জামায়াত-শিবিরের আত্মঘাতী স্কোয়াড

18

saidi nezamiনিজামী-সাঈদীর রায়কে কেন্দ্র করে ‘সুইসাইডাল স্কোয়াড’ গঠন করেছে জামায়াত-শিবির। এ স্কোয়াডে রয়েছে ৫০ থেকে ৬০ জন পুরুষ ও মহিলা। রাজধানীর একটি আবাসিক এলাকায় প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে তাদের। সাঈদীর ফাঁসির রায় বহাল থাকলে এ দলের সদস্যরা পুলিশ, আদালত ভবন ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ বিভিন্ন জনবহুল স্থানে হামলা চালাতে পারে।
সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। রায় ঘোষণার আগেই সারা দেশের বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের আটক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ও আশপাশের মেসে তল্লাশি চালানোসহ ছয় দফা সুপারিশ করা হয় ওই প্রতিবেদনে।
জামায়াতের আমীর মতিউর রহমান নিজামী ও নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়কে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবির অস্ত্র সংগ্রহ করছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্দেশ ছাত্রশিবির বাংলাদেশকে ১৫টি জোনে ভাগ করে ঢাকাসহ ৪৩টি জেলায় বড় ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালাতে পারে। প্রতিটি জোনের নেতৃত্বে থাকবেন শিবিরের একজন কেন্দ্রীয় নেতা ও সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা নেতারা।
সুইসাইডাল স্কোয়াড গঠন প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়, ছাত্রশিবির তাদের দাওয়াতি কার্যক্রমের ব্যানারে অল্প বয়সের তরুণদের সাঈদীর অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে ৫০ থেকে ৬০ জন পুরুষ ও মহিলার সমন্বয়ে এ স্কোয়াড গঠন করেছে। রাজধানীর খিলক্ষেতের একটি আবাসিক এলাকায় তাদের প্রশিক্ষণ ও কার্যক্রম চলছে। এছাড়াও ছাত্রী সংস্থা ও মহিলা জামায়াতের কর্মীরাও মহিলাদের আত্মঘাতী হিসেবে প্রস্তুত করতে কাজ করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ছাত্রশিবির ঢাকাসহ সারা দেশে জেলা, থানা এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে পাঁচ সদস্যের অ্যাকশন কমিটি গঠন করেছে জানিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রায়ের তারিখ ঘোষণার পরপরই তারা নিজ নিজ জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলাসহ ধবংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালাবে। তাতে জেএমবি, হিজবুত তাহরিরসহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের নেতাকর্মীরাও অংশ নিতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাঈদীর ফাঁসির তারিখ ঘোষণা করা হলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কয়েকজন জামায়াতপন্থী শিক্ষক (নাম উল্লেখ করে) নাশকতার সঙ্গে জড়িত হতে পারেন। তাদের সমন্বয়ে জামায়াতপন্থী শিক্ষকরা ঢাকার সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জামায়াত, শিবির, ছাত্রদল, হিজবুত তাহরিরসহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের নেতাকর্মীরা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালাতে পারে।
৪৩টি জেলাকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব জেলায় জামায়াত-শিবির নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালাতে পারে। জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে- সিরাজগঞ্জ, পাবনা, রাজশাহী, নীলফামারী, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, বগুড়া, বাগেরহাট, জয়পুরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, ঢাকা, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ, কুমিল্লা, চাঁদপুর, নেত্রকোনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, যশোর, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, বরিশাল, পিরোজপুর ও ভোলা। এছাড়াও কয়েকটি উপজেলার নাম প্রতিবেদনে ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়।
বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম, ফেসবুক ও মসজিদের মাইকে গুজব ছড়ানো হতে পারে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, সাঈদীর ফাঁসিকে ইসলাম ধ্বংসের অপপ্রয়াস আখ্যা দিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের উস্কে দিয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক চেতনায় বিশ্বাসী নেতাদের বাসা-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে।
এছাড়াও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হতে পারে বলেও ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here