গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন

18

goromপ্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। গরম বাতাস শরীরে লাগছে আগুনের হলকার মতো। ঘরে-বাইরে কোথাও স্বস্তি নেই এতটুকু। শিশু ও বৃদ্ধরা গরমে কাবু হয়ে পড়েছে সবচেয়ে বেশি। কর্মজীবী মানুষ বাইরে বের হলেই অতিরিক্ত ঘামে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। ক্লান্তি দূর করতে কেউ পান করছেন ডাবের পানি, কেউবা খাচ্ছেন শসা, ক্ষীরা। তারপরও স্বস্তি মিলছে না।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে গেছে। পাশাপাশি বেড়েছে সূর্যের তাপ। এছাড়া আকাশে নেই কোনো মেঘের বলয়। এই গরম আরো কয়েকদিন থাকবে—এমনই পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্তব্যরত আবহাওয়া পূর্বাভাস কর্মকর্তা (ডিএফও) আব্দুর রহমান গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ‘গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার এ সময়ে তাপমাত্রা বেশি। গত বছর আজকের দিনে (১৯ এপ্রিল) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর এবার রাঙামাটিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।’ তিনি বলেন, ‘ঢাকার তাপমাত্রাও গত বছরের তুলনায় এবার বেশি। গত বছর এ সময় ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এবার ৩৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ জন্যই এত গরম।’

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানায়, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তাপমাত্রাও গতবারের চেয়ে বেশি। এরমধ্যে গতকাল ফরিদপুরে ৩৭ দশমিক ২, সন্দীপে ৩৬ দশমিক ৬, সিলেটে ৩৬ দশমিক ৬, টাঙাইলে ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। গতকাল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল দিনাজপুরে—৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তিনি বলেন, তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মৃদু ধরনের তাপপ্রবাহ, ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ ও ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তীব্র তাপপ্রবাহ হবে। এই হিসেবে দেশে বর্তমানে মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার তাপপ্রবাহ বইছে।

আবহাওয়া পূর্বাভাস কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রতি বছর এপ্রিলের এই সময়ে মাঝে মাঝে বৃষ্টি হয়; কিন্তু এবার বৃষ্টি হচ্ছে না। আমাদের কাছে আবহাওয়ার যে পূর্বাভাস আছে, তাতে আগামী তিন-চারদিনের মধ্যে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে বৃষ্টি হলেই গরম কমে যাবে।’

গরমের হাত থেকে স্বস্তি পেতে রাজধানীর মানুষ ঝুঁকছে বিভিন্ন কোমল পানীয় এবং শরবতের দিকে। ডাব ছাড়াও ফুটপাতে বিক্রি হওয়া নানা ধরনের শরবত, শসা ও ঠাণ্ডা পানীয় পান করছে।

কারওয়ান বাজারের ফল ব্যবসায়ী আমজাদ জানান, গরম বেড়ে যাওয়ায় ডাব, আনারস, তরমুজ, শসা, বাঙ্গি, বেলসহ বিভিন্ন ফল বেশি বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, কয়েক দিন ধরে ডাবের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। চাহিদামত ডাব সরবরাহ করতে পারছি না। খুচরা বাজারে ৩০ টাকার কমে কোন ডাবই নেই।

এদিকে অতিরিক্ত গরমের কারণে সর্দি-কাশি, জ্বর, ডায়রিয়া হচ্ছে। এমন অবস্থা যে, ঘরে ঘরে জ্বরের রোগী পাওয়া যাচ্ছে। এক্ষেত্রে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। প্রতিদিনই হাসপাতালগুলোতে পানিবাহিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

প্রচণ্ড এই গরমে সবাইকে প্রচুর পানি ও খাওয়ার স্যালাইন পানের পরামর্শ দিয়ে চিকিত্সকরা বলেছেন, ঘরের পরিবেশ যতটা সম্ভব ঠাণ্ডা রাখা গেলে ডায়রিয়া ও শ্বাসজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কম থাকবে। এছাড়া গরমে শিশুদের বেশ সাবধানে রাখতে হবে। রোদে যাতে বেশি ঘোরাঘুরি না করে তা দেখতে হবে। ঘেমে গেলে শরীর মুছে দিতে হবে। অধিক ঠাণ্ডা পানির পরিবর্তে স্বাভাবিক তাপমাত্রার অথবা হালকা ঠাণ্ডা পানি পান করতে হবে। পাশাপাশি সুতির হালকা কাপড় পরতে হবে। গরমে বাইরের খাবার খাওয়া একেবারেই উচিত নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here