চট্টগ্রামে অপহূত সেই স্বর্ণ ব্যবসায়ী কুমিল্লায় উদ্ধার

22

mridulঅপহরণের ছয় দিন পর চট্টগ্রামের স্বর্ণ ব্যবসায়ী মৃদুল চৌধুরীকে কুমিল্লা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার ভোরে বুড়িচং উপজেলার ভারেল্লা ইউনিয়নের কংশনগর বাজার থেকে মৃদুলকে দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা উদ্ধার করে। তাকে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগরীর পুরোনো টেলিগ্রাফ সড়কের বাসা থেকে হাজারী লেনে জুয়েলারি দোকানে যাওয়ার পথে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির সামনে থেকে মৃদুলকে অপহরণ করা হয়। এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই চট্টগ্রামের কোতয়ালী থানায় অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন মৃদুলের ছোট ভাই শিমুল চৌধুরী।

দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্য ও শিমুল চৌধুরী জানান, গতকাল ভোরে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের বুড়িচং উপজেলার কংশনগর বাজারের পাশে একটি ধানক্ষেতে হাত-চোখ বাঁধা ও অজ্ঞান অবস্থায় এক ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখে বাজারের নিরাপত্তা প্রহরী হারুন। হারুন দেবপুর পুলিশ ফাঁড়িকে বিষয়টি জানান। জ্ঞান ফিরে আসার পর মৃদুল হারুনের মোবাইল ফোন থেকে চট্টগ্রামে তার স্ত্রীকে ফোন করেন। পরিবারের সদস্যরা তত্ক্ষণাত বিষয়টি কোতয়ালী থানা পুলিশকে অবহিত করে। দেবপুর ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই দেবাশীষ দত্তের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মৃদুলকে ফাঁড়িতে নিয়ে আসে। মৃদুল চৌধুরী তার নিজের পরিচয় দিয়ে তাকে অপহরণের ঘটনা পুলিশের কাছে বর্ণনা করেন।

মৃদুল চৌধুরী ও শিমুল চৌধুরী কুমিল্লায় পুলিশকে জানান, চট্টগ্রাম নিউমার্কেটের দোতলায় এবং নগরীর হাজারী লেনে তাদের দু’টি জুয়েলারির পাইকারি দোকান রয়েছে। এ দু’টি স্বর্ণের দোকান থেকে গলানো স্বর্ণ গয়না তৈরির জন্য বিভিন্ন সময় ঢাকার তাঁতীবাজারে পাঠানো হয়। গত বছরের ৩ অক্টোবর তার এ রকম ৮০ ভরি গলানো স্বর্ণের একটি চালান বেহাত হয়ে যায়। এ ঘটনায় মৃদুল চৌধুরী বাদী হয়ে গত বছরের ৩ ডিসেম্বর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের (সিএমএম) আদালতে একটি মামলা করেন। তিনি মামলায় বলেন, গলানো স্বর্ণ ট্রেনে করে তার বিশ্বস্ত কর্মচারী ও গাড়িচালক বাবুল পালকে দিয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়। স্বর্ণ নিয়ে কমলাপুর রেলস্টেশনে এস আলম কাউন্টারের সামনে পৌঁছার পর র্যাব-২ এর মেজর রকিবুল আমিন ও তার সোর্স ফাহাদ চৌধুরী জোরপূর্বক বাবুলকে একটি গাড়িতে উঠিয়ে নেন। একটু দূরে যাওয়ার পর বাবুল পালকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দিয়ে ওই ৮০ ভরি স্বর্ণ নিয়ে মেজর রকিবুল আমিন চলে যান। মামলায় মেজর রকিবুল আমিন, সোর্স ফাহাদ চৌধুরী ও গাড়িচালক বাবুল পালকে আসামি করা হয়। আদালতের বিচারক এ ঘটনা তদন্তের জন্য সিআইডি পুলিশকে নির্দেশ দেন। সিআইডি’র সহকারী পুলিশ সুপার বিজয় কৃষ্ণ কর মামলাটি তদন্ত করছেন।

অপহরণ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালী থানার এসআই মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘মৃদুল চৌধুরীকে দুপুর ১২টার দিকে বুড়িচং থানা পুলিশ আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে।’ ভাইকে কুমিল্লা থেকে নিতে এসে শিমুল চৌধুরী সাংবাদিকদের অভিযোগ করেন, ‘ওইদিন তার ভাইকে র্যাব ও পুলিশ পরিচয়ে ১০ জন অস্ত্রধারী মাইক্রোবাসে টেনে হিঁচড়ে তুলে নিয়ে যায়।’

র্যাবের বিরুদ্ধে অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের বলেন, অপহরণের সময় দুর্বৃত্তরা নিজেদের র্যাব-পুলিশ বলে পরিচয় দিয়েছিল। কিন্তু কারা প্রকৃত অপরাধী সেটা খুঁজে দেখার দায়িত্ব প্রশাসনের। তিনি প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান।

কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিউদ্দিন সেলিম বলেন, উনি খুবই অসুস্থ। তিনি সুস্থ হয়ে ওঠার পর জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা করা হবে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি আলহাজ্ব নূরুল আবসার বলেন, অপহূত ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করাই শেষ কথা নয়। ব্যবসায়ীদের অপহরণের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় না আনতে পারলে এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

মৃদুল চৌধুরীর স্ত্রী শেলী চৌধুরী বলেন, আমাদের পরিবারের মত আর কাউকে যাতে এ ধরনের বিপদে না পড়তে হয় সেজন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি। ব্যবসায়ী মৃদুল চৌধুরী চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার আলমপুর গ্রামের মৃত সুধাংশু বিমল চৌধুরীর ছেলে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here