চট্টগ্রামে ককটেল তৈরির ২১ বস্তা উপকরণ উদ্ধারঃ ছিল জামায়াত সমর্থকের গুদামে, আটক তিন

12

image_87245চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং থানার চৌমুহনী এলাকায় এক জামায়াত সমর্থকের গুদাম থেকে বিস্ফোরক তৈরির কাজে ব্যবহূত ২১ বস্তা সালফার উদ্ধার করেছে র‌্যাব। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার গভীর রাতে এগুলো উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত সালফারের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ২৫ কেজি। গুদামে সালফার মজুদ বা বিক্রির কোনো কাগজপত্র দেখাতে না পারায় তা আটক করা হয়।

এদিকে অভিযানের খবর পেয়ে গুদাম মালিক সগীর হোসেন (২৫) পালিয়ে গেলেও তিন কর্মচারীকে আটক করেছে র‌্যাব। এরা হলেন, সুমন বসাক (২১), মো. মনির হোসেন (২৩) ও লিপন চন্দ্র নাথ (২৬)। দীর্ঘদিন ধরে ওই গুদামে সালফার কেনাবেচা চলছিল বলে আটক ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। হরতালে নাশকতাকারীরা সগীর হোসেনের নিয়মিত ক্রেতা ছিল বলে র‌্যাবের ধারণা।

র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, মূলত সালফিউরিক এসিড ও দিয়াশলাই তৈরির কাজে লাগলেও ককটেল ও হাতবোমা তৈরির উপকরণ হিসাবেও সালফার ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বিপুল পরিমাণ এ সালফার দিয়ে দুই লাখের বেশি ককটেল তৈরি করা সম্ভব।

র‌্যাব-৭ এর সিইও কমান্ডার এম সাহেদ করিম সাংবাদিকদের বলেন, এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে গুদাম মালিক সগীর জামায়াতের মতাদর্শে বিশ্বাসী। আটক কর্মচারীরা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে যে দীর্ঘদিন ধরে ওই গুদাম থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সালফার সরবরাহ করা হতো।

প্রসঙ্গত, সালফার অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ। এটিতে অগ্নিসংযোগ অথবা ঘর্ষণের ফলে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে। এটি আমদানির জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বিস্ফোরক অধিদপ্তরের বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয়। এছাড়া জাহাজ থেকে খালাসের জন্য নৌবাহিনীর অনুমতির প্রয়োজন হয়। অনুমতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ছাড়া সালফার আমদানি অথবা গুদামজাত করা সম্ভব নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here