জাসদের বিদ্রোহীরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাচ্ছেন সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই চক্রান্ত: ইনু

29

জনতার নিউজ

জাসদের বিদ্রোহীরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাচ্ছেন

কাউন্সিল ছেড়ে আলাদা কমিটি ঘোষণা করা জাসদ নেতারা এবার প্রধানমন্ত্রী ও ১৪ দলীয় জোট প্রধান শেখ হাসিনার কাছে যাচ্ছেন। ‘নালিশ’ জানাতে দু-এক দিনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাদের দেখা করার কথা রয়েছে। এর আগে গত সোমবার রাতে এই ‘বিদ্রোহী’ অংশটির কার্যকরী সভাপতি মইন উদ্দীন খান বাদল ও সভাপতি শরীফ নূরুল আম্বিয়া বৈঠক করেছেন ১৪ দলের সমন্বয়ক ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সঙ্গে। এ আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতেই তাদের  পূর্বনির্ধারিত গতকালের সংবাদ সম্মেলন বাতিলহয় বলে জানা গেছে।

শরীফ নূরুল আম্বিয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা নাসিম সাহেবের সঙ্গে আলাপ করেছি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও সাক্ষাতের সময় চেয়েছি। দু-এক দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হবে আশা করছি।’

রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে শনিবার অনুষ্ঠিত জাসদের কাউন্সিল থেকে প্রায় মধ্যরাতে বেরিয়ে এসে শরীফ নূরুল আম্বিয়াকে সভাপতি ও নাজমুল হক প্রধানকে সাধারণ সম্পাদক করে পৃথক কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির কার্যকরী সভাপতি হিসেবে মইন উদ্দীন খান বাদলের নাম ঘোষণা করে এই অংশটি। পরদিন রবিবার মইন উদ্দীন খান বাদল সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন ১৬ মার্চ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করবেন।

জানা গেছে, জাসদের বিদ্রোহী অংশের নেতারা নাসিমকে জানান, তারা ১৬ মার্চ সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন। এর আগে তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বসতে চান। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার ওপর নির্ভর করবে তারা সংবাদ সম্মেলনটি শেষ পর্যন্ত করবেন কি করবেন না। সূত্রের দাবি, নাসিম তাদেরকে সংবাদ সম্মেলন না করে দলে ঐক্য ফিরিয়ে আনার পরামর্শ দেন।

এ ব্যাপারে জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু  বলেন, ‘আসলে পদপদবির বিষয় নিয়ে এই ঘটনা ঘটেনি। আকস্মিকভাবে তারা কাউন্সিল থেকে বের হননি, পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই বের হয়ে চলে গেছেন। পৃথক দল গঠন নয়, তাদের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে আমাকে, সরকারকে ও ১৪ দলকে বিপাকে ফেলা। সরকার থেকে বেরিয়ে যাওয়াই তাদের লক্ষ্য এবং তারা সেই কাজটিই করেছেন। জাসদ যখন সামনের কাতারে থেকে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে, তখন তাদের এই ভূমিকা সেই যুদ্ধকে দুর্বল করার মাধ্যমে জঙ্গিবাদকে সহযোগিতাই করছে।’ ইনু বলেন, তারা যা কিছুই করুন না কেন— জঙ্গিবাদের শেষ খুঁটি-ঘাঁটি উপড়ে না ফেলা পর্যন্ত জাসদ সরকার ও ১৪ দলের সঙ্গে আছে এবং থাকবে।

হাসানুল হক ইনুর এমন বক্তব্যের বিষয়ে নাজমুল হক প্রধান  বলেন, ‘আমরা বলছি সরকার থেকে জাসদকে আলাদা করতে হবে। ১৪ দল থেকে জাসদকে আলাদা করার কথা বলিনি।’

এদিকে বিভক্ত জাসদকে এক করতে দলটির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা নিজেদের অবস্থান থেকে গত কয়েকদিন ধরেই চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে দলের প্রবীণ নেতা ইঞ্জিনিয়ার মনিরুল ইসলাম এরই মধ্যে দু পক্ষের সঙ্গেই কথাবার্তা বলেছেন। সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে জাসদের সংসদ সদস্য লুত্ফা তাহেরও তার ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে দলের ঐক্য কামনা করে সব পক্ষকে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে ‘বিদ্রোহী’ অংশের নেতারা বলছেন, কাউন্সিল বাতিল করে নতুন করে কাউন্সিল ডাকা না হলে ঐক্য হতে পারে না। শরীফ নূরুল আম্বিয়া বলেছেন, ‘ঐক্যের ভিত্তি হবে কাউন্সিল বাতিল করা।’

তাদের এই দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে মূল দলের সভাপতি হাসানুল হক ইনু  বলেন, ‘কাউন্সিল বাতিলের প্রশ্নই ওঠে না। কাউন্সিল হয়নি, এটা ঠিক নয়। ১২০৫ জন কাউন্সিলরের মধ্যে সহস্রাধিক উপস্থিত থেকে ভোট দিয়ে কমিটি নির্বাচিত করেছেন। এমনকি সভাপতি পদে যখন আমার নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল তখন মইন উদ্দীন বাদল, শরীফ নূরুল আম্বিয়া ও প্রধানও উপস্থিত থেকে সমর্থন জানিয়েছিলেন। ভোটাভুটিতে শিরীন সর্বাধিক ৬০৩ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।  আমাদের দলের এমপি লুত্ফা তাহের প্রথম ভোটটি দিয়েছিলেন, সেই ছবিও সংরক্ষিত আছে। সুতরাং নতুন করে কাউন্সিলের প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here