ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল জামায়াতের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ

17

image_110986জামায়াতের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের ব্যাপারে তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার তদন্ত প্রতিবেদনটি চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপুর কাছে জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান। ৩৭৩ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনসহ মোট ৯ হাজার ৫৫৭ পৃষ্ঠার নথিপত্র জমা দেন তিনি। প্রতিবেদনে জামায়াতে ইসলামী ও দৈনিক সংগ্রাম নিষিদ্ধ করার আহবান জানিয়েছে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এই প্রতিবেদন পেশের পর রাষ্ট্রপক্ষ কবে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করবে সে বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি।

তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর গোলাম আরিফ টিপু বলেন, নুরেমবার্গ ট্রায়ালে সংগঠনের বিচারের পর এবার জামায়াতের বিরুদ্ধে একাত্তরে সংঘটিত গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হতে যাচ্ছে। এই বিচার সারাবিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের নেতৃত্বে রাষ্ট্রপক্ষের সাত সদস্যের একটি টিম তদন্ত প্রতিবেদনটি যাচাই-বাছাই করে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করবে।

এ বিষয়ে তুরিন আফরোজ বলেন, সাধারণত প্রতিটি মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন যাচাই-বাছাইয়ে সময় নেয়া হয়। সাত সদস্যের একটি টিম কঠোর পরিশ্রম করছে। খুব শিগগিরই তা ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে। তবে কোন ট্রাইব্যুনালে জামায়াতের যুদ্ধাপরাধ মামলার কার্যক্রম পরিচালিত হবে সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানাননি। তদন্ত প্রতিবেদন জমাদানকালে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি জেয়াদ আল মালুম, সাইফুল ইসলাম, তাপস কান্তি বল, রেজিয়া সুলতানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

গত বছরের আগস্টে তদন্ত শুরুর সাত মাস পর গত মঙ্গলবার এ প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। প্রতিবেদনে জামায়াতের বিরুদ্ধে সাত ধরনের যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ পাওয়ার কথা উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামী ও দৈনিক সংগ্রাম নিষিদ্ধ করার আহবান জানিয়েছে সংস্থাটি। এসব অপরাধ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালস আইনের ৩ (২) এবং ৪ এর (১) ও (২) ধারার আওতাভুক্ত বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, জেনেভা কনভেনশন ও অন্য যেকোন আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন, মানবতা বিরোধী অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা ও ষড়যন্ত্র এবং এসব অপরাধ ঠেকাতে ব্যর্থতাসহ সাত ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে জামায়াতের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগে শুধু নিষিদ্ধ নয়, ভবিষ্যতে জামায়াতে ইসলামীর ভাবাদর্শ নিয়ে যাতে কেউ রাজনীতি করতে না পারে সে বিষয়টিও নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এখন পর্যন্ত নির্বাহী আদেশে দলটি কয়েকবার নিষিদ্ধ হয়েছে। একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনী দীর্ঘ নয় মাস মানুষের ওপর নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায়। পাক বাহিনীকে এ হত্যাযজ্ঞে সিদ্ধান্ত নিয়ে সহযোগিতা করে জামায়াতে ইসলামী। ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামী ও তার সহযোগী সংগঠন আল বদর, রাজাকার ও তত্কালীন দৈনিক পত্রিকা ও দলটির মুখপাত্র সংগ্রাম পত্রিকা মানবতাবিরোধী সব অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল। সাংগঠনিকভাবে এর কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল জামায়াত ও তার অঙ্গ-সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here