গুলি খেয়ে প্রেমের শুরু

14

Audrey premহরিণ মনে করে গুলি ছুড়েছিলেন ছেলেটি। লাগলো মেয়েটির পায়ে। ছেলেটিই তাঁকে নিয়ে গেলেন হাসপাতালে। এরপরই মন দেওয়া-নেওয়া। এখান থেকেই প্রেমের শুরু। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার লা ফেইয়াতে শহরে এই ‘মধুর’ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

‘ডেইলি মেইল’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাস দুয়েক আগে ২৪ বছর বয়সী তরুণী অবরি মায়ো ও ২৩ বছর বয়সী তরুণ মাথু ওয়েবের পরিচয় হয়। তাঁদের মধ্যে কোনো রোমান্টিক সম্পর্ক ছিল না।

গত ২১ নভেম্বর ছুটির দিনে ওয়েবের মায়ের বাসায় যান অবরি মায়ো। বিকেলে দুজন বাসার ছাদে উঠেছিলেন। হঠাত্ বাসার সামনে রাস্তার পাশে কিছু হরিণ দেখে শিকার করার সিদ্ধান্ত নেন ওয়েব। তিনি একটা এসকেএস রাইফেল নিয়ে নিচে নেমে যান। বেশ কিছুক্ষণ ওয়েবের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে অবরি মায়োও নেমে আসেন। তবে মায়ো যে নেমে এসেছেন, তা বুঝতে পারেননি ওয়েব। গাছের আড়ালে কিছু একটাকে নড়াচড়া করতে দেখে হরিণ মনে করে গুলি চালিয়ে দেন তিনি।

অবরি মায়োর বরাত দিয়ে টাইমস ফ্রি প্রেস জানায়, পায়ে গুলি লাগায় লুটিয়ে পড়েন মায়ো। ওয়েব আর্তনাদ শুনে ঝোপের কাছে গিয়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মায়োকে দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে গায়ের জ্যাকেট খুলে মায়োর পায়ে পেঁচিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যান।

মায়ো বুঝতে পারেন, দুর্ঘটনাবশতই ওয়েব তাঁর ওপর গুলি চালিয়েছেন। কদিনের মধ্যেই তাঁরা পরস্পরের প্রেমে পড়ে যান।

মায়ো মজা করে বলেন, ভালোবাসার স্মারক হিসেবে তিনি গুলিটি দিয়ে গলার লকেট বানাবেন। মায়োর ভগ্নিপতি জেসে গ্রির বলেছেন, ‘প্রেমের দেবতা কিউপিড এখন আর ধনুক থেকে কাম শর ছোড়ে না। এসকেএস রাইফেল থেকে গুলি ছোড়ে।’

পুলিশ কর্মকর্তা স্টাসি মিকস ‘ডেইলি মেইল’কে জানান, এই দুর্ঘটনায় আহত মায়োর প্রচুর পরিমাণ রক্তক্ষরণ হয়েছে। চিকিত্সকেরা বলেছেন, ক্ষত স্থানে সংক্রমণ হলে মায়োর পা কেটে ফেলতে হতে পারে। ঘটনাটি ঘটার পর ওয়েবকে আইনি জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। রাস্তার ১৫০ গজের মধ্যে গুলি চালানোর কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল জর্জিয়া পুলিশ। জর্জিয়ার প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগ আইন ভেঙে হরিণ শিকার করার দায়ে ওয়েবের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। আইন অনুযায়ী শিকারের সময় কমলা রঙের পোশাক পরার নিয়ম রয়েছে, যা মায়ো এবং ওয়েব কেউ মানেননি।

মায়ো মারাত্মক আহত হওয়ার পরও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ওয়েবের ওপর বিন্দুমাত্র বিরক্ত নন। তাঁরা জানেন, ওয়েব না বুঝে গুলি চালিয়েছিলেন। মায়ো বেঁচে যাওয়ায় তাঁরা অত্যন্ত খুশি। মায়ো ও ওয়েবের প্রেমের প্রতি তাঁদের রয়েছে শুভকামনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here