জেএমবি সদস্য ছিনতাই আল-কায়দার এজেন্টদের তত্পরতার ইঙ্গিত :কামরুল

19

kamrul
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, আবার নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন জেএমবি সদস্যকে ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা আল-কায়দার এজেন্টদের এই দেশের তত্পরতার ইঙ্গিত দেয়। আজ রবিবার বিকালে রাজধানীর খিলগাঁও জোড় পুকুর মাঠে ঢাকা মহানগরের ৩টি থানা, ৭টি ওয়ার্ড ও ৩টি ইউনিয়নের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

কামরুল বলেন, জামায়াত-হেফাজত আল-কায়দার এজেন্ট, বিএনপি ভাব শীষ্য। বঙ্গবন্ধুর হত্যার মধ্য দিয়ে বিএনপির জন্ম। এরা এদেশের সকল হত্যাকাণ্ডে জড়িত। উল্লিখিত তিন সংগঠনের ভাষা ও অবয়ব সবই এক। তবে বাংলাদেশকে কোন অবস্থাতেই তালেবানী রাষ্ট্র বানাতে দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, বিএনপি আজ যে শান্তিপূর্ণ রাজনীতি করছে এটা তাদের স্থায়ী রূপ নয়, অস্থায়ী রূপ। তারা আবার যে কোন সময় দেশে নৈরাজ্য তৈরী করতে পারে। তাদের কেউ মধ্যবর্তী নির্বাচনে কথা বলেন, কেউ সংলাপের কথা বলেন। কিন্তু ৫ জানুয়ারী নির্বাচনের মাধ্যমে অস্থিতিশীল অবস্থা থেকে বাংলাদেশে শান্তি ফিরে এসেছে। নির্বাচন নিয়ে মানুষের এখন মাথা ব্যথা নেই।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিএনপিকে ভয় করি না। আমরা জনগণকে ভয় পাই। আমরা যদি ভুল করি তবে জনগণ আমাদের ক্ষমা করবে না। যারা আন্দোলন করতে ভয় পায় আমরা তাদের ভয় করি না। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আমরা যা বলেছি তাই করেছি, আপনি (খালেদা) কী বললেন না বললেন তাতে কিছু আসে যায় না। কারণ আপনি এখন আর বিরোধী দলীয় নেতা নন। ভয় দেখিয়ে-মানুষ হত্যা করে নির্বাচন বানচাল করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আল্লাহর রহমতে তা পারেন নি।

তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে খালেদা জিয়া বললেন এই সরকার নাকী অবৈধ। আমরা সকলের অংশগ্রহণে নির্বাচন করতে চেয়েছিলাম। তিনি নির্বাচন বানচাল করতে চেয়েছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন দেশে গণতন্ত্র না থাকে। তাই নির্বাচনে আসেন নি। মানুষ হত্যা করে তিনি মনে করেছিলেন সর্ব দলীয় সরকার নির্বাচন করতে পারবে না। কিন্তু আমরা নির্বাচন করেছি, ক্ষমতায় এসেছি, বিদেশি বন্ধুরাও সমর্থন দিয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, নির্বাচন করে আমরা ক্ষমতা এসেছি ৫ বছরই ক্ষমতায় থাকবো। আপনি এখন বিরোধী দলীয় নেতা নন, বিএনপির নেত্রী। বিএনপি প্রথম খেলায় হেরে গেছে। খালেদা জিয়া নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মেরেছেন। তাদের হুঙ্কারে কিছুই হবে না জয় আমাদের হবেই। আগামী দিনে বিএনপি-জামায়াত রাস্তায় নামতে পারবে না।

সামনে কঠিন দিন উল্লেখ করে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, বিএনপি-জামায়াত বসে গভীর ষড়যন্ত্র করছে। তারা সুযোগ পেলেই ছোবল মাড়বে। সুযোগ কিন্তু দেওয়া যাবে না। খালেদা জিয়া জামায়াতকে নিয়ে যতই মানুষ হত্যা করুক, আমরা জনগণকে নিয়ে মোকাবেলা করবোই। পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যা করে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় যেতে চাইলেও আমরা সে সুযোগ দেব না।

সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগকে নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। আমাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আমরা হবো না। আমাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ জামায়াত-বিএনপি। তাদেরকে মোকাবেলা করতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নামতে হবে। আমাদের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ আছে।

জাতীয় সংগীতের সঙ্গে পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর কোরআন তেলওয়াত করা হয়। সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্য দিয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজ। দীর্ঘ ৯ বছর পর খিলগাঁও, সবুজবাগ, মুগদা থানা ও ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭ নং ওয়ার্ড এবং মান্ডা, দক্ষিণগাও, নাসিরাবাদ ইউনিয়নের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খিলগাঁও থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলমগীর চৌধুরী। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ফয়েজ উদ্দিন মিয়া, মুকুল চৌধুরী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন, ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সহিদুল ইসলাম মিলন প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here