ছিটমহল বিনিময়ে সম্মতি মমতার!

14

momtaবাংলাদেশের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময়ে সম্মতি দেয়ার কথা জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ও দালির্জিং জেলা প্রশাসনের এক যৌথ বৈঠকে সভাপতিত্বকালে মমতা বলেন, ‘অন্যপক্ষের সমস্যা না থাকলে দুই দেশের সীমান্তের ছিটমহল বিনিময়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সম্মতি দিতে পারে। এ প্রস্তাব নিয়ে আমরা কথা বলছি। দুই দেশের মধ্যে যথাযথভাবে এসব ছিটমহল বিনিময় হলে আমাদের কোনো সমস্যা নেই।’ দ্য হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ছিটমহল সমস্যা নিরসনে এর আগেও দুই দেশের সরকার বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নিয়েছে। এসব উদ্যোগের মধ্যে ১৯৫৮ সালে নেহেরু-নূর চুক্তি এবং ১৯৭৪ সালে ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি উল্লেখযোগ্য। কিন্তু বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং পশ্চিমবঙ্গের বিরোধিতায় কোনো উদ্যোগই সফল হয়নি। তবে সোমবার মমতা ব্যানার্জির বক্তব্যকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ছিটমহল বিনিময় হলে পশ্চিমবঙ্গ ১৭ হাজার একর ভূমি হারিয়ে সাত হাজার একর পাবে এমন যুক্তি তুলে ধরে এর বিরোধিতা করে আসছিলেন মমতা। ইতিমধ্যে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন ভারতের নতুন সরকার বিনাশর্তে বাংলাদেশের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময়ে সম্মতির কথা জানিয়েছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড়ে ভারতের ১১১টি ছিটমহল রয়েছে। মোট ১৭ হাজার ১৫৮ একর জায়গা নিয়ে এসব ছিটমহলে বর্তমানে ৩৭ হাজারের বেশি মানুষের বসবাস। অন্যদিকে ভারতীয় ভূখণ্ডে বাংলাদেশি ছিটমহল রয়েছে ৫১টি, যার সবকটিই পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহার জেলায়। সাত হাজার ১১০ একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত ছিটমহলগুলোয় বাসিন্দা রয়েছেন ১৪ হাজার ২১৫ জন।

২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় ছিটমহল বিনিময়ের পথ সুগম করতে দুই দেশের মধ্যে ১৯৭৪ সালে স্বাক্ষরিত স্থলসীমান্ত চুক্তির আলোকে নতুন করে প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here