চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ দাবিতে অবস্থান ধর্মঘট

15

জনতার নিউজ

চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ দাবিতে অবস্থান ধর্মঘট

চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ বছর করার দাবিতে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মঙ্গলবার দুপুর থেকে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন গাফফার সুমন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলেন। তৃতীয় দিনের মতো তিনি ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশের সংবিধান এর ১৫(ঘ) এবং ২৮(৪) অনুচ্ছেদের বাস্তবায়ন করার জন্য গাফফার সুমন দাবি জানান। বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫(ঘ) সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার অর্থাৎ বেকারত্ব, রোগব্যাধী, পঙ্গুত্ব, বিধবা, এতিম, বার্ধক্যজনিত বা এর কম আয়ত্তের বাইরে অন্যান্য পরিস্থিতির কারণে অভাব-অনটনের ক্ষেত্রে সরকারি সাহায্য লাভের অধিকার নিশ্চিত করা। ২৮(৪) নারী ও শিশুদের জন্য উপকারী বা অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর অগ্রগতি ও উন্নতির জন্য রাষ্ট্র যদি কোনো বিশেষ আইন প্রণয়ন করে সেক্ষেত্রে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই রাষ্ট্রকে বাধা প্রধান করবেনা।

সুমন বলেন, অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর অগ্রগতি ও উন্নতির জন্য রাষ্ট্র যদি কোনো বিশেষ আইন প্রণয়ন করে সেক্ষেত্রে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই রাষ্ট্রকে বাধা প্রধান করবেনা। তাহলে কেন আমাদের চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ করা হবেনা এবং বয়সের ফ্রেমে আমাদের যোগ্যতাকে বেঁধে রাখা হবে? জনগণের অনগ্রসর অংশের জন্য বিশেষ বিধান চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আমি এই পযর্ন্ত ৪ বার প্রথমশ্রেণির এবং অন্যান্য চাকরির ভাইভা দিয়েছি। কোথাও আমার চাকরি হয়নি। আমার যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও আমাকে কেন বয়সের ফ্রেমে বেঁধে রাখা হবে?

তিনি আরো যোগ করেন, উচ্চ শিক্ষিত বেকার যুবসমাজ যখন উপেক্ষিত, লাঞ্চিত, দিশেহারা; ঠিক এমন সময় বর্তমান রাষ্ট্রপতি, স্পিকার থাকা অবস্থায় ২০১২ সালের ৩১ জানুয়ারি মহান জাতীয় সংসদে চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ বছর করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। ওই সময় যুব সমাজ আশার আলো দেখেছিল।৮ম জাতীয় সংসদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ২১তম বৈঠকে চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩২ বছর করার সুপারিশ করা হয়।

নবম জাতীয় সংসদের ১৪তম অধিবেশনে চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ বছর করার প্রস্তাবটি প্রথম প্রস্তাব হিসেবে গৃহীত হয়। সেইসাথে বাংলাদেশের সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী এ দাবি বাস্তবায়নের জন্য দীর্ঘদিন ধরে অকাট্য যুক্তি তুলে ধরে অহিংস পদ্ধতিতে আন্দোলন করে আসছে। ৪ বছর পার হতে চলল এখনও চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ করা হয় নি।

একটা গণতান্ত্রিক দেশে যেখানে কয়েক জনের দাবিকে প্রধান্য দেয়া হয় সেখানে লক্ষ লক্ষ উচ্চশিক্ষিত বেকারের দাবিকে কেন প্রধান্য দেয়া হচ্ছে না এমন কথা সুমন উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, আমাদের বয়সের ফ্রেমে বেঁধে না রেখে যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ দেয়া হউক। তাই যতক্ষণ পর্যন্ত চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ না হচ্ছে ততক্ষণ পযন্ত অবস্থান ধর্মঘট চলবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here