জামায়াতের নিখোঁজ নেতার লাশ উদ্ধার সীতাকুণ্ডে অবরোধ, আ.লীগ নেতার বাড়িতে আগুন

13

fire Sitakundচট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার নিখোঁজ জামায়াত নেতা আমিনুল ইসলামের (৩৫) লাশ আজ বুধবার ভোরে পৌর সদরের শেখপাড়া এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর পরপরই জামায়াত-শিবিরের ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা বাড়বকুণ্ড ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছাদাকাত উল্লাহ মিয়াজির বাড়ির চারটি ঘরসহ আশপাশের আরও তিনটি বাড়িতে আগুন দেন। বেলা দুইটার দিকে বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের আর আর জুটমিল এলাকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুটি ট্রাক ও একটি কাভার্ড ভ্যানে আগুন দেন তাঁরা।

একই সঙ্গে ক্ষুব্ধ এই নেতা-কর্মীরা অন্তত তিনটি স্থানে সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন। বর্তমানে পুলিশ,র‌্যাব ও বিজিবি মহাসড়কে টহল দিচ্ছে। গত রোববার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার পর থেকে আমিনুল ইসলাম নিখোঁজ ছিলেন। তাঁর বাড়ি বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নে। তিনি বাড়বকুণ্ড ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি ছিলেন।

ইউনিয়ন জামায়াত ও নিহত আমিনুলের পরিবারের দাবি, রোববার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে সীতাকুণ্ডে ফিরছিলেন আমিনুল ইসলাম। ফেরার পথে যাত্রাবিরতির সময় কুমিল্লায় হোটেল হাইওয়ে ইনে ছিলেন আমিনুল। তাঁর স্ত্রীও সঙ্গে ছিলেন। এ সময় ডিবি পরিচয়ে সাদাপোশাকের কয়েকজন লোক আমিনুলকে একটি মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যান। পরে তাঁর স্ত্রী ফোন করে পরিবার ও দলের নেতা-কর্মীদের বিষয়টি জানান।

এ খবরের পরপরই দলের নেতা-কর্মীরা বাড়বকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১২টি গাড়িতে আগুন, অর্ধশত গাড়ি ভাঙচুর ও মহাসড়ক অবরোধ করেন। পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় তাঁদের সংঘর্ষ হয়। পরদিন সোমবার সকালে আরও দুটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গত দুই দিন ধরে সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবরোধ চলছিল।

আমিনুল ইসলামের ভাই বেলাল উদ্দিন বলেন, নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁরা বিষয়টি প্রশাসনের সব মহলকে জানান। ভাইকে ফিরে পাওয়ার জন্য অনেক দেনদরবার করেন। মঙ্গলবার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলেও পুলিশ তা নেয়নি।বুধবার ভোরে সীতাকুণ্ড পৌর সদরের শেখপাড়া এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে হাত ও মুখ বাঁধা এবং মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁর লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে তাঁর পরিবারের লোকজন সকাল সাতটার দিকে ঘটনাস্থলে যান। পরে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সীতাকুণ্ড সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) সৈয়দ ইকবাল আলী প্রথম আলো ডটকমকে জানান, লাশটি জামায়াত নেতা আমিনুল ইসলামের, তা নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে কে বা কারা তাঁকে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানা যায়নি। এ বিষয়ে তদন্তের পর জানা যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here