জিয়াউর রহমান প্রথম রাষ্ট্রপতি নন, প্রথম খুনি

18

sansad-adhibatiionরাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াসহ জিয়া পরিবারের কঠোর সমালোচনা করেছেন সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। তাঁরা বলেছেন, জিয়াউর রহমান প্রথম রাষ্ট্রপতি নন, প্রথম খুনি। তাঁর নির্দেশেই বহু সামরিক ও বেসামরিক মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। তাঁকে যারা প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দাবি করছেন তাঁদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
আজ সোমবার বিকেলে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। আইন প্রণয়ন কার্যক্রম শেষে সাধারণ আলোচনা শুরু হয়। এই আলোচনায় অংশ নেন সরকারি দলের আবদুল মতিন খসরু, আবদুল মান্নান, আব্দুর রহমান, সাবেক মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, বজলুল হক হারুন, এ কে এম এ আওয়াল, কাজী রোজী ও ফজিলাতুন নেসা বাপ্পী, জাতীয় পার্টির নাসিম ওসমান, ফখরুল ইমাম ও নূর-ই হাসনা লিলি চৌধুরী এবং ওয়ার্কার্স পার্টির ফজলে হোসেন বাদশা।
মুজিবনগরের ঘোষণা পাঠ করে অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু বলেন, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার প্রথম ঘোষণা করেন। তিনিই স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি। তাঁর নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছে। রাজনৈতিক নেতৃত্বে যুদ্ধ হয়েছে। সামরিক নেতৃত্বে নয়। জিয়াউর রহমান তখন কোথায় ছিলেন। ৭১ সালের ২৬ মার্চের আগে তাকে তখন এ দেশের মানুষ চিনত না। আজ তাঁকে দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বলে দাবি করছেন বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তাঁর ছেলে তারেক রহমান। এটা তাঁদের পাগলামি ছাড়া আর কিছুই না। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান কিভাবে দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হলেন? কে তাঁকে মনোনয়ন দিয়েছিল ?
আলোচনায় অংশ নিয়ে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বক্তব্যের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের আবদুল মান্নান বলেন, নির্বাচনে না এসে আম-ছালা দুটোই হারিয়েছেন খালেদা জিয়া। জামায়াতের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে নির্বাচন বর্জন করলেও এখন তিনি দলের অস্তিত্ব ঠেকাতে নাকে খত দিয়ে উপজেলা নির্বাচনে এসেছেন। নিজের ভুলের জন্য বিরোধী দলের নেতার পদ হারিয়েছেন, আগামীতে বিএনপির চেয়ারপারসনের পদে থাকতে পারবেন কি না ভেবে দেখুন। খালেদা জিয়া কিসের নির্বাচন চান? নির্বাচন হবে পাঁচ বছর পর ২০১৯ সালে। সেই নির্বাচনও তত্ত্বাবধায়ক নয়, শেখ হাসিনার অধীনেই হবে। একাত্তরে নিজের অবস্থান জাতির সামনে তুলে ধরার জন্য খালেদা জিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জেনারেল জিয়া মুক্তিযোদ্ধা নন, পাকিস্তানের গুপ্তচর ছিলেন। আপনি (খালেদা জিয়া) গৃহবন্দি নাকি মেহমানদারিতে ছিলেন তা জাতির সামনে স্পষ্ট করুন।
সাবেক মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপি-জামায়াত জোট নির্বিচারে মানুষ হত্যা, বাসে-ট্রেনে আগুন লাগিয়ে, হাজার হাজার বৃক্ষ নিধন করেও ৫ জানুয়ারি নির্বাচন বানচাল করতে পারেনি। উন্নয়নের ক্ষেত্রে সারা বিশ্বকে চমকে দিয়েছে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতি মিথ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত। জনবিচ্ছিন্ন হয়ে দলটি এখন মিথ্যা ও সাংবাদিক সম্মেলনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। বাঙালি নিধন করতে পাকিস্তান থেকে আনা অস্ত্র ২৬ মার্চ সোয়াত জাহাজ থেকে খালাস করতে গিয়েছিলেন মেজর জিয়া। আত্মগোপন থেকে জিয়াউর রহমানকে খুঁজে বের করে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি ২৭ মার্চ পাঠ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
ওয়ার্কার্স পার্টির ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, অবৈধ ক্ষমতা দখলের পথ বর্তমান সরকার বন্ধ করে দিয়েছে বলেই খালেদা জিয়া উন্মাদ হয়ে গেছেন। ‘জিয়া প্রথম রাষ্ট্রপতি’ এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া অশিক্ষিত বা উন্মাদ ভাবলে হবে না, তিনি একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সময় খালেদা জিয়া বললেন গোলাম আযম- নিজামীরা যুদ্ধাপরাধী নন, তাঁরা রাজবন্দি! আসলে উনি গোটা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে চান। খালেদা জিয়ার রাজনীতি পরিস্কার, উনি বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানাতে চান। সত্যিই এটা চাইলে তাদের পাকিস্তানে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হোক।
জিয়াউর রহমানকে শহীদ বলা উচিত নয় দাবি করে নাসিম ওসমান বলেন, তিনি বঙ্গবন্ধুর খুনি। খুনি বলেই তাঁকে খুন হতে হয়েছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধু স্বপরিবারে শহীদ হয়েছিলেন। জাতিকে নেতৃত্ব শূন্য করতে বঙ্গবন্ধু ও চার নেতাকে হত্যা করা হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই সরকার ব্যবস্থা জাতির কল্যাণে কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি। তিনি আরো বলেন, সংসদ নির্বাচনের আগে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদকে অনেক ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।
বিরোধীদলীয় হুইপ ফখরুল ইমাম বলেন, গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে হলে রাজনীতিবিদদের মধ্যে সংলাপের কোনো বিকল্প নেই। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নামে নাশকতা, সহিংসতা, দেশের অর্থ-সম্পদ ও মানুষের প্রাণহানির রাজনীতিতে জাতীয় পার্টি বিশ্বাস করে না। তিনি স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পি বলেন, একুল-ওকুল হারিয়ে বেগম জিয়া ও তারেক রহমান এখন ইতিহাস চুরি শুরু করেছে। জনগণ এটা বরদাস্ত করবে না।
তারেক জিয়াকে বিশ্বচোর ও থিফ অব বাগদাদ উল্লেখ করে এ কে এম এ আওয়াল বলেন, দিশেহারা হয়ে খালেদা আবোল-তাবোল বকছেন। ওরা জ্ঞানপাপী। জিয়াউর রহমান প্রথম রাষ্ট্রপতি হলে স্বাধীনতার পর কিভাবে মেজর ও পরবর্তী উপসেনাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন? খালেদা জিয়া ও তাঁর পরিবার যতই ষড়যন্ত্র করুক, বাংলাদেশ ও শেখ হাসিনার কোনো ক্ষতি করতে পারবেন না বলে তিনি দাবি করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here