ডা. ইভা হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

46

Dr Ivaরাজধানীর দক্ষিণ খানের আমতলা ব্র্যাক ক্লিনিকের চিকিত্সক সাজিয়া আফরিন ইভাকে (২৮) ধর্ষণ চেষ্টার পর হত্যার দায়ে ওই ক্লিনিকেরই তত্ত্বাবধায়ক মো. ফয়সালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার দুপুরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক এ বি এম নিজামুল হক তাঁর জনাকীর্ণ ট্রাইব্যুনাল কক্ষে এ রায় দেন।

রায়ে বলা হয়, সাক্ষ্য প্রমাণে আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ইভাকে হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতাবে প্রমাণিত হয়েছে। এটি একটি নির্মম হত্যাকাণ্ড। এ কারণে আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হলো। ট্রাইব্যুনাল রায়ে বলেন, আসামির মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত তাকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। তবে রায় কার্যকর করার আগে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারার বিধান মতে হাইকোর্টেও অনুমোদন নিতে হবে। ট্রাইব্যুনাল মামলার নথি অবিলম্বে হাইকোর্টে পাঠাতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। আসামি ইচ্ছে করলে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন বলে রায়ে বলা হয়।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০১২ সালের ২৯ নভেম্বর রাতে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে চিকিত্সক ইভাকে হত্যা করে আসামি ফয়সাল। ক্লিনিকের তিন তলার একটি কক্ষে থাকতেন ফয়সাল। একই তলায় আরেক পাশে চিকিত্সকদের বিশ্রামাগার। ওইদিন কাজ শেষে বিশ্রামাগারে ছিলেন ইভা। রাত সাড়ে ১২টার দিকে ফয়সাল দরজায় করাঘাত করেন।

দরজা খোলা মাত্রই তিনি কক্ষে ঢুকে ইভাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। ইভা বাধা দিতে থাকলে উভয়ের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয় এবং এক পর্যায়ে তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে নিজের কক্ষে চলে যান ফয়সাল। পরে পুলিশ ফয়সালকে গ্রেপ্তার করলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে তিনি হত্যার দা স্বীকার করেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় নিহত ইভার বাবা মো. মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “এ রায়ে আমি সন্তুষ্ট তবে এ রায় দ্রুত কার্যকর করা হলে খুশি হবো।” মামলার নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, চিকিত্সক ইভা ২০০৮ সালে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। নিহত হওয়ার তিন মাস আগে তিনি ব্র্যাকের ক্লিনিকে খণ্ডকালীন চিকিত্সক হিসেবে চাকরি করতেন। নিহত ইভার বাবা মনিরুল ইসলাম ঘটনার পরের দিন দক্ষিণখান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here