জিয়াউর রহমান অবৈধ পথে অস্ত্র ঠেকিয়ে ক্ষমতা দখল করে ১১০ ভাগ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি হলেন সেটি কী বৈধ ? প্রধানমন্ত্রী

11

pm1প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ১৯৫৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা এবং একুশ ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা করে। একইভাবে এই দলটি ১৯৯৯ সালে এ দিনটিকে আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতিও আদায় করে।
রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের জন্য এটি অনেক গর্বের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলা আমাদের মাতৃভাষা হওয়ায় আমরা গর্বিত। আর এটাও আমাদের জন্য গৌরবের যে, মাতৃভাষার জন্য আমাদের মহান আত্মত্যাগ পৃথিবীব্যাপী স্বীকৃতি লাভ করেছে।
উপজেলায় নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ ও তাদের সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয়ের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকারকে মানবেন না। আমাদের সরকারের অধীনে ইলেকশন করবেন না। আমাদের সরকারের অধীনে ইলেকশন হয়েছে। অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপি নেত্রীও সে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। এবার বাংলাদেশের জনগণের সামনে নাকে খত দিয়ে তওবা করেন। আর এ ধরনের কথা বলবেন না।
প্রধানমন্ত্রী আজ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দিচ্ছিলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৪ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দিয়ে বাংলা ভাষাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যান। সে পদাঙ্ক অনুসরণ করে তিনি নিজেও যতবারই জাতিসংঘে ভাষণ দিয়েছেন বাংলাতেই দিয়েছেন। তিনি বলেন, মাতৃভাষা আন্দোলনের সঙ্গে সঙ্গে বাঙালি জাতি হিসেবে অস্তিত্ব রক্ষার আন্দোলন জাতির পিতাই শুরু করেছিলেন। ১৯৫২ সাল পর্যন্ত বন্দি থাকলেও বিভিন্নভাবে তিনি আন্দোলনকারীদের দিক নির্দেশনাসহ বিভিন্ন কৌশল ঠিক করে দিতেন।

মিথ্যাবাদীর কথা কেউ বিশ্বাস করে না
শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় এসে তিনি (খালেদা জিয়া) উপজেলা পরিষদ বাতিল করে দিয়েছিলেন। এখন সেই উপজেলা নির্বাচনে এলেন। এরপর আর উনার কথা মানুষ বিশ্বাস করবে না। মিথ্যাবাদীর কথা কেউ বিশ্বাস করে না।

আসল কথা হলো নির্বাচন সুষ্ঠু কি না
শেখ হাসিনা বলেন, যে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে, সে নির্বাচন নিয়েও তারা মিথ্যাচার করছে। যেকোনো নির্বাচনে কেউ হারে, কেউ জেতে। কে জিতল কে হারল, সেটি বড় কথা নয়। আসল কথা হলো নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে কি না।

ক্ষতিপূরণ খালেদা জিয়াকেই দিতে হবে
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রতিহতের আন্দোলনে বিএনপির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপির নেত্রীর আন্দোলন মানেই হচ্ছে ধ্বংস, নৈরাজ্য আর মানুষ হত্যা। উনার নির্দেশে গরু আর মানুষ একসঙ্গে পুড়িয়ে মারা হলো। দিনের পর দিন মানুষ হত্যা করে তিনি কত মায়ের কোল খালি করলেন। কত মেয়েকে স্বামীহারা, কত বোনকে ভাইহারা করলেন। পোড়া যন্ত্রণা নিয়ে এখনো কত মানুষ বার্ন ইউনিটে কাতরাচ্ছে। তিনি বলেন, মানুষ হত্যা করে উনি ক্ষমতায় যেতে চেয়েছিলেন, পারেননি। তিনি মিথ্যাচার করে বিদেশি পত্রিকায় আর্টিকেল লিখে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিতে চেয়েছেন। কৃষক-শ্রমিক ও মজুরের পেটে লাথি মেরেছেন। এর ক্ষতিপূরণ খালেদা জিয়াকেই দিতে হবে।

জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা দখল কী?
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, বিএনপির অনেক নেতা বলেন, বর্তমান সরকার নাকি অবৈধ। জাতীয় নির্বাচনে যেসব জায়গায় নির্বাচন হয়নি, মানুষ ভোট দেয়নি। কিন্তু যেসব জায়গায় নির্বাচন হয়েছে, ৪০ ভাগ মানুষ ভোট দিয়েছে। এই সরকারকে কীভাবে অবৈধ বলা হয়?
‘বর্তমান সরকার অবৈধ’—বিএনপির এমন বক্তব্যের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, জিয়াউর রহমান তো অস্ত্র ঠেকিয়ে ক্ষমতা দখল করলেন, সেটি কী? তিনি হ্যাঁ-না ভোটের মাধ্যমে ১১০ ভাগ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি হলেন! বাংলাদেশের জনসংখ্যার অধিক ভোট পেয়েছেন তিনি! অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে অবৈধ পন্থায় বিএনপি গঠন করেছেন। অবৈধ পথে যে দলের জন্ম তারা কীভাবে অন্যকে অবৈধ বলে? তাদের দলের জন্ম অবৈধ পন্থায় হওয়ায় তারা সবকিছুতেই অবৈধ দেখেন।

বর্তমান সরকার অবৈধ’—বিএনপির এমন বক্তব্যের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, জিয়াউর রহমান তো অস্ত্র ঠেকিয়ে ক্ষমতা দখল করলেন, সেটি কী? তিনি হ্যাঁ-না ভোটের মাধ্যমে ১১০ ভাগ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি হলেন! বাংলাদেশের জনসংখ্যার অধিক ভোট পেয়েছেন তিনি! অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে অবৈধ পন্থায় বিএনপি গঠন করেছেন। অবৈধ পথে যে দলের জন্ম তারা কীভাবে অন্যকে অবৈধ বলে? তাদের দলের জন্ম অবৈধ পন্থায় হওয়ায় তারা সবকিছুতেই অবৈধ দেখেন।
সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরী, ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, হাবিবুর রহমান সিরাজ, এম এ আজিজ, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, আসাদুজ্জামান খান কামাল প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here