জিয়া ট্রাস্ট মামলায় বিচারক নিয়োগ নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত আদেশ খালেদা জিয়ার রিট আবেদন

10

 

 

জিয়া অরফানেজ ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বিচারক নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার দায়েরকৃত দুটি রিট আবেদনের ওপর দ্বিধাবিভক্ত আদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফারাহ মাহবুব রুল জারির পাশাপাশি মামলার বিচারকার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন। তবে কনিষ্ঠ বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দ দুটি রিট আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেন। গতকাল রবিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট ডিভিশন বেঞ্চে এই ঘটনা ঘটে। হাইকোর্টের দ্বিধাবিভক্ত এই আদেশের পর মামলার নথি এখন প্রধান বিচারপতির কাছে যাবে। প্রধান বিচারপতি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টের তৃতীয় বেঞ্চে পাঠাবেন বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

প্রসঙ্গত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়েরকৃত জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় গত ১৯ মার্চ খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানসহ নয় জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩। আগামী ১৯ জুন মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। দুটি মামলায় বিচারক নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ১২ মে খালেদা জিয়ার পক্ষে অ্যাডভোকেট এম আসাদুজ্জামান হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করেন। ওই আবেদনে বলা হয়, ক্রিমিনাল ল’ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট -১৯৫৮ এর ৩ ধারায় রয়েছে, এ ধরনের মামলার বিচারকাজ পরিচালনার জন্য যিনি বিচারকের দায়িত্ব পালন করবেন গেজেট নোটিফিকেশন করে যথাযথ কর্তৃপক্ষ তাকে নতুন করে নিয়োগ দেবে। কিন্তু এ দুটি মামলার বিচারকাজ পরিচালনাকারী ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক বাসুদেব রায়ের নামে কোনো গেজেট নোটিফিকেশন জারি করা হয়নি। যেহেতু গেজেট নোটিফিকেশন না করে তাকে এই মামলার বিচারের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সেহেতু এই বিচারক কার্যক্রম বেআইনি ও অবৈধ। এ কারণে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করা হোক। আদেশে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক অধিক্ষেত্র ভাগ করে ২০০৭ সালের ২৫ এপ্রিল জারি করা গেজেট এবং মামলার বিচার কার্যক্রম কেন বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এই মর্মে চার সপ্তাহের রুল জারি করেন। অপরদিকে এই আদেশের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে কনিষ্ঠ বিচারক পর্যবেক্ষণসহকারে রিট আবেদন দুটি সরাসরি খারিজ করে দেন। আদেশ প্রদানকালে খালেদা জিয়ার পক্ষে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট এজে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং রাষ্ট্রপক্ষে এটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা, মমতাজউদ্দিন ফকির ও দুদকের পক্ষে অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে অভিযোগ গঠন আদেশ বাতিল চেয়ে খালেদা জিয়ার করা দুটি রিভিশন মামলা গত ২৩ এপ্রিল খারিজ করে দেয় হাইকোর্টের আরেকটি ডিভিশন বেঞ্চ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here