গণজাগরণ মঞ্চের মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ ইমরানসহ আহত ২০

29

image_94721গণজাগরণ মঞ্চের ঢাকাস্থ পাকিস্তান হাই কমিশন ঘেরাও কর্মসূচিতে ফের বাধা এবং লাঠিপেটা করেছে পুলিশ। লাঠিপেটা ও ধস্তাধস্তিতে মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকারসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ তিন দফায় নয় জনকে আটক করলেও রাতে পাঁচ জনকে ছেড়ে দিয়েছে। আটক রয়েছেন চারজন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজসহ রাজধানীর কয়েকটি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন অন্তত ছয় জন। এদিকে হামলার প্রতিবাদে আজ শুক্রবার বিকালে শাহবাগে সমাবেশ ও মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করেছে গণজাগরণ মঞ্চ।

গতকাল বিকালে গুলশান ২ নম্বর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের পর পাকিস্তানের সংসদে শোক প্রস্তাব গৃহীত ও কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণের প্রতিবাদে নামা গণজাগরণ মঞ্চের মিছিলে বুধবার পুলিশ বাঁধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন এবং হামলার সাথে জড়িত পুলিশ সদস্যদের শাস্তির দাবি জানিয়ে ২০ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিল মঞ্চ।

সময়সীমা শেষ হওয়ার পর বিকাল তিনটার দিকে গুলশান ২ নম্বর গোলচত্বরের পুলিশ বক্সের কাছ থেকে স্লোগানসহ মিছিল শুরু করেন কয়েকশ’ নেতা-কর্মী। পুলিশ মিছিলটিকে ঘিরে রাখলে তাহের টাওয়ারের নিচে তারা অবস্থান নেন। সেখানে পুলিশ সদস্যরা তাদের সরে যেতে বললে এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তি হয়। পুলিশ বর্ম দিয়ে ধাক্কা দিয়ে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।

একপর্যায়ে মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার ও নারী নেত্রী খুশি কবিরকে আটকের চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তি তীব্র হয়। এতে পুলিশ ঐ দুইজনকে ছেড়ে দিলেও লাঠিপেটা করে আন্দোলনরতদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সেখান থেকে মঞ্চের কর্মী রওশন আরা নিপা, অরণ্য আজাদ (অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদের ছেলে), মাহমুদুল হাসানকে আটক করা হয়। পুলিশের লাঠিপেটায় আহত হন মঞ্চের নেতা মাহমুদুল হক মুন্সী বাঁধন, আরিফ নূর, ছাত্র মৈত্রীর সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সোহান সোবহানসহ সাতজন। মাহমুদুল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং আরিফ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন।

ইমরান এইচ সরকার আবার কর্মীদের জড়ো করে তাহের টাওয়ারের নিচে কর্মসূচি ঘোষণার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় পুলিশের লাঠিপেটায় ইমরান, মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ বীরপ্রতীক, যুব মৈত্রী নেতা খান আসাদুজ্জামান মাসুম, উন্মেষ রায়, সজল রায়, শুভসহ দশ জন গুরুতর আহত হন। পুলিশ শিপ্রা বোস, সাদিয়া সুলতানা লোপাসহ কয়েকজনকে আটক করে। ছত্রভঙ্গ হয়ে ঐ এলাকা ত্যাগ করেন তারা।

আহত আবুল কালাম ও ইমরানকে প্রথমে ল্যাব এইড হাসপাতালে নেয়া হলেও সেখানে জরুরি চিকিত্সা সুবিধা না থাকায় পরে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঐ হাসপাতালে আরো ছয় জন চিকিত্সা নিয়েছেন।

পরে কর্মীরা ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে শুরু করলে সেখানেও বাধা দেয় পুলিশ। এ সময় মঞ্চের কর্মী শাম্মী আক্তারসহ দুই জনকে আটক করা হয়।

হাসপাতালে যাওয়ার আগে ইমরান এইচ সরকার বলেন, ‘পুলিশ বিনা উস্কানিতে আমাদের মিছিলে হামলা চালিয়ে অনেক কর্মীকে আহত করেছে। আহতদের মধ্যে নারীকর্মীও রয়েছে। এটা ন্যাক্কারজনক। স্বাধীন বাংলাদেশে এ রকম আচরণ মেনে নেয়া যায় না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী কোনো মানুষ এভাবে হামলা করতে পারে না।’

ইমরান বলেন, সরকার যতক্ষণ পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন না করবে, কিংবা পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা না চাইবে- ততোক্ষণ আমাদের অহিংস কর্মসূচি চলবে। যতোই হামলা হোক, আমরা পেছাবো না। নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ মঞ্চের কর্মীদের উপর শুধু হামলাই করেনি, তাদের সাথে অসদাচরণও করেছে।

গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক মারুফ রসূল ইত্তেফাককে জানান, ইমরানের মাথা ও দুই হাতে গুরুতর জখম হয়েছে। পুলিশের হামলার প্রতিবাদে ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে আজ শুক্রবার বিকাল তিনটায় রাজধানীর শাহবাগে সমাবেশ এবং প্রতিবাদী মিছিল করবে মঞ্চ। পুলিশের হামলায় অন্তত ৫০ জন আহত এবং ২০-২৫ জনকে আটক করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

ডিএমপির ক্রাইম এন্ড অপারেশনস বিভাগের কর্মকর্তা মো. শাহাবুদ্দিন খান বলেন, মিছিলে পুলিশ হামলা করেনি। তাদের সরিয়ে দেয়া হয়েছে মাত্র। তবে ‘ভিড় ঠেলতে গিয়ে ও ঝামেলার মধ্যে অসাবধানতাবশত’ কিছু হয়ে থাকতে পারে।

পুলিশের গুলশান জোনের উপকমিশনার (ডিসি) লুত্ফুল কবির বলেন, ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী কূটনৈতিক এলাকায় এভাবে বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ করা যায় না। মিছিল পাকিস্তান হাইকমিশনের দিকে অগ্রসর হয়। সেখানে কয়েকটি দেশেরও দূতাবাস রয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের মিছিলকে এগুতে দেয়নি পুলিশ। মিছিলকারী কয়েকজনের উপর ‘মৃদু লাঠিচার্জ’ করা হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।

তিনি জানান, চার-পাঁচ জনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দোষী প্রমাণিত না হলে তাদের ছেড়ে দেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here