জাপায় দ্বৈত নেতৃত্ব!

5

japanews

সংসদ ভবনের লবিতে বৃহস্পতিবার দলের মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর সঙ্গে দলটির্ প্রেসিডিয়াম থেকে সদ্য বাদ পড়া দুই নেতা-পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরীর হাতাহাতির উপক্রমের ঘটনায় প্রকাশ্য বিভক্তি ছড়িয়ে পড়েছে জাতীয় পার্টিতে (জাপায়)। বিরোধী দলীয় উপনেতা নির্বাচন ও বৃহস্পতিবার তিন নেতার ঝগড়াসহ গত কয়েকদিনের ঘটনার জন্য এরশাদপন্থী নেতারা পরোক্ষভাবে অভিযোগ করেছেন, এর মধ্য দিয়ে পার্টির সংসদীয় দলের প্রধান ও বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ দলে দ্বৈত নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এই পথ থেকে সরে না আসলে প্রয়োজনে তার বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

আগেরিদন সংসদ ভবনে জিয়াউদ্দিন বাবলুর সঙ্গে মশিউর রহমান রাঙ্গা ও তাজুল ইসলামের অপ্রীতিকর ঘটনার প্রতিবাদে আজ শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) জাপা। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রওশন এরশাদকে ইঙ্গিত করে জিয়াউদ্দিন বাবলু বলেছেন, ‘এরশাদ ছাড়া জাপায় কোনো নেতা নেই, জাপা এরশাদের একক নেতৃত্বে চলবে’। অভিন্ন সুরে সমাবেশে দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়াও বলেছেন, ‘এরশাদের বাইরে আমরা আর কোনো নেতৃত্ব মানি না। যদি কেউ দলে দ্বৈত নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে তাহলে তা হতে দেয়া হবে না’।

এই সমাবেশে এরশাদপন্থী নেতারা রাঙ্গা-তাজুলকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন ‘এরা দুটি তেলাপোকা। তেলাপোকার মতো তারা উড়োউড়ি করছে। তেলাপোকার পাখা গজায় মরিবার তরে। একইভাবে এই দুই তেলাপোকার মরণ অবশ্যম্ভাবী।’ জিয়াউদ্দিন বাবলু বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলামকে ইঙ্গিত করে বলেছেন ‘জাপায় জামায়াতের চর ঢুকেছে, তবে কোনো যুদ্ধাপরাধীকে দলে রাখা হবে না।’ প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার দুপুরে জাপা চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের বনানী কার্যালয়ে গণমাধ্যমকে বাবলু বলেছিলেন ‘তাজুল একজন বিতর্কিত লোক, তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রয়েছে বলে আমরা জেনেছি।’

বাবলু আরও বলেন, ‘জাপায় কুচক্রি ও একটি স্বার্থান্বেষী মহল তত্পর। বিএনপি-জামায়াতের দালালরা এসব ষড়যন্ত্র করছে। তবে জাপায় কোনো ফাটল নেই। জাপা ভাঙ্গার সাহস বা স্পর্ধা কারও নেই।’

যদিও সংসদ ভবনে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রতিবাদেই এই সমাবেশ ডাকা হয়, তবে জিয়াউদ্দিন বাবলু দাবি করেছেন- কার্যত আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, দেশে একের পর এক খুন-গুম-অপহরণের প্রতিবাদেই এই সমাবেশ। কিন্তু ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) জাপার আহ্বায়ক সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রায় প্রত্যেকের বক্তব্যই ছিল সংসদ ভবনের ঘটনা কেন্দ্রীক এবং তারা রাঙ্গা-তাজুলের বিরুদ্ধে নানা বক্তব্য দিয়ে তাদেরকে প্রতিরোধের ঘোষণা দেন। রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া তার বক্তব্যে রাঙ্গা-তাজুলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘তাদেরকে প্রতিরোধ করা হবে, আমরা চাইলে তারা ঘর থেকেও বের হতে পারবেন না।’ তাজুলকে উদ্দেশ্য করে তিনি আলাদাভাবে বলেন, ‘এই যুদ্ধাপরাধী ২০০৮ সালে বিএনপির টিকেটে কুড়িগ্রামে এরশাদের বিরুদ্ধে নির্বাচন করে জামানত হারিয়েছিলেন, এতে প্রমাণ হয় তিনি তেলাপোকার চেয়েও নিকৃষ্ট প্রাণী’।

এ দিকে, সংসদ ভবনের লবিতে বৃহস্পতিবারের ঘটনার জন্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা। গতকাল কয়েক দফা তিনি বাবলুকে ফোন করে আগেরদিন সংসদ ভবনের এক নম্বর লবিতে তাকে গালাগাল ও তেড়ে যাওয়ার ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। রাঙ্গার ফোন করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন জিয়াউদ্দিন বাবলু। এর আগে বুধবার রাতেও পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের বাসায় গিয়ে তিনি দুঃখপ্রকাশ করেন। এছাড়া বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের ঘটনার বিষয়ে একই রাতে বেসরকারি টিভি চ্যানেল এটিএন বাংলার একটি অনুষ্ঠািনে রাঙ্গা দাবি করেছেন ‘মিডিয়ায় যেসব খবর এসেছে, সংসদ ভবনের লবিতে ওই ধরনের ঘটনা ঘটেনি।’

তবে তাজুল ইসলাম চৌধুরী নিজ অবস্থানে রয়েছেন। জানা গেছে, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপের পদ থেকেও সরিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে শিগগিরই দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকেও তাজুলকে বহিস্কারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলীয় উপনেতা নির্বাচনের বিষয়টিও আপাতত থমকে গেছে। দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদকে বিরোধী দলীয় উপনেতা নির্বাচন করা হয়েছে জানিয়ে রওশন এরশাদ গত সোমবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে চিঠি দিলেও এরশাদের বাগড়ায় তা থেমে গেছে। সূত্রমতে, মঙ্গলবার সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে বিরোধী দলীয় উপনেতা প্রশ্নে তার হস্তক্ষেপ চেয়েছেন জাপা চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ। জবাবে প্রধানমন্ত্রী তাকে বলেছেন ‘আমি সবার অতীত জানি।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here