জামায়াতের স্বার্থে নির্বাচনে আসছে না বিএনপি :প্রধানমন্ত্রী

13

image_89076প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জামায়াতের স্বার্থ রক্ষা আর নির্বাচনে পরাজয়ের ভয়ে বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসতে চাইছেন না। উচ্চ আদালত জামায়াতকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করে রায় দেয়ায় জামায়াতের প্রতি সহানুভূতি দেখাতে গিয়ে উনি (খালেদা) জনগণের স্বার্থ বিসর্জন দিচ্ছেন। তবে উনি যে আশায় এসব করছেন তা পূরণ হবে না। যথাসময়েই নির্বাচন হবে ইনশাআল্লাহ। আর সেই নির্বাচনে দেশের জনগণ স্বতস্ফূর্তভাবে অংশ নেবে। ধ্বংসযজ্ঞ, জামায়াত প্রীতি ও যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার পথ পরিহার করে জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে খালেদা জিয়ার প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

গতকাল বুধবার ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের পার্লামেন্টারি বোর্ডের সভায় সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। পার্লামেন্টারী বোর্ডের এ সভায় আলোচ্য বিষয় ছিল আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত। ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ মোকাবিলায় দেশবাসীর সাহায্য ও সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলীয় নেত্রী জামায়াতের স্বার্থে ও যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় নির্বাচনে না এসে আন্দোলনের নামে নৃশংসভাবে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করছেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর বিরোধী দলের ডাকা কর্মসূচিতে যে সহিংসতা ঘটেছে, এর দায় খালেদা জিয়াকেই নিতে হবে।

বিরোধী দলীয় নেত্রীর প্রতি প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনি নির্বাচন বানচাল করার হুমকি দিচ্ছেন। তবে নির্বাচন না হলে দেশে কী হবে? আপনি সংবিধানের ৫৭ এর ৪ অনুচ্ছেদ ভাল করে দেখুন। তিনি বলেন, উনি কী আবারো ওয়ান-ইলেভেন আনতে চান? কার স্বার্থে উনি আনতে চান? আরেকটি ওয়ান-ইলেভেন আসলে উনি কী ভালো থাকবেন? আমরা সেই অবস্থার আর পুনরাবৃত্তি চাই না। গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে চাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবরোধের নামে বিরোধী দল সারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রাণহানি ঘটিয়েছে, রেললাইন উপড়ে ফেলা হয়েছে, রেল পথের ফিশপ্লেট খুলে ফেলা ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে। এটা কী ধরনের আন্দোলন? মানুষকে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা-এটা কী ধরনের মানসিকতা? এটাকে কী আন্দোলন বলে? আন্দোলনের নামে উনি জঘন্য অপকর্ম করে যাচ্ছেন।

আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আগামী দিনের নাগরিকদের মতো এমন একটা ব্যবস্থা রেখে যেতে চাই যাতে আগামী দিনে নির্বাচন সংবিধান মোতাবেক হয়। গত ৩৮ বছরে প্রতিটি নির্বাচন নিয়ে কোনো না কোনো সমস্যা হয়েছে। নির্বাচন হয়েছে এডহক বেসিসে। কোনো স্থায়ী বন্দোবস্ত হয়নি। আমরা নির্বাচনের জন্য সাংবিধানিকভাবে একটি স্থায়ী বন্দোবস্ত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।

দুই নেত্রীর টেলি সংলাপ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আলোচনায় অংশগ্রহণ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ সুগম করার জন্য বিরোধী দলীয় নেত্রীকে গণভবনে আমন্ত্রণ জানালাম। তিনি আসলেন না। আমি সংসদ নেতা, আমি প্রধানমন্ত্রী। তারপরও আমি বিরোধী দলীয় নেতাকে ফোন করেছি। বিশ্বের সকল গণতান্ত্রিক দেশে একজন প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলীয় নেত্রীকে ফোন করলে আলোচনায় বসেন। কিন্তু উনি আলোচনায় না বসে হরতালের নামে ২০ জন মানুষের প্রাণ কেড়ে নিলেন, আমার অনুরোধ উপেক্ষা করে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা বন্ধ করে তাদের জীবনকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিলেন।

বেলা সাড়ে ১১টায় সংসদীয় বোর্ডের সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সংসদীয় বোর্ডের সভা শুরু হয়। দুপুর দেড়টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বৈঠকে বৃহত্তর রংপুর বিভাগের মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয়। সন্ধ্যার পর দ্বিতীয় দফা বৈঠকে রাজশাহী বিভাগের মনোনয়নও চূড়ান্ত করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার সংসদীয় বোর্ড বৈঠকে বসে বাকি বিভাগের মনোনয়ন চূড়ান্ত করে প্রার্থীদের হাতে প্রধানমন্ত্রী স্বাক্ষরিত মনোনয়নপত্র তুলে দেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

গতকাল বেলা ১১টায় এ বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সকাল থেকে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে এসে জড়ো হতে থাকেন। প্রধানমন্ত্রী যখন বৈঠক স্থলে পৌঁছান তখন ওই এলাকায় ছিল নেতা-কর্মীদের উপচেপড়া ভিড়।

বৈঠকে দলের সংসদীয় বোর্ডের সদস্য সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমদ, দলের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদীয় বোর্ডের সদস্য সচিব সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, অধ্যাপক ড. আলাউদ্দিন আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য ওবায়দুল কাদের, কাজী জাফর উল্যাহ উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here