জামায়াত-শিবির এ দেশের স্বাধীনতা বিশ্বাস করে না: নীলফামারীতে সংবর্ধণা অনুষ্ঠানে নূর

12

noorসংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, আমি মন্ত্রী হয়েছি এটি আপনাদের প্রত্যাশা ছিল। সে প্রত্যাশা আপনাদের পূরণ হয়েছে। আর আমি আমার মন্ত্রিত্বের সম্মান নীলফামারীবাসীর কাছে উৎসর্গ করলাম। উৎসর্গ করছি গত ১৪ ডিসেম্বর আমার গাড়িবহরে হামলার সময় নিহত টুপামারী ইউনিয়নের চার নেতা-কর্মীর উদ্দেশে এবং আমার দলের ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে।তাঁকে মন্ত্রিত্বের সম্মান দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে নীলফামারীবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
নীলফামারীর মাটি ও মানুষের নেতা সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপিকে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত করেছে নীলফামারীবাসী। শনিবার সকালে নীলফামারী শহীদ মিনার চত্বরে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক গণ সংবর্ধনায় তাঁকে এ শুভেচ্ছা জানানো হয়।
দেশ স্বাধীনের পর নির্বাচিত এমপিকে জেলায় এই প্রথমবার আওয়ামী লীগের মন্ত্রী হিসেবে পাওয়ায় সংবর্ধণা অনুষ্ঠানে নামে মানুষের ঢল। বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুনসহ সাধারণ মানুষের পদচারণায় সকাল থেকে মুখরিত হয়ে উঠে নীলফামারীর শহীদ মিনার চত্বর।
সকাল ১০টায় শুরু হওয়া সংবর্ধণা অনুষ্ঠান চলে তিন ঘণ্টাব্যাপী। এ সময় আওয়ামী লীগ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা তাঁকে জানান ফুলেল শুভেচ্ছা।
মন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় বলেন, জামায়াত-শিবির বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও উন্নয়নে বিশ্বাস করে না। এরা শুধু সহিংসতা ও খুনাখুনির রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। এরা পরাজিত শক্তি পাকিস্তানের দোসর। আমাদের দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধে কাদের মোল্লার ফাঁসি হলে পাকিস্তানের পার্লামেন্টে শোকপ্রস্তাব আনা হয়। অণ্যদিকে জামায়াত-শিবির সারা দেশব্যাপী সহিংসতা করে অসংখ্য জানমালের ক্ষতি করেছে। স্কুল-কলেজ পুড়িয়ে দিয়েছে। রাস্তাঘাট ধ্বংস করেছে। রেললাইন উপড়ে ফেলেছে। জামায়াতের পূর্বসুরী পাকিস্তানিরা তাদের পার্লামেন্টে যে শোকপ্রস্তাব এনেছে তা বিশ্বে নজির বিহীন এবং নিন্দনীয় ঘটনা।
বিএনপি-জামায়াত আন্দোলনের নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করেছে মন্তব্য করে মন্ত্রী নূর বলেন, তাদের আন্দোলনে জনগণের অংশগ্রহণ নেই সে জন্য সফলও হতে পারেনি। সাধারণ মানুষের আন্দোলনের কথা বলে সাধারণ মানুষকেই হত্যা করেছে তারা। গণতান্ত্রিক কর্মসূচির নামে মানুষ হত্যা, গাড়ি পোড়ানো, লুটপাট, রাস্তা, গাছপালা কেটে ফেলা, সরকারি সম্পদ ধ্বংস, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ করে তারা পাকিস্তানি বাহিনীর মতো কার্যক্রম শুরু করেছে।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, জামায়াত বাংলাদেশের স্বাধীনতা, পতাকা, শহীদ মিনার এমনকি বাঙিলর অর্জনগুলো কোনোভাবে বিশ্বাস করে না। তারা কখনো আমাদের জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে মিছিল করেনি, পালন করেনি মহান স্বাধীনতা, বিজয়, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এমনকি পহেলা বৈশাখও। কারণ তারা বাঙালির অর্জনগুলো আজও মেনে নিতে পারেনি।
শুরুতেই আওয়ামী লীগের পক্ষে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান নূরকে বরণ করে নেন। এরপর নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য আফতাব উদ্দিন সরকার, নীলফামারী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা মন্ত্রীকে বরণ করে নেন।
এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদের সভাপতিত্বে বক্তৃতা দেন সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জোনাব আলী, জেলা কৃষক লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট অক্ষয় কুমার রায়, জেলা যুবলীগের সভাপতি রমেন্দ্র বর্ধন বাপী, জেলা স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. মমতাজুল ইসলাম মিন্টুসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মমতাজুল হক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here