গোপালগঞ্জের নাম পাল্টে দেব :খালেদা জিয়া ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে

35

khaleda-roadMarch for Dবিএনপি চেয়ারপারসন ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, আজ না যেতে পারলেও কালকে যাব। কাল না পারলে পরশু যাবো। কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। এই সরকার ‘অবৈধ’ সরকার। ‘অগণতান্ত্রিক সরকার’। যে পুলিশ অফিসাররা আমাকে যেতে বাধা দিচ্ছে এরা গোপালগঞ্জের। জনগণ যেদিন আমাকে ক্ষমতায় বসাবে সেদিন গোপালগঞ্জের নাম পাল্টে দেব। চিরদিন এই সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। গুলশানের নিজ বাসভবন থেকে রবিবার বিকেল ৩টার দিকে ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’তে যোগদানের উদ্দেশে বের হলে খালেদা জিয়াকে বাধা দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তিনি প্রায় এক ঘণ্টা গেটের কাছে অপেক্ষা করেন। এসময় এসব কথা বলেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘আমি চলমান সংসদের বিরাধীদলীয় নেতা। আমাকে যেতে দিন আমাকে যেতে হবে।’ জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে খালেদা জিয়া রবিবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে বাসা থেকে হেঁটে বের হওয়ার চেষ্টাকালে বাধা দেয়া হয় তাকে। এর আগে ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে বাসার দরজার সামনে গাড়িতে অবস্থান করছিলেন তিনি। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তার গাড়ি বের হতে না দেয়ায় তিনি হেঁটে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। বিকেল ৩টায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ব্যারিকেডের কাছে র্যাবের ঊর্ধ্বতন চার কর্মকর্তা প্রবেশ করেন। বিকেল ৩টা ১০ মিনিটের দিকে খালেদা জিয়া মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কোনো মিডিয়া কর্মীকে বাসার কাছে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি। বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মকর্তা কর্নেল (অব.) আবদুল মজিদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কথা কাটাকাটি হয়। এর আগে বেলা আড়াইটার পর বাসার ভেতর থেকে দরজার কাছে আসেন খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব এসএম সালেহ আহমেদ ও এপিএস সুরাতুজ্জামান।

এদিকে খালেদা জিয়ার বাসার সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। শনিবার রাতের পর রবিবার সকালে তার বাসার সামনে আরও যুক্ত করা হয়েছে তিনটি বালুভর্তি ট্রাক। রাতে সেখানে দু’টি বালুভর্তি ট্রাক ছিল।

খালেদা জিয়া কয়েকটি টেলিভিশনের ক্যামেরার সামনে বলেন, সরকারের যদি লজ্জা থাকে তাহলে অবিলম্বে তাদের বিদায় নেয়া উচিত। সরকারের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, আর কত লাশ চান, আর কত খুন করবেন। বিডিআর এর ঘটনায় নিহত অফিসারদের পরিবারের কান্না, নিহত আলেম ও এতিমদের কান্না, অসহায়দের কান্না বৃথা যাবে না। আপনাদের এজন্য কাঁদতে হবে। আপনারা যা করছেন, তাতে আল্লাহ’র গজব পড়বে। নারী নিরাপত্তাকর্মীকে উদ্দেশ করে খালেদা জিয়াকে বলেন, ‘এই যে মহিলা আপনি এখন কথা বলছেন না কেন। এতক্ষণ তো অনেক কথা বললেন। আপনার দেশ কোথায়? গোপালি? গোপালগঞ্জ জেলার নামই বদলে দেব। গোপালগঞ্জ আর থাকবে না।’

‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচিতে সরকারের বাধা দেয়ার তীব্র সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, পুলিশ দিয়ে, গুন্ডা লেলিয়ে আমাদের কর্মসূচি বানচাল করতে চায় সরকার। কিন্তু সরকারের সেই হীন চেষ্টা সফল হবে না, আমাদের আন্দোলন চলবে। তিনি বলেন, আমরা দেশ ও দেশের মানুষতে বাঁচাতে আন্দোলন করছি আর আপনারা ঘরে ঢুকে মানুষকে গুলি করে হত্যা করছেন। মনে রাখবেন আজ যারা অত্যাচার-নির্যাতন করছেন তাদের পরিবারের সদস্যদেরও কান্না করতে করতে চোখ অন্ধ হয়ে যাবে। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে বলেন, গণতন্ত্র সার্বভৌমত্ব ও দেশ রক্ষা করবেন, না গোলামি করবেন? খালেদা জিয়া বলেন, কোনো অন্যায় নির্দেশ তামিল করবেন না। চাকরি করেন ভালো কথা কিন্তু জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন না। তা না হলে এর জন্য একদিন জবাবদিহি করতে হবে। তিনি শেখ হাসিনার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, আজ আমার বাড়ির সামনে এত ফোর্স, এত প্রতিবন্ধকতা, এই ফোর্স তখন কোথায় ছিল, যখন ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে জীবন দিতে হলো। তখন কেন তাদের রক্ষায় এই ফোর্স পাঠালেন না। বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, পৃথিবীর কোনো স্বৈর সরকারই টিকে থাকতে পারেনি। এই সরকারও আজীবন র্যাব-পুলিশের ওপর ভর করে টিকে থাকতে পারবে না। এ সরকারের পতন হবেই। তিনি বলেন, সাহস থাকলে এসব বাদ দিয়ে জনগণকে নিয়ে এরকম একটি পাল্টা কর্মসূচি দিতেন। তখন দেখা যেতো- কেমন পারেন। ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’তে অংশ নিতে গিয়ে যারা হতাহত হয়েছেন তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান বেগম খালেদা জিয়া।

কর্তব্যরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আপনাদের মেয়েরা এত ঝগড়া করে কেন? বেয়াদব কোথাকার! আপনাদের অফিসার কোথায় গেল? বোঝেননি? এটা তো বাংলা ভাষা। আপনাদের সেই অফিসার কোথায়, যে আমার সঙ্গে কথা বলেছিল, তাকে ডাকেন। তাকে বলবেন আমার সঙ্গে যেন দেখা করে। আমি তার সঙ্গে কথা বলবো।’ এ কথা বলার পরই ফটকের ভেতরে ঢুকে যান খালেদা জিয়া। এ সময় তার হাতে ছিল জাতীয় পতাকা।

বাড়ির উল্টো দিকে অপেক্ষায় থাকা গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে অন্য হাত নেড়ে তিনি পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন। খালেদা জিয়ার প্রটোকলের পুলিশ প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে বলে বিএনপি নেতারা অভিযোগ করলেও সকাল থেকেই তাদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here