের কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ১৮ দল কর্মীরা বরযাত্রী ও রোগী সেজে এবং বিদেশ যাত্রাসহ বিভিন্ন অজুহাতে গোপন পরিচয়ে নিজেদের মতো করে ঢাকায় আসছেন। আগের অভিজ্ঞতার কারণে এবার আর তারা নগরীর আবাসিক হোটেলগুলোতে উঠছেন না। যতটুকু সম্ভব চেষ্টা করছেন আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও দলীয় সহকর্মীদের বাসা-অফিসে ওঠার। এরকম ব্যবস্থা যাদের নেই, তারা ঢাকার কাছাকাছি স্থানগুলোতে আবাসিক হোটেলসহ পরিচিতজনদের বাসায় উঠছেন।

হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকদেরও জড়ো করার চেষ্টা

সূত্রমতে, রবিবারের কর্মসূচিতে হেফাজতে ইসলামের দেশব্যাপী থাকা নেতা-কর্মীদেরও যুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে, চট্টগ্রাম থেকে হেফাজতের কর্মী-সমর্থকদের রাজধানীতে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। জানা গেছে, কুষ্টিয়া জেলা থেকে হেফাজতের বেশকিছু নেতা-কর্মী গতকাল সকাল থেকে বাসে-ট্রেনে করে ঢাকায় আসা শুরু করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here